ঈদে মজাদার খাবার

বছর ঘুরে আবার এলো ঈদ। উৎসবের এই দিনটিকে ঘিরে বাড়তি প্রস্তুতি কমবেশি সকলের মধ্যেই থাকে। এদিন নতুন জামা যেমন চাই, তেমনি চাই জমিয়ে আড্ডা। আর খাবার ছাড়া কোনো আড্ডা বা উৎসব জমে ওঠে না। ঈদে এমন মজাদার কিছু খাবারের রেসিপি জানিয়েছেন রুবাইয়া রীতি।

নবাবী সেমাই

উপকরণ: ঘন দুধ ১/২ লিটার, লাচ্চা সেমাই ১ প্যাকেট, ঘি ১ টেবিল চামচ, কাস্টার্ড পাউডার ২ টেবিল চামচ, কনডেন্সড মিল্ক ১/৪ কাপ, চিনি ১/২ কাপ, স্টেরিলাইজড ক্রিম ১/২ টিন, গুঁড়া দুধ ১/২ কাপ, এরারুট ১ টেবিল চামচ, ফুড কালার ২ চিমটি। পরিবেশনের জন্য পেস্তা বাদাম, কাঠ বাদাম।

প্রণালী: চুলায় একটি পাত্রে ঘি গরম করে তাতে লাচ্ছা সেমাই, ১/২ কাপের অর্ধেক গুঁড়া দুধ ও চিনি দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়তে হবে। খেয়াল রাখতে হবে চিনি থেকে যেন পানি না বের হয়ে আসে। অর্ধেক সেমাই তুলে রেখে বাকিটাতে খাওয়ার রঙ মেশাতে হবে। এবার আলাদা পাত্রে ঠান্ডা ঘন দুধের সাথে গুঁড়া দুধ, কাস্টার্ড পাউডার, এরারুট ও কনডেন্সড মিল্ক ভালোভাবে মেশাতে হবে। এবার মধ্যম আঁচে দুধের মিশ্রণটি অনবরত নাড়তে হবে। মোটামুটি ঘন হয়ে এলে নামাতে হবে। এবার পরিবেশন পাত্রে প্রথম লেয়ারে লাচ্ছা সেমাই, তার উপর ঘন দুধের মিশ্রণ, আবার রঙিন লাচ্ছা সেমাই ঢালতে হবে। এবার পছন্দমতো বাদাম দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

স্পেশাল জর্দা সেমাই

উপকরণ : ঘি ৪ টেবিল চামচ, সেমাই ১ প্যাকেট, দারুচিনি ২-৩ টুকরা, এলাচ গুঁড়া ১ চা চামচ, নারকেল কুড়ানো ১/২ কাপ, চিনি ২ কাপ, গুড়া দুধ ১/৪ কাপ, জাফরান ১ চা চামচ, লবণ ১ চা চামচ, পরিবেশনের জন্য কাঠবাদাম, পেস্তা বাদাম, কিসমিস।

প্রণালী : কড়াইয়ে ২ টেবিল চামচ ঘি গরম করে তাতে সেমাই দিয়ে ভালোভাবে ভেজে নামিয়ে রাখতে হবে। এবার আলাদা কড়াইয়ে পানি গরম করে তাতে বলক আসার পর ভাজা সেমাই দিয়ে ১ মিনিট ভাপে দিয়ে বড় ছাঁকুনিতে ছেঁকে রাখতে হবে। আবার কড়াইয়ে ঘি গরম করে তাতে নারকেল দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়তে হবে। সেমাই দিয়ে নেড়ে একে একে দারুচিনি, এলাচ গুঁড়া, চিনি, গুঁড়া দুধ দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়তে হবে। একটু ঘ্রাণ এলে পাত্রে নামিয়ে ইচ্ছেমতো মাওয়ার গুঁড়া, কিসমিস, বাদাম দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

চিকেন রোগান জোস

উপকরণ : মুরগির মাংস ১ কেজি, আদা বাঁটা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, গরম মশলা গুড়া ১ টেবিল চামচ, রসুন বাঁটা ২ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, শুকনা মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, ভাজা জিরা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, তেল ৩/৪ কাপ, টমেটো সস ২ টেবিল চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া ২ চা চামচ, টকদই ১/২ কাপ, লাল ক্যাপসিকাম মাঝারি সাইজের ১টি।

প্রণালী : কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে কিছুক্ষণ নারতে হবে। একটু ভাজা ভাজা হয়ে গেলে তাতে মুরগির মাংস দিয়ে দিতে হবে। এবার ক্যাপসিকাম ও টকদই বাদে সব উপকরণ দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়ুন। মাংস কসানোর জন্য ঢেকে দিন। মাংসের পানি দিয়েই মাংস কসানো যাবে। এবার মাংসের তেল উঠে আসলে টক দই ও লাল ক্যাপসিকাম দিয়ে ব্লেন্ডার মেশিনে ব্লেন্ড করে মিশ্রণটি মাংসের মধ্যে মেশাতে হবে। একটু ঘনভাব আসলে নামিয়ে ধনেপাতা কুচি বা পছন্দমতো উপাদান দিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার চিকেন রোগান জোস।

গাজর ও ছানার দুই লেয়ার ডিলাইট

উপকরণ : গাজর বাঁটা ৩ কাপ, চিনি ১ কাপ, কনডেন্সড মিল্ক ৩/৪ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, গুঁড়া দুধ ১/৪ কাপ, এলাচ গুঁড়া ১ চা চামচ।

ছানার ডিলাইটের জন্য- ছানা ২ কাপ, চিনি ১/২ কাপ, কনডেন্সড মিল্ক ৩ টেবিল চামচ, এলাচ গুড়া ১ চা চামচ, ভ্যানিলা এসেন্স ১ চা চামচ, ঘি ১ টেবিল চামচ, গুঁড়া দুধ ৪ টেবিল চামচ।

প্রণালী : গাজরের ডিলাইট: কড়াইয়ে ঘি গরম করে তাতে গাজর বাঁটা দিয়ে গুঁড়া দুধ বাদে একে একে সব উপকরণ দিয়ে নাড়তে হবে। গাজর কড়াই থেকে উঠে উঠে আসলে নামানোর আগে গুঁড়া দুধ দিয়ে নামাতে হবে। একটি পাত্রে ঘি মাখিয়ে গাজরের ডিলাইট প্রথম লেয়ারে চেপে চেপে দিতে হবে।

ছানার ডিলাইটের জন্য: ছানার ডিলাইটের সমস্ত উপকরণ একসাথে মিশিয়ে নাড়তে হবে। পাত্র থেকে ছানা উঠে উঠে আসলে গাজরের ডিলাইটের উপর ছানা দিয়ে চেপে দিতে হবে। এবার ইচ্ছেমতো উপকরণ দিয়ে পরিবেশন করতে হবে। ঠান্ডা হলে সমান ভাবে টুকরা করতে হবে।

তেঁতুলের মজাদার শরবত

উপকরণ : ঘন তেঁতুল গোলানো ১ কাপ, চিনি ২ কাপ, পানি ২ লিটার, ভাজা জিরা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, ভাজা ধনিয়া গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, কালো গোলমরিচের গুঁড়া ২ চা চামচ, লবণ  পরিমাণ মত।

প্রণালী :  প্রথমে ২ লিটার পানিতে সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে জ্বাল দিতে হবে। পানিতে বলক আসার পর আসতে আসতে ঘন হয়ে আসলে নামিয়ে ঠান্ডা করে বোতলে ভরে রেফ্রিজারেটরে রেখে ঠান্ডা করতে হবে। ঈদের দিন প্রচুর গরমে এই শরবত ঠান্ডা বরফের সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন।

চিকেন ক্যানাপেস

উপকরণ : মেয়নেজ ৩/৪ কাপ, সিদ্ধ মুরগীর মাংস ১০০ গ্রাম, স্টেরিলাইজড ক্রিম ১ টিন, কালো গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ, টমেটো কুচি ১ চা চামচ, ক্যাপসিকাম কুচি ১ টেবিল চামচ, পাউরুটি ১ প্যাকেট।

প্রণালী : পাউরুটি বাদে সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে রেফ্রিজারেটরে রাখতে হবে। এবার পাউরুটি টোস্ট করে এর ওপরে চিকেন ও মেয়নেজের মিশ্রণ পুরু করে লাগিয়ে সুন্দর করে পরিবেশন করতে হবে।

ম্যাংগো চিজ কেক

উপকরণ : বিস্কুট ২৫০ গ্রাম, বাটার ৫০ গ্রাম, ক্রিম চিজ ২০০ গ্রাম, স্টেরিলাইজড ক্রিম ১ টিন, আইসিং সুগার ১/২ কাপ, ম্যাংগো এসেন্স ২ চা চামচ, আমের টুকরা ২ কাপ, সাজানোর জন্য আম, আগার ২ টেবিল চামচ। 

প্রণালী : বিস্কুট গুঁড়া করে এর সাথে বাটার গলিয়ে ভালোভাবে মেশাতে হবে। এবার একটি চিজকেকের ছাঁচে বাটার ব্রাশ করে তাতে বিস্কুট ভালোভাবে গ্লাসের সাহায্যে চেপে চেপে দিতে হবে। রেফ্রিজারেটরে ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে। এবার আলাদা একটি পাত্রে ক্রিম চিজ, স্টেরিলাইজড ক্রিম, আইসিং সুগার, ম্যাংগো এসেন্স, আমের টুকরা দিয়ে একসাথে হ্যান্ড বিটারে বিট করতে হবে সব উপকরণ ভালোভাবে না মিশে যাওয়া পর্যন্ত। এবার ছাঁচটি বের করে এর উপরে মিশ্রণটি দিয়ে সেট করতে হবে। এবার উপরে আমের টুকরা দিয়ে সাজাতে হবে। এরপর রেফ্রিজারেটরে ৩ ঘণ্টা রেখে বের করে সুন্দর পিছ করে পরিবেশন করতে হবে মজাদার ম্যাংগো চিজ  কেক।

তান্দুরী চিকেন কারি উইথ ক্যাপসিকাম

উপকরণ : মুরগির মাংস ১ কেজি, সয়াবিন তেল ৩/৪ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদাবাঁটা ২  টেবিল চামচ, রসুন বাঁটা ২ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ২ চা চামচ, শুকনা মরিচের গুঁড়া ২ চা চামচ, গরম মশলা গুড়া ১ টেবিল চামচ, জিরা বাঁটা ১ টেবিল চামচ, কালো  গোলমরিচ ৫-৬ টি, টমেটো সস ২ টেবিল চামচ, ক্যাপসিকাম কুচি ৩/৪ কাপ, তান্দুরী মশলা ২ টেবিল চামচ, ভাজা জিরা গুঁড়া ২ চা চামচ।

প্রণালী : প্রথমে কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে বেরেস্তা করে নিতে হবে। এবার মুরগির মাংস বেরেস্তায় দিয়ে নাড়তে হবে। এরপর ক্যাপসিকাম, তান্দুরী মশলা ও ভাজা জিরা বাদে বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে পানি না দিয়েই  ঢেকে কসাতে হবে। কষানো হলে তাতে ক্যাপসিকাম কুচি ও তান্দুরী মশলা দিয়ে রান্না করতে হবে। নামানোর আগে ভাজা জিরা গুঁড়া করে উপরে ছিটিয়ে দিতে হবে। ব্যাস ঝটপট মজাদার রেসিপি তৈরি।

টুনা মাছের কাবাব

উপকরণ: টুনা মাছের ক্যান ১ টি, পেঁয়াজ কুচি ৩/৪ কাপ, কাঁচামরিচ কুচি ১ টেবিল চামচ, সিদ্ধ আলু মাঝারি সাইজের ১ টি, কাবাব মশলা ১ টেবিল চামচ, আদা বাঁটা ১ টেবিল চামচ, ভাজা জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, ডিম ১টি, তেল পরিমাণমতো।

প্রণালী : প্রথমে ফ্রাইপ্যানে সামান্য তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে বেরেস্তা করতে হবে। এবার তাতে টুনা দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়তে হবে। এবার কাঁচামরিচ দিতে হবে। টুনা মাছের পানি শুকিয়ে আসলে নামিয়ে নিতে হবে। একটি পাত্রে আলু ম্যাশড করে তাতে ভেজে রাখা টুনাসহ সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে সামান্য কর্নফ্লাওয়ার ও চিনি দেয়া যায়। এবার হাতে তেল মেখে গোলাকার করে চ্যাপ্টা বানিয়ে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। ভাজার আগে ফ্রিজ থেকে বের করে ডুবো তেলে লালচে বাদামী করে ভাজতে হবে। ব্যাস তৈরি হয়েছে মজাদার টুনা মাছের কাবাব।

আফগানি কাবুলি পোলাও

উপকরণ : বাসমতী চাল ২ কাপ, মুরগির মাংস ৬০০ গ্রাম, তেল ৩/৪ কাপ, এলাচ ২-৩ টি, দারুচিনি ২ টুকরা, লবঙ্গ ২-৩ টি, তেজপাতা ২ টি, কাঁচামরিচ ২-৩ টি, গাজর কুচি ৩/৪ কাপ, চিনি ২ টেবিল চামচ, কিসমিস ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, টক দই ৩/৪ কাপ।

প্রণালী :  প্রথমে প্যানে সামান্য তেল গরম করে তাতে গাজর কুচি, চিনি ও কিসমিস দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়তে হবে। পানি বের হয়ে গাজর নরম হয়ে এলে নামিয়ে রাখতে হবে। এবার পাত্রে তেল গরম করে তাতে পেয়াজ কুচি ও কাঁচামরিচ দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে এতে গরম মশলা, মুরগির মাংস, টক দই, লবণ দিয়ে নাড়তে হবে। এবার মাংস কসানো হলে মাংস উঠিয়ে কষানো মশলায় ৪ কাপ পানি দিতে হবে। বাসমতী চাল আগেই আধাঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এবার পানি ফুটে উঠলে চাল দিয়ে দিতে হবে। কিছুক্ষণ নেড়ে আগের থেকে ভেজে রাখা গাজর একসাথে মিশিয়ে ভাপে দিতে হবে। একটু পর নামিয়ে ফেলতে হবে আফগানি পোলাও।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //