গাজীপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় নিহতের ছেলেকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মমতাজ বেগম এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. শাহজাহান খান ওরফে সাজু (৪৬)। সে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন কাঁচারস এলাকার মো. আমছের আলী খানর ছেলে। 

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটার সময় শাহজাহানকে বাধা দেন তার বাবা আমছের আলী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহজাহান তার হাতে থাকা দা’ দিয়ে তার মা আনোয়ারা বেগমের গলার বাম পাশে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আনোয়ারা বেগম। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। 

এ ঘটনায় নিহতের ভাই (শাহজাহানের মামা) মো. হাশেম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে শাহজাহান একই বছরের ২ মে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। গ্রেফতারকৃত শাহজাহান আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ৩০২ ধারায় অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট শাহজাহানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ওই বছরের ১ নবেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি মো. শাহজাহান খান ওরফে সাজুকে দোষী সাব্যস্ত করে বৃহস্পতিবার মামলার রায় প্রদান করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মমতাজ বেগম। রায়ে আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৩মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। রায় ঘোষণাকালে আসামি শাহজাহান আদালতে উপস্থিত ছিলো। 

প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পি.পি. অ্যাডভোকেট মো. হারিছ উদ্দিন আহম্মদ ও আসামির পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. ইসমাইল হোসেন খান।  

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //