সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ

ইসরায়েলের সাথে আমিরাত-বাহরাইনের চুক্তি সই

ছবি: আল জাজিরা

ছবি: আল জাজিরা

ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সই করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ - সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তিকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করে ‘মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সূর্যোদয়’ বলে প্রশংসা করেছেন। 

গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ আল জায়ানি নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তারা চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছে। 

১৯৪৮ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত চারটি আরব দেশ ইসরায়েলের সাথে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করলো। এর আগে ১৯৭৯ সালে মিশর ও ১৯৯৪ সালে জর্দান শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ইসরাইলের সাথে।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোও এর অনুসরণ করবে। 

কিন্তু ফিলিস্তিনিরা তাদের সাথে ইসরাইলের বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাউকে এমন চুক্তি না করার আহ্বান জানিয়েছে। আরব দেশগুলো কয়েক দশক ধরেই ইসরায়েলকে বয়কট করে এসেছে। তেল আবিবের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে তাদের শর্ত ছিল, আগে ফিলিস্তিনের সাথে ইসরায়েলের বিরোধের অবসান ঘটতে হবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠান উপলক্ষে হোয়াইট হাউসে সমবেত কয়েকশ’ অতিথির উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, কয়েক দশকের বিভক্তি ও সংঘাতের পর আমরা নতুন মধ্যপ্রাচ্যের যাত্রা শুরু করলাম। ইতিহাসের পথপরিক্রমা বদলে দিতে আমরা আজ বিকেলে এখানে সমবেত হয়েছি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আজ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় শুরুর দিন। এর মধ্য দিয়ে শান্তির নতুন ভোরের সূচনা হলো।

তবে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, অধিকৃত অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েল সরে গেলেই কেবল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে। ইসরায়েলের দখলদারিত্ব শেষ না হলে এই অঞ্চলে শান্তি, সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতা আসবে না।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের বিরোধিতা ও তীব্র প্রতিবাদের মুখেও মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে দুই আরব দেশের চুক্তি সই ট্রাম্পের অভাবনীয় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই বিবেচিত হবে।

এদিকে আরব আমিরাত ও বাহরাইন হচ্ছে সৌদি আরবের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ দুইটি দেশ। অবশ্য এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের প্রকাশ্য কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। এর আগে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান বলেছিলেন, বহু বিষয়ে ইসরায়েলের সাথে সৌদি আরবের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।

ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ললওয়াহ আল-খাতের বলেছেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান হতে পারে না সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ। -বিবিসি, আল জাজিরা ও পার্সটুডে

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh