বাজেট আসে বাজেট যায়, বেসরকারি শিক্ষকদের কপাল খোলে না

সৈয়দ শাহাদাত হোসাইন। ফাইল ছবি

সৈয়দ শাহাদাত হোসাইন। ফাইল ছবি

আমার শিক্ষকতা জীবনে ২২টির বাজেট উপস্থাপন হতে দেখেছি। ডাক-ঢোল পিটিয়ে শিক্ষাখাতে ইয়া বড় বরাদ্দের কথা বলে শিক্ষকদের মনোরঞ্জনের চেষ্টা করা হয়েছে। বছর শেষে শিক্ষকদের প্রাপ্তির ঘরে শূন্য। সবার বেতন-ভাতা বাড়লেও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ে না। বাজেট আসে বাজেট যায় অথচ শিক্ষকদের কপাল খোলে না। 

এক সময় শিক্ষকরা একশত টাকা বাড়ি ভাড়া আর দেড়শত টাকা মেডিকেল ভাতা পেতেন, বাড়ি ভাড়া দশগুণ বাড়িয়ে একহাজার আর মেডিকেল তিনগুণ বাড়িয়ে পাঁচশত টাকা করা হয়েছিল, এটি হাস্যকর। আগে ষাট সত্তর কিংবা একশত দেড়শত টাকার একটা ইনক্রিমেন্ট যোগ হতো। এখন অবশ্য বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দিচ্ছে। অবসর ও কল্যাণ তহবিলের জন্য অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন, এটি মরার উপর খরার গা ছাড়া আর কি। ছয় লাখ কোটি টাকার বেশি বিলাসিতার বাজেটে শিক্ষার জন্য যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সেখানে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ জীবন মান উন্নয়নের জন্য কী পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে সেটা একমাত্র প্রশ্ন।

শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের প্রথম ধাপ হলো শিক্ষকদের চাকুরী জাতীয়করণ, যদি সরকার শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নিতো তাহলে সরকারের শুধু লাভ হতো না এতে জাতী উপকৃত হতো। এমপিও নীতিমালায় শতভাগ ঈদ বোনাসের কথা সুস্পষ্ট উল্লেখ না করলেও সরকার চাইলে শতভাগ ঈদ বোনাস ও পূর্ণাঙ্গ বাড়ি ভাড়া ও মেডিকেল ভাতা দিতে পারেন। বাজেটে নামমাত্র অর্থ বরাদ্দ করা লাগে এসব চাহিদা পূরণে। দেখা যাবে শিক্ষাখাতে যে বাজেট রাখা হয়েছে তা উন্নয়ন খাতে ব্যাবহার না হয়ে অব্যবহৃত থেকে ফেরত যাবে। 

আইএলও কনভেনশনের প্রস্তাব অনুযায়ী শিক্ষাখাতে জিডিপির ছয় শতাংশ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। বর্তমান বাজেটে সেটা উপেক্ষিত। মুজিববর্ষে অনেকে অনেক কিছু পেলেও বেসরকারি শিক্ষকরা কিছু পায়নি। এটি মাথায় রেখে অন্তত পূর্ণাঙ্গ ঈদ বোনাস ও বাড়ি ভাড়া প্রদান করতে পারেন। বঙ্গবন্ধু শিক্ষকদের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলে থাকতে ঘোষণা করেছিলেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে রাজপথে নামতে হবে না। আমরাও তা শতভাগ বিশ্বাস করি।

শিক্ষকদের আজীবন লালিত স্বপ্ন জাতীয়করণের ঘোষণা দিলেই সব কিচ্ছা খতম। আর সেটির ঘোষণা দিতে যদি দেরি করেন তাহলে অন্তত এই বাজেটে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান করতে পারেন। সেটিই হবে মুজিববর্ষের সেরা উপহার। 

-সৈয়দ শাহাদাত হোসাইন
সহকারী অধ্যাপক, গণিত বিভাগ 
বাকলিয়া শহিদ এন এম এম জে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চট্টগ্রাম

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh