বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গতিশীলতা প্রয়োজন

সৈয়দ শাহাদাত হোসাইন। ফাইল ছবি

সৈয়দ শাহাদাত হোসাইন। ফাইল ছবি

পাঁচ লাখের অধিক বেসরকারি শিক্ষক তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অনেকটাই যেনো চরম আত্মভোলা। এর মধ্যে কেউ কেউ সংশ্লিষ্টদের ছত্র ছায়ায় থেকে সুবিধা নিতে চাই। আবার কেউ মাঝে মধ্যে স্বারকলিপি দিয়েই বসে থাকি। অনেকেই আবার অন্যের সমালোচনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। অনেকেই আবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে মাঠ গরম করি। এর মধ্যে আবার অনেকেই আছি- যারা শুধু ঘরে বসেই আন্দোলনের ফল পেতে চাই।

বেসরকারি শিক্ষকদের আন্দোলন একটি বৃহত্তর পেশাজীবী আন্দোলন হওয়ার পরেও অনৈক্যের সুযোগে সব কিছুর ঐতিহ্য হারাতে বসেছি। আমরা এই পর্যন্ত আসার পিছনে এমনি এমনিতেই অটোভাবে আসিনি। একসময় আমরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভূক্ত ছিলাম না। আন্দোলনের মাধ্যমে তা অর্জন করি এরশাদ সরকারের আমলে। বেতন স্কেলের পঞ্চাশ ভাগ হতে আশি ভাগে নিয়েছিলেন ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

আগে বেতন আসতো কমিটির মাধ্যমে তিন মাস কিংবা ছয় মাস কিংবা বছর ঘুরে তা কাটছাঁট হয়ে শিক্ষকদের হাতে যেত।বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা শিক্ষকদের দুর্দশার কথা মাথায় রেখে নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে বেতন ভাতার পাবার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বেসরকারি শিক্ষকগণ চির কৃতজ্ঞ। 

আন্দোলনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বেগম খালেদা জিয়ার আমলে অর্জন করি বেসরকারি শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় অর্জন বেতন স্কেলের শতভাগসহ পঁচিশ ভাগ উৎসব ভাতা, অবসর ও কল্যাণ ভাতার আদেশ জারি। 

এরপর সরকার আসলো গেলো সতের বছর আগের ঘোষিত ২৫% ঈদ বোনাস এখনো কোনো সরকার পরিবর্তন করেনি।একশত টাকার বাড়ি ভাড়া দশগুণ করে একহাজার আর দেড়শত টাকার মেডিকেল ভাতা বাড়িয়ে পাঁচশত করা হযেছে। তাও এক ধরনের হাস্যকর। আগের দিনে শিক্ষক নেতাদের কত হৃদ্যতা দেখেছি তা ভুলার মতো নই।

শহিদুল্লাহ স্যার, কামরুজ্জামান স্যার, শরিফুল ভুইয়া, কাজী ফারুখসহ অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়ার নেতৃত্বে শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে অসমান্য অবদানের কথা শিক্ষকগণ আজীবন মনে রাখবেন।

আমার শিক্ষকতা জীবনে শুরুতে চট্টগ্রামের মেজবাহ স্যার, আব্দুল মান্নান, আবু তাহের চৌধুরী স্যার শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে সব সময় চট্টগ্রামের রাজপথে থাকতে দেখেছি।

আজ আন্দোলনের সেই সোনালী ইতিহাস কালের গর্ভে যেন হারিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ অনলাইনের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামসহ কযেকটি শিক্ষক সংগঠনের জাতীয়করণের দাবিতে ঢাকা প্রেসক্লাবে তীব্র শীতে অনশন পালনও শিক্ষকদের অধিকার আদায়কে অনেক সহজ করে দিয়েছিল। 

বর্তমানে শিক্ষক আন্দোলন জিমিয়ে পড়ার উল্লেখিত কারনের মধ্যে অবসর শিক্ষক নেতারা এখনও নেতৃত্বে আছেন। দাবি আদাযে ব্যর্থ হয়েছেন। বেসরকারি শিক্ষকগণ মুজিববর্ষে কোন উপহার পায়নি অন্তত সেটি মাথায় রেখে শত ভাগ ঈদ বোনাস, বাড়ি ভাড়া ও মেডিকেল ভাতা আদায় করা যেত। অথচ এর কোনটিই অর্জিত হয়নি। বেসরকারি শিক্ষকদের অতীত ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে শিক্ষক সংগঠনগুলো এক ও অভিন্ন দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের বিশেষ দাবি রাখে।

-সৈয়দ শাহাদাত হোসাইন, সহকারী অধ্যাপক।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh