সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার আদেশ ১৯ জানুয়ারি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে মানহানির বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের নামে দুটি মামলার আদেশ দেওয়ার জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে আজ মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। একটি মামলার বাদীর নাম কাজী আনিসুর রহমান। অপর মামলাটির বাদী অ্যাডভোকেট মো. সারওয়ার আলম।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিপন মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মামলায় দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচারক বাদীর জবানবন্দি শুনে আগামী ১৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।’

এর আগে গত শনিবার রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকায় কদম ফোয়ারার সামনে ডিএসসিসির দোকান উচ্ছেদের প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে সাঈদ খোকন বলেছিলেন, ‘তাপস মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গলাবাজি করে চলেছেন। আমি তাকে বলব, রাঘব বোয়ালের মুখে চুনোপুটির গল্প মানায় না। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে হলে সর্বপ্রথম নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত করুন, তারপর চুনোপুটির দিকে দৃষ্টি দিন।’

সাবেক এই মেয়র আরো বলেন, ‘তাপস দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তার নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তরিত করেছেন এবং এই শত শত কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লাভ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং করছেন। অপরদিকে, অর্থের অভাবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গরিব কর্মচারীরা মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মেয়র তাপস সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯, ২য় ভাগের ২য় অধ্যায়ের অনুচ্ছেদ ৯ (২) (জ) অনুযায়ী মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।’

সাঈদ খোকন বলেন, ‘সেসব ভাই ও পরিবারদের প্রতি আমি গভীরভাবে সমবেদনা জানাই, যারা বৈধভাবে দোকান বরাদ্দ নিয়েছিল। কিন্তু ডিএসসিসি কর্তৃক অবৈধ উচ্ছেদের কারণে সব হারিয়ে করোনাভাইরাসের এই দুঃসময়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন, পথে বসে গেছেন।’

দোকানের বৈধতার কথা তুলে ধরে খোকন আরো বলেন, ‘ফুলবাড়িয়া মার্কেটে সিটি করপোরেশন কর্তৃক যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, আমি আগেও বলেছি এটা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। কারণ, মহামান্য আদালত কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে ব্যবসায়ীদের বৈধকরণের আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আমরা করপোরেশনের বোর্ড সভায় সর্ব-সম্মতিক্রমে আলোচিত মার্কেটগুলোর নকশা সংশোধন, বকেয়া ভাড়া আদায় সাপেক্ষে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ নকশা সংশোধন করে এবং রাজস্ব বিভাগ সাত থেকে আট বছরের বকেয়া ভাড়া আদায় করে ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার অনুমতি দেয়।’

উচ্ছেদের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাবেক এই মেয়র বলেন, ‘আমরা আশ্চর্যের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, বিনা নোটিসে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বুলডোজার দিয়ে এসব হাজার হাজার বৈধ দোকান গুড়িয়ে দিল এবং ফলশ্রুতিতে হাজার হাজার দোকান মালিক ও কর্মচারী সপরিবারে পথে বসে গেল।’

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh