চন্দ্রগ্রহণের সময় যেসব কাজ বিপজ্জনক

আজ শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) দেখা যাবে এই শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ না হলেও এই চন্দ্রগ্রহণটি স্থায়ী হবে ৩ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের পর থেকে গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত আংশিক দেখা যাবে। সেক্ষেত্রে ঢাকা থেকে দেখা যাবে বিকেল ৫টা ১৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ড থেকে ৬টা ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত।

তবে সূর্যগ্রহণ হোক বা চন্দ্রগ্রহণ এর সঙ্গে মানুষের দেহের সম্পর্ক আছে। গ্রহণের কারণে শরীরে খারাপ প্রভাব পড়ে বলে মত অনেকেরেই।

জ্যোতিশশাস্ত্র মতে, চন্দ্রগ্রহণের সঙ্গে মানব শরীরের একটি অদ্ভূত যোগাযোগ আছে। গ্রহণের প্রভাব মানব শরীরের ওপর পড়ে। তাই চন্দ্রগ্রহণের সময় কিছু করা উচিত নয়।

১. বিজ্ঞানীদের মতে, একটি চন্দ্রগ্রহণ কোনো সুরক্ষা ছাড়া খালি চোখে দেখা নিরাপদ। তাই ঘটনাটি দেখার সময় বিশেষ কোনো সতর্কতা অবলম্বন করার প্রয়োজন নেই। তবে সূর্য গ্রহণের সময় এটি করা যায় না।

২. প্রচলিত রীতি অনুসারে, চন্দ্রগহণ চলাকালীন কাঁচা খাবার, ফল ও শাকসবজি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এ সময় নাকি চাঁদ থেকে নির্গত রশ্মি খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট করে দিতে পারে।

৩. এমনকি এ সময় মাংসজাতীয় খাবার খেতেও নিষেধ করা হয়। ধারণা করা হয়, চন্দ্রগ্রহণের সময় খাবার হজম করতে বেশি সময় লাগে।

৪. চন্দ্রগ্রহণের আগে খাবার রান্না করে না রাখাই ভালো। চিরাচরিত বিশ্বাস অনুসারে, চাঁদ থেকে নির্গত শক্তিশালী রশ্মি খাদ্য দূষিত বা ক্ষয় করতে পারে।

৫. আবার অনেকের মতে, চন্দ্রগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গোসল করে নেওয়া উচিত। যদিও এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

৬. গর্ভবতী মহিলাদের এই সময় বাইরে না বের হওয়ারর পরামর্শ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে চন্দ্রগ্রহণের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, চন্দ্রগ্রহণের প্রভাবে গর্ভের শিশুর ক্ষতি হতে পারে।

৭. এমনকি গ্রহণের সময় ছুরি, কাঁচি বা সূচের মতো কোনো ধারালো জিনিস ব্যবহার করবেন না।

৮. বয়স্করা এ বিষয়ে পরামর্শ দেন, চন্দ্রগ্রহণের সময় নখ বা চুল কাটা উচিত নয়। এতে অমঙ্গল হতে পারে।

৯. বৈজ্ঞানিকভাবে চন্দ্রগ্রহণ ক্ষতিকারক রশ্মি বিকিরণ করে যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

১০. চন্দ্রগ্রহণের সময় গাড়ি খুব ধীরে চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

১১. অনেকেই চন্দ্রগহণের সময় খাবারে হলুদের ব্যবহার বাধ্যতামূলক মনে করেন। যাতে ক্ষতিকর কোনো পদার্থ খাবারে মিশলেও যাতে হলুদের গুণে সুরক্ষিত থাকে। কারণ হলুদে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য আছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //