বিনা দোষে কারাভোগ: আরমানকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের রায় স্থগিত

বিনা দোষে প্রায় পাঁচ বছর কারাভোগ করা বেনারসির কারিগর আরমানকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রায় চেম্বার আদালতে স্থগিত হয়েছে। ফলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরমান আপাতত ২০ লাখ টাকা পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) রায়ের এ অংশটি ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান।

আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত। রিটকারী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল।

অমিত দাশ গুপ্ত গণমাধ্যমকে বলেন, আরমানকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্ট রায়ে যে নির্দেশনা দিয়েছিল, সে অংশটি আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ-টু আপিল করতে বলা হয়েছে। রিট এখতিয়ারে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি এভাবে নির্ধারণ হতে পারে না। তাছাড়া দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি পুলিশ সদস্যের কৃতকর্মের দায় তো গোটা বাহিনী নিতে পারে না।

আরমানের আটকাদেশ অবৈধ এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি ঘোষণা করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৩১ ডিসেম্বর এ রায় দেয়। আরমানকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি এবং ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়। ক্ষতিপূরণের টাকা ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্দেশ প্রতিপালনের হলফনামা দাখিল করতে বলা হয়।

আরমানের গ্রেফতার ও কারাভোগের ঘটনায় পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার দায় নিরূপন করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ডিআইজিকে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আগামী ১১ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়।

ওই পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- পল্লবী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির, একই থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম, গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম খান, উপ-পরিদর্শক রউফ ও পল্লবী থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক রাসেল।

তাদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেয়া হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত রাখতে বলা হয়।

আরমানকে কারাগারে বন্দি রাখা নিয়ে ‘কারাগারে আরেক জাহালম’ শিরোনামে ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন রিট আবেদনটি করেছিল।

সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০০৫ সালের ৩০ আগস্ট রাতে পল্লবীর ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ৮ নম্বর লেনের ৭ নম্বর ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ শাহাবুদ্দিন এবং তার দুই সহযোগী সোহেল মোল্লা ও মামুন ওরফে সাগরকে গ্রেফতার করে ডিবি। এরপর তাদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দুই বছর কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান শাহাবুদ্দিন। কিন্তু তিনি আর আদালতে হাজির হননি। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এরপর তিনি ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। এই মামলায় বিচার শেষে ২০১২ সালের ১ অক্টোবর রায় দেন ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে শাহাবুদ্দিনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। কিন্তু রায়ের দিন শাহাবুদ্দিন পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে আবারও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই মামলায় ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি পুলিশ মো. আরমানকে গ্রেফতার করে। মূল আসামি শাহাবুদ্দিনের পিতার নাম ইয়াসিন ওরফে মহিউদ্দিন। আরমানের পিতার নামও ইয়াসিন। উভয় ইয়াসিনই মৃত।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh