ব্যান্ড সংগীতের পাঁচ দশক

স্বাধীনতার পরপর বাংলা গানে ব্যান্ড সংগীত নামে নতুন ধারা যুক্ত হয়। এ ধারার প্রথম সারির সৈনিক ছিলেন আজম খান। বাংলাদেশের পপ সম্রাট। তার সেই পপসংগীত থেকেই একটু একটু তৈরি করে হয়েছে ব্যান্ড সংগীত। 

এখন বাংলাদেশে অন্তত ৩০টি ব্যান্ড দল সক্রিয়। আজম খান স্বাধীনতা-পরবর্তী গড়ে তুলেছিলেন ‘উচ্চারণ’। স্বাধীন বাংলাদেশে উচ্চারণই ছিল প্রথম ব্যান্ড। এরপর এই ধারায় যুক্ত হন ফিরোজ সাঁই, ফকির আলমগীর, ফেরদৌস ওয়াহিদ।

৭৫ পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে সবকিছু থমকে যায়। যার প্রভাব সংগীতেও পড়ে। পরবর্তীতে আজম খানদের উত্তরসূরি হিসেবে হামিন, সাফিনরা ব্যান্ড সংগীতকে জনপ্রিয় করে তুলতে নানা উদ্যোগ নেন। তাদের এসব উদ্যোগের ফলে মাইলস আর সোলস দেশের ব্যান্ড মিউজিকে অনেকদিন রাজত্ব করে। সাফিন আহমেদ আর তপন চৌধুরী বাংলা ব্যান্ডে যোগ করেন নতুন আরেক ধারা। এই ধারার সাথে আরো যুক্ত হয় ফিডব্যাক, ফিলিংস, নগর বাউল, রেনেসাঁ। 

ব্যান্ড সংগীতের লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চুর এলআরবি আর জেমসের নগর বাউল দেশের ব্যান্ড সংগীতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। খোলা মাঠে, এমনকি রাস্তার পাশে তাদের ব্যান্ডের গান, সেটা মেটাল আর হেভি মেটাল যা-ই হোকনা কেন, তরুণদের আকর্ষণ করে ব্যাপকভাবে। ব্যান্ডের নতুন পথ চলায় যুক্ত হয় ডিফরেন্ট টাচ, উইনিং, নোভা, আর্ক, পেন্টাগন, পেপার রাইম, লিজেন্ড, সুইট ভেনম, অবসকিউর ব্যান্ড। তারা এই পথচলাকে আরো সমৃদ্ধ করে। বাংলা গানকে আরো শ্রোতাপ্রিয় করে তোলে। 

বাপ্পা মজুমদার ও সঞ্জীব চৌধুরী মিলে অন্য ধরনের ব্যান্ড দলছুট তৈরি করেন। ৭০ দশকের ফিডব্যাক ছেড়ে মাকসুদ উল হক তৈরি করেন তার ব্যান্ড মাকসুদ ও ঢাকা। আজকের ব্যান্ড শিরোনামহীন, ভাইকিংস, দ্য ট্র্যাপ একদিনে গড়ে ওঠেনি। সুমন ওয়ারফেজ ছেড়ে তৈরি করলেন এই সময়ের অন্যতম সফল ব্যান্ড অর্থহীন।

তবে ব্যান্ড সংগীত নিয়ে একটা নেতিবাচক প্রচারণা সব সময়ই ছিল। এখনো রয়েছে। অভিযোগ আছে- এটা পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ; কিন্তু বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত নানা ধরনের সমালোচনার মুখেই এগিয়ে গেছে। সবকিছুই পরিবর্তন হয়। তেমনি শব্দের মানচিত্রও পাল্টায়। প্রচলিত শব্দের ধরনও পাল্টায়। তাই হেভি মিউজিকে হয়তো কেউ অনভ্যস্ত। তাই সমালোচনাও আসে; কিন্তু সারবিশ্বে সংগীতে যে পরিবর্তন আসছে, আমাদের তরুণরা সেই পরিবর্তনকে দেখবে না, ধারণ করবে না, তা তো হয় না। 

আমাদের ব্যান্ড সংগীতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তার নিজস্ব পরিচয় তৈরি হয়েছে। এখন এর দর্শক শ্রোতা বেড়েছে। পৃষ্ঠপোষক বেড়েছে। করপোরেট, নন-করপোরেট সমর্থন বেড়েছে। সরকারও সমর্থন দিচ্ছে। দেশে এখন একটি সাধারণ কনসার্টে ৪০ হাজার লোক হয়। আর বড় কনসার্টে দুই লাখ, তিন লাখ মানুষের সমাগম হয়। এটা অনেক বড় একটি বিষয়। 

ব্যান্ড সংগীত তারুণ্যকে ঐক্যবদ্ধ রাখে। তাকে শারীরিক-মানসিকভাবে সুস্থ রাখে। আর এই বিষয়টিই এখন আমাদের অনেক বেশি প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh