করোনাকালের ঈদ : ঘর সাজান নিজে সাজুন

ভালো নেই পৃথিবী, ভালো নেই পৃথিবী মায়ের সন্তান। করোনার থাবায় বিপর্যস্ত জনজীবনের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। তবু বছর ঘুরে আসছে ঈদ। এযে প্রাণের উৎসব, তাই এতকিছুর পরও বছরের এই একটা দিন ঘিরে একটু আয়োজন না করলেই নয়। ভাবছেন বুঝি চারদিকে এত হাহাকার, দুঃখ, কষ্ট, লকডাউন এর ভেতরে উৎসব আয়োজন! এও বুঝি সম্ভব! এমন পারা যায় বুঝি? বলছি শুনুন, হ্যাঁ আমাদের পারতে হবে। না হলে আমরা যারা এখনো সুস্থ আছি, চারদিকের এই দমবন্ধ করা পরিবেশ, যন্ত্রণাবোধ, গ্লানি জমে জমে আমাদের মানসিকভাবে অসুস্থ করে তুলবে তাই চেষ্টা থাকতে হবে নিজের সাধ এবং সাধ্যের মধ্যেই নিজেকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখার এবং রোজকার হতাশা থেকে বের করে নিজেকে ভালো রাখবার। আর নিজেকে ভালো রাখবার জন্যেই এই করেনাকালীন ঈদে ঘরে থেকেই ঘর সাজাই, নিজে সাজি দেখবেন মন ভালো হয়ে গেছে। একটা ঝলমলে করোনামুক্ত পৃথিবীর জন্য নিজের ভেতরের শক্তিকে জ্বালিয়ে রাখতে হবে তো, তাই না বলুন? 


তো কেমন করে সাজবে আমার ঘর? খুব সোজা উত্তর দেশীয় উপকরণে। একদমই তাই। বাইরে না গিয়ে খুব সহজেই পাওয়া যাবে কিংবা ঘরেই রয়েছে এমন উপকরণ দিয়ে সরল সজ্জায়, নন্দনে এবং নান্দনিকতায়। ঠিক যেমন আমাদের মন চায় তেমনি করে নিত্যদিনের ঘরকে ভালোবেসে নতুন করে খুব সহজেই সাজিয়ে নিতে পারি কেবল ঈদ বা উৎসব বলে নয় নিজেদের প্রফুল্ল রাখতেই। ঘর সাজবে সকলের পছন্দ, রুচিবোধ অনুযায়ী ছিমছাম পরিপাটি যেন চোখ রাখলেই মন ভালো হয়ে যায় সকলে। 

করোনায় আক্রান্ত হবার পরে নতুন করে যেন আমরা সবুজের অভাব বোধ করছি। একটু অক্সিজেন খুঁজে ফিরছি। করোনা আবহে একটু সবুজ ও অক্সিজেনময় করে সাজিয়ে তুলতে পারেন আপনার প্রিয় ঘরখানি।


ইনডোর প্ল্যান্টস শুধু দেখতে সুন্দর লাগে, তা নয় একই সঙ্গে এই গাছপালা ঘরের ভিতরের ক্ষতিকারক গ্যাস এবং দূষিত পদার্থের হাত থেকে আমাদের সুরক্ষিত রাখে। তাছাড়া, পরিবেশ সুন্দর রাখতে গাছের ভূমিকার কথা আমরা সবাই জানি।

গাছের সবুজ রঙ চোখের জন্য বেশ উপকারী। ঘরের কোণায় বা কাজের টেবিলে একটি ছোট গাছের টব ঘরের শোভা বাড়ায়। তাছাড়া ঘরে গাছ থাকলে মন শান্ত থাকে, কমে যায় দুশ্চিন্তাও। পরিবেশ ও মন-দুটিই ভালো রাখে গাছ। 


বাড়ির প্রবেশদ্বারের পাশের দেয়ালটি প্রায়শই খালি পড়ে থাকতে দেখা যায় প্রায় সব বাড়িতেই। অথচ এই করোনার সময়ে জায়গাটিতে বাইরের কাপড়, বেল্ট, স্কার্ফ, মাস্ক ইত্যাদি ঝোলানোর জন্য হুকযুক্ত স্ট্যান্ড বা কতগুলো লতানো গাছ বসিয়ে দিলে যেমন করোনা থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা হবে তেমনি অন্দর সজ্জায়ও আসবে পরিবর্তন। এ ছাড়া নিচে বাইরের জুতা রাখার ব্যবস্থা রেখে একটি ছোট্ট তাকে বাইরে বের হবার সময়ের অতি প্রয়োজনীয় মাস্ক, স্যানিটাইজার, ছাতা ইত্যাদি রাখা যায়। ক’দিন পরেই আসবে বর্ষা তখন বৃষ্টি ভেজা ছাতা বা রেইনকোট রাখার জন্যও এই কোণাটি কাজে লাগানো যাবে।


সোফা সেট, টিভি, বুক শেলফ, শোকেস ইত্যাদি রাখার পর বসার ঘরটি কেমন যেন উদাসীর মতো তাকিয়ে থাকে। পলিশ করা কঞ্চি দিয়ে বানানো একটি ছোট লম্বা ফ্রেম তৈরি করে এতে একটি মানি প্ল্যান্ট তুলে দিলে একদম অন্য রকম একটা আবহ আসবে ঘরে। তাছাড়া অনায়াসেই ট্রি পড স্ট্যান্ডে বা বহুতল ধাতব লম্বা র‌্যাকে নজরকাড়া সব বনসাই বা অন্য রকম হাউসপ্ল্যান্ট রাখতে পারেন। বেশ অন্যরকম দেখতে মাদার-ইন-লস টাঙ গাছটি ইদানিং ইন্টিরিয়ার ডিজাইনারদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ঘরের কোণে অল্প সরু জায়গাতেই রাখা যায়। লম্বা কালচে সবুজ পাতার দুই পাশে টানা হলুদ দাগ। গাছটির আরেকটি বিশেষত্ব অক্সিজেনের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়। বাজারে খুব বেশি দাম না। ঘৃতকুমারির মতোই পাশ দিয়ে চারা বের হয় এই গাছের। বুক শেলফের পাশে বা একটি কোণে রাখুন সুগন্ধি মোমবাতি। ঈদ উপলক্ষে বা লোডশেডিংয়ের সময়ও ঘরের একটি কোণে সুন্দর করে সাজানো সুগন্ধি মোমবাতির আলোয় মন ভরে উঠবে সবারই। অ্যাকুয়ারিয়াম রাখতে পারেন, যা ঘরের এক কোণে রাখলে খুবই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লাগবে দেখতে। এমনকি ইনডোর ছোট টবের মতো জলাশয়ে জলজ উদ্ভিদ রেখে তা দিয়েও ঘরের মধ্যে সাজাতে পারেন।

বসার ঘরের বারান্দায় রাখতে পারেন রাবার গাছ অন্যান্য গাছের তুলনায় এই গাছের আকার বেশ বড়। তাই বারান্দায় বেশ সুন্দর লাগে এই গাছ। দেখভাল করাও সহজ। দামও খুব বেশি না। ঘরের অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে এই গাছ। কালচে সবুজ পাতার এই গাছ আপনার গৃহসজ্জায় মূল আকর্ষণ হতে পারে।


এ ছাড়াও আরো অনেক গাছ আছে যেগুলো ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়। যেমন চায়নিজ এভারগ্রিন, পিস লিলি, স্পাইডার প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট বা সর্প গাছ, ব্যাম্বু পাম, কয়েন প্ল্যান্ট। বারান্দায় রাখা যেতে চন্দ্রমল্লিকা, হাসনাহেনা, নয়নতারা, কাঠবেলি ইত্যাদি।

শোবার ঘরকে সাজাতে প্রায়ই মনযোগ দেই না আমরা; কিন্তু শোবার ঘরকেও দিন প্রকৃতির ছোঁয়া ও ভিন্নতা। বই পড়ার অভ্যাস থাকলে শোবার ঘরের এক কোণে একটি ছোট আরামদায়ক সোফা বা আর্মচেয়ার রাখা যায়। সঙ্গে শেডযুক্ত টেবিল ল্যাম্প থাকলে ঘরের ঘুমিয়ে থাকা সঙ্গীদের কষ্ট হবে না রাত জেগে আরেকজন বই পড়লে। এই কোণার জায়গাটি লেখালেখি বা কম্পিউটারে কাজ করার জন্যও ব্যবহার করা যায় মাপমতো ডেস্ক বসিয়ে। টেবিল ল্যাম্পের পাশে ও ডেস্কে রাখতে পারেন স্পাইডার প্লান্ট, ইংলিশ আইভী। মাটির সরাচিত্র, সুন্দর পেইন্টিং রাখতে পারেন মাথার দিকের দেয়ালে। সাইট টেবিল থাকলে সেখানে মাটির পুতুলের সঙ্গে রাখতে পারেন লাকি ব্যাম্বোর গাছ। শোবার ঘরের জানালায় ইচ্ছে হলে ঝুলন্ত টব রাখতে পারেন আপনি। জানালার গ্রিল থাকলে সেখানে কিছু লতানো গাছকেও জড়িয়ে রাখতে পারবেন। এতে করে প্রচণ্ড গরমেও আপনার ঘরটি থাকবে বেশ শীতল। ঘরে সহজেই বেড়ে ওঠার মতো আরেকটি আকর্ষণীয় গাছ হচ্ছে গোল্ডেন পথোস। সবুজ রঙা হৃদয়াকৃতি পাতার মাঝে হালকা সোনালি রঙের মিশেল ঘরে নিয়ে আসে এক শান্তির পরশ। টব কিংবা ফুলদানি থেকে নিচের দিকে দুলতে থাকা লতাগুলো সবার নজর কাড়ে। পরিচর্যার বাড়তি ঝামেলাহীন এই গাছটি ঘরের বাতাসকেও দূষণমুক্ত করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ঘরের কোণায় ৪-৫ ফুট লম্বা গাছও রাখতে পারেন। শোবার ঘরে সবচাইতে কম খরচে মানিপ্ল্যান্ট গাছ মাটিতে লাগাতে পারেন আপনি। মানিপ্ল্যান্ট গাছ যেমন পানিতে ভিজিয়ে রাখা যায়, তেমনি মাটিতেও লাগানো যায়। আর সূর্যের আলো দরকার না হওয়ায় এর যত্নও করতে হয় কম। যদি আপনি খুব শৌখিন হয়ে থাকেন, তাহলে মাটির চাড়িতে কচুরিপানা এবং শাপলার মতো গাছগুলোও লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে করে শুধু যে আপনার ঘর দেখতে সুন্দর লাগবে তাই নয়, একইসঙ্গে চোখ আর মন দুটিরই আরাম পাবেন আপনি। ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে ব্যাম্বু পাম গাছের ব্যবহার সচরাচর দেখা যায়। এই গাছের বেড়ে ওঠার জন্য দরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি এবং ছায়া। সাধারণত মৃদু তাপমাত্রায় এই গাছটি বেড়ে ওঠে। ছায়াঘেরা বাগান কিংবা ঘরের কোনো অবিশিষ্ট কোণা গাছটির জন্য বিশেষ উপযোগী। নির্বিষ এই গাছটি আপনার ঘরের বাচ্চা কিংবা পশুপাখির কোনো ক্ষতির কারণ হবে না বরং আপনার ঘরে এনে দিবে বাড়তি সৌন্দর্য।


বারান্দায় রোদ্দুর, আরাম কেদারা, আর রঙিন ফুলগাছ মন ফুরফুরে হতে আর কী লাগে? বারান্দা সাজাতে ফুলগাছের জুড়ি নেই। যদি থাকে বারোমাসি ফুলগাছ, তাহলে তো কথাই নেই! ফুলে ফুলে ভরে যাক বারান্দা। গাছের ফোটা ফুলেই হয়ে যাবে বারান্দার সাজ। প্রায় সব ধরনের ছোট ও মাঝারি ফুলগাছ বারান্দার টবে লাগাতে পারবেন। বারান্দা ছোট হলে সিলিং থেকে ঝুলিয়ে দিতে পারেন দূর্বা কিংবা পুর্তলিকার ছোট্ট টব। রেলিংয়ের সঙ্গে গাছ রাখার জন্য রাখতে পারেন র‌্যাক। সেখানে ফুলের গাছ সারি বেঁধে রাখতে পারবেন কিংবা বারান্দার এক কোণে বানাতে পারেন ছোট্ট র‌্যাক। সেখানে বিভিন্ন লেয়ারে গাছ রাখতে পারেন। আবার এক কোণে ছোট, মাঝারি, বড় তিন লেয়ারে গাছ দিয়েও সাজাতে পারেন। যেমন প্রথমে নিচে থাকতে পারে ছোট বেলি, নয়নতারা, সন্ধ্যামালতী। মাঝারি লেয়ারে রাখতে পারেন গোলাপ, কামিনী কিংবা টগর। মাটি থেকে দ্বিতীয় লেয়ারের উচ্চতা হবে দুই থেকে আড়াই ফুট। আর সবার ওপরের লেয়ারে রাখতে পারেন ঝুমকো জবা, মাধবীলতা কিংবা বাগানবিলাসের ছোট ঝাড়।


খাবার ঘরে একটু বাড়তি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চিন্তা সবার মাথাতেই থাকে। সেজন্যই ডাইনিং টেবিল বা ফ্রিজের ওপরে কয়েকটি ক্যাকটাস গাছ লাগিয়ে নিতে পারেন আপনি। মাটি থেকে যেন ধুলো না ছড়ায় সেটা নিশ্চিত করতে স্নেকপ্ল্যান্ট বা পানিতে বাঁচে এমন গাছও রাখতে পারেন। রান্না ঘরে হার্ব জাতীয় গাছ রাখাই ভালো। রান্নার সময়ে দরকার মতো তা ব্যবহারও করতে পারবেন। অ্যালোভেরা গাছ রাখতে পারেন জানালায়। সকালে অ্যালোভেরার জুসেরও জোগান দেবে। ঘরোয়া উপকরণ দিয়ে রূপচর্চার সময়েও হাতের কাছে পাবেন। ছোট ট্রে বা পাত্রে লাগিয়ে ফেলুন মাইক্রোগ্রিনস। একটু বাড়লে তা নিয়ে আসতে পারেন ডাইনিং টেবিলে। সবুজের ছোঁয়া থাকবে আবার কাজেও লাগবে।


বেড রুম-ড্রয়িং রুম তো দিব্যি গাছপালা দিয়ে সাজালেন। এমনকি রান্না ঘরেও রয়েছে সবুজের ছোঁয়া। তাহলে বাথরুম কেন বাদ যাবে? অন্দরসজ্জায় গাছের ব্যবহার রূপ বদলে দেয়। বাথরুমে কিছু গাছ তো এয়ার পিউরিফায়ারেরও কাজ করে। সেগুলো বাথরুমে থাকলে তো আরও ভালো! তবে বাথরুমে কোন কোন গাছ লাগাতে পারেন, বা গাছ লাগানোর জন্য কী কী প্রয়োজন? হট ওয়াটার শাওয়ারের জন্য বাথরুম বেশ আর্দ্র হয়ে যায় এবং তাপমাত্রাও অনেকটাই বেড়ে যায়। যার ফলে বহু গাছই সেখানে বাড়তে পারে না। তাই কিছু ট্রপিক্যাল গাছ বাথরুমের জন্য ভালো। বাথরুমে একটু ফুলের সাজ দিতে চান অথবা সবুজ ছাড়াও অন্য রঙের ছোঁয়া আনতে চান? তা হলে অর্কিড কিন্তু ভালো অপশন।

পিস লিলি খুবই সুন্দর আর বাথরুমে দারুণ একটা সবুজের ছোঁয়া এনে দেবে। আর খুবই উপকার কারণ এর পাতা এয়ার ফিল্টার হিসেবে কাজ করে। আর আপনি যতœ করলে ফুলও ফুটবে। কম আলো আর ভিজে মাটি ফুল ফোটার জন্য আদর্শ। আর কম আলোর বাথরুম এই গাছের জন্য উপযুক্ত। ভিজে স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এই ধরুন, কুয়োর পাড়ে অথবা পুকুর পাড়ে, আগেকার দিনের বাড়ির বাইরের পুরনো বাথরুমের ধারে নিশ্চয়ই ফার্ন গাছ গজাতে দেখেছেন। তা হলে আপনার ঘরের সুন্দর বাথরুমে ফার্ন হবে না কেন! আসলে ফার্ন গাছের জন্য কম আলো আর প্রচণ্ড আর্দ্র আবহাওয়া আদর্শ। আপনার শাওয়ারের আশপাশে সাজিয়ে রাখতে পারেন।

করোনাকে মাথায় রেখে ঘর তো সাজালেন নিজেকে সাজাবেন কীভাবে। করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এবারও সারা দিন ঘরেই থাকতে হবে সবাইকে। তাছাড়া গরমের তীব্রতা তো আছেই। তাই ঈদের সকালে হালকা রঙের সুতি পোশাক পরার চেষ্টা করুন। হালকা সবুজ, লেমন, সাদা, চাঁপাসাদা, আকাশি রঙগুলো বেছে নিতে পারেন সকাল থেকে দুপুরের সাজের জন্যে। বিকেলের দিকে বেছে নিতে পারেন কয়েকশেড গাঢ় রঙের সালোয়ার কামিজ, টপ বা শাড়ি।

ঈদে নতুন পোশাক না থাকলেও তুলে রাখা অনেক সুন্দর সুন্দর পোশাক নিশ্চয়ই রয়েছে? সেখান থেকে পছন্দের পোশাকটি পরতে পারেন। শাড়ি পরলে খোঁপায় গুঁজতে পারেন তাজা কোনো ফুল। চোখে হালকা কাজল, ঠোঁটে মানানসই হালকা রঙের কোনো লিপস্টিক বা লিপগ্লস পরতে পারেন। ম্যাচিং করে হালকা গয়নাও পরা যায়। সব মিলিয়ে হালকা সাজেই স্নিগ্ধ থাকুন। যদি বাইরে যেতেই হয় নীল রঙের পাশাপাশি হলুদ কমলার মতো একটু উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরুন দেখবেন মন এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে। এই সময়ে গহনা ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য নজর দিন সাজে। মুখের অনেকটাই ঢাকা থাকে মাস্কে তারপরও বেরোনোর আগে ত্বক ভালোভাবে ময়েশ্চরাইজার মেখে নিন। হালকা ফাউন্ডেশন ও পাউডার বুলিয়ে দিন। 

এবার ব্রাউন শেডের লিপস্টিক আর চোখের পাতার ওপরে বাইরের কোণ থেকে, ভ্রুর দিকে ব্রাশ দিয়ে হালকা রঙের আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন, চোখের নিচে টেনে কাজল দিন। মাশকারা লাগিয়ে নিয়ে চোখের সাজ শেষ করুন। কপালে একটা ছোট টিপ পড়তে পারেন।

করোনার নিয়ে দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। আর নিজের বিষেয়ে সচেতন হয়ে উঠুন। মাস্ক পরতে হয়, তাই চুলটা খোলা রাখবেন না। পেছনে টানটান করে বেঁধে নেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। অবশ্যই হাত সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে তারপর মুখে দেবেন। সুন্দর দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের সুস্থতাও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য অবশ্যই ভালো ব্র্যান্ডের মেকআপ ব্যবহার করুন। মেয়াদ না থাকলে সেই পণ্য ব্যবহার করতে যাবেন না। বাড়িতে ফিরে চোখের মেকআপ তুলে নিন। 

করোনাকালের এই ঈদে বাড়িতে অতিথি আসার সম্ভাবনা কম। আপনারও বাইরে কারও বাড়িতে যাওয়া হয়তো হবে না। তাই রাতটা হোক আপনার প্রিয়জনদের জন্য না হয় নিজের জন্যই একটু সাজলেন! এই প্যানডামিক সময়ে তা হয়ে উঠতে পারে আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য একটু অন্যরকম কিছু। রাতের বেলা গাঢ় রঙের কোনো পোশাক বেছে নিতে পারেন। তবে ভারী মেকআপের কোনো প্রয়োজন নেই। সকালের মতোই হালকা মেকআপ আর সাজ বজায় রাখুন। শুধু পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিক বেছে নিতে পারেন। রাতের সাজে চোখের সাজটা একটু গাঢ় করতে পারেন। দেখতে বেশ ভালো লাগবে। চোখে গাঢ় করে মাসকারা ব্যাবহার করতে পারেন। পাশাপাশি দিন আইলাইনার আর কাজলও। চুল বাঁধার ধরনেও আনতে পারেন নতুনত্ব। ঈদের আগের রাতে হাত ভরে মনের মতো নকশায় এঁকে নিতে পারেন মেহেদির রঙ। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নখ রাঙাতে পারেন নেইলপলিশে। বাড়িতে বসে নিজেই করে নিতে পারেন পেডিকিওর, মেনিকিওর। মুখের যত্ন করতে পারেন ফেসিয়াল। এই মন খারাপের ঈদে একটু, স্বাচ্ছন্দ্য, প্রাণবন্ত থাকার চেষ্টা করতে তো ক্ষতি নেই বলুন!


মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh