পাঁচ মাসে সাপের দংশনে ৩৮ মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে গত ১ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ৬১০ জন সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া সাপ নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে দেশে সর্প দংশনের সাম্প্রতিক চিত্র নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক  অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

ডা. রোবেদ জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৪১৬ জন সাপে দংশনে ভর্তি হন। বিষধর সাপের দংশনে ব্যক্তি ছিলেন ৭৩ জন; তাদের মধ্যে ১৮ জন চন্দ্রবোড়া সাপে দংশনে ব্যক্তি ছিলেন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান ১১ জন। চন্দ্রবোড়ার দংশনে মারা যান পাঁচজন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে রাসেলস ভাইপার নিয়ে সারাদেশে বিভিন্ন তত্ত্ব, তথ্য গুজবে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাংলাদেশে সর্প দংশন একটি স্বীকৃত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। ২০২২ সালে পরিচালিত জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৪ লাখের বেশি মানুষ সর্প দংশনের শিকার হন। এর মধ্যে মারা যান প্রায় সাড়ে ৭ হাজার মানুষ। দেশে থাকা প্রধান বিষধর সাপের মধ্যে গোখরা, ক্রেইট (কালাচ), চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপার ও সবুজ সাপ অন্যতম। কিছু সামুদ্রিক সাপের দংশনের তথ্যও আছে।

চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপার ভাইপারিড গ্রুপের একটি বিষাক্ত সাপ। দেশে চন্দ্রবোড়ার অস্তিত্ব এবং এর দংশনে মৃত্যুর ইতিহাস ১৯২০ সালেই স্বীকৃত আছে। ২০১৩ সালে রামেকে হাসপাতালে চন্দ্রবোড়া দংশনের প্রথম রিপোর্ট লিপিবদ্ধ আছে। প্রাথমিকভাবে রাজশাহী ও বরেন্দ্র অঞ্চলে এর প্রভাব বেশি দেখা গেলেও পরে ধীরে ধীরে চন্দ্রবোড়ার বিস্তৃতি ২৭টি জেলায় ছড়িয়েছে। 

ডা. রোবেদ জানান,  বিষধর সর্প দংশনের স্বীকৃত চিকিৎসা হচ্ছে অ্যান্টিভেনম। সাধারণত বিষধর সাপের বিষ সংগ্রহ করে তা ঘোড়ার শরীরে প্রয়োগ করা, ঘোড়ার রক্তের সিরাম থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়। তবে বাংলাদেশে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয় না। ভারতে তৈরি (চারটি প্রধান বিষধর সাপের বিষয়ে বিরুদ্ধে প্রস্তুত) অ্যান্টিভেনম সংগ্রহ করে অসংক্রামক ব্যাধি কর্মসূচি বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে তা সরবারহ করে। অ্যান্টিভেনম ক্রয়, বিতরণ, সংরক্ষণ, ব্যবহার ও পরবর্তী প্রভাব দেখার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও এর প্রয়োগের সুফল লক্ষণীয়।

সর্প দংশন বিষয়ে জাতীয় ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা প্রণয়নসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ নিয়ে বিভিন্ন কাজ করছে বলেও জানানো হয়। ডা. রোবেদ জানান, দেশে সর্প দংশন রোধের কর্মকৌশল ও অর্থের ব্যবস্থাসহ সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা (২০২৩-২০২৮) তৈরি করা হয়েছে। সর্প দংশন প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০৩০ সাল নাগাদ শতকরা ৫০ ভাগ মৃত্যু এবং অক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যে এই কর্মকৌশল সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রাখবে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //