‘নিজেকে প্রমাণ করতেই এক যুগ লেগেছে’

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর শোবিজে ক্যারিয়ার শুরু করেন শিশু শিল্পী হিসেবে। ১৯৮৪ সালে নির্মাতা আমজাদ হোসেনের ‘ভাত দে’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করে সবাইকে চমকে দেন তিনি। সে সময় এ ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। তবে সংগীতশিল্পী হিসেবেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান এই তারকা। ক্যারিয়ার ও নানা বিষয়ে কথা হলো তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এন ইসলাম।

সংগীতের সঙ্গে জড়িত হবার গল্প শুনতে চাই?

আমার বাবা অভিনয়ের মানুষ। আমার রক্তে অভিনয় মিশে আছে। তবে ছোটবেলা থেকে আমি গান করছি। সেই ধারাবাহিকতায় গানকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। ‘বিদ্রোহী বধূ’ সিনেমার মধ্য দিয়ে প্লেব্যাক শুরু করেছি। আমার প্রথম অ্যালবাম ‘প্রথম কলি’ প্রকাশ হয় ১৯৯৭ সালে। ১৯টি একক ও প্রায় ৫০টি মতো মিক্সড অ্যালবামে গান করা হয়েছে। এখনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আমার গান প্রকাশ পাচ্ছে।

আপনার গানের সংখ্যা কত?

এখন পর্যন্ত আমার গানের সংখ্যা প্রায় ১২শ’। একটা সময় নিয়মিত একক ও মিক্সড অ্যালবামে গান করা হতো; কিন্তু এখন সেটি আর নেই। আগে প্রতি বছরেই অনেক গান গাওয়া হতো। 

ক্যারিয়ারে প্রতিবন্ধকতা পেয়েছেন?

একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতেই এক যুগ সময় লেগেছে আমার। যখন গান শুরু করি চারপাশের লোকজনের মন্তব্য ছিল গ্ল্যামার দিয়েই আমি কাজ নিচ্ছি। শোবিজের কোন মেয়েটি গ্ল্যামার ছাড়া নিজেকে উপস্থাপন করে? আজকাল তো ছেলেরাও বাদ পড়ছে না। তবু আমার গ্ল্যামারটাই তাদের কাছে অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়।

এ প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করলেন কীভাবে?

ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রায় সব শিল্পীর দু’একটি গান হিট হয়; কিন্তু আমার ধারাবাহিকভাবে একের পর এক গান শ্রোতারা গ্রহণ করে। এরপরেও অনেকে বলতেন, আমি নায়িকা হলেই ভালো করতাম। অথচ তারা বুঝতে চাইতেন না আমি গান শিখেই এ পথে এসেছি, গ্ল্যামার দিয়ে নয়। শ্রোতাদের ভালোবাসায় এখনো নিয়মিত গান করছি। এভাবেই গান নিয়ে থাকতে চাই।

অনেকে এখনো আপনার সমালোচনা করে। এটিকে কীভাবে দেখেন?

যারা আমার সমালোচনা করেন, তারাই আবার আমাকে ফুল দিয়ে যান। আমার বাবার নির্মিত ছবি ‘একটি সিনেমার গল্প’ ছবিতে প্লেব্যাক করে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। এ পুরস্কার আমার নিজের যোগ্যতায় এসেছে। সিনেমাটি আমার বাবার পরিচালনায়; কিন্তু এখানে আরও অনেক গুণীশিল্পী গান করেছেন। তাদের মধ্যে থেকে আমাকে যোগ্য মনে করেই এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এখানে কারও হাত নেই। 

গ্ল্যামারের পাশাপাশি নিজের জনপ্রিয়তাও ধরে রেখেছেন। এর রহস্য কী? 

আমি কখনো লক্ষ্যচ্যুত হইনি। ধীরগতিতে আমার লক্ষ্যে আমি হাঁটি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এখনো সেই ধীরগতিতেই আছি। আমাকে অনেক কিছু একসঙ্গে পেতে হবে কখনো এমনটা আশা করিনি। নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়েই সবার মন জয় করতে চাই।

নতুনদের জন্য কী বলবেন?

আমি জানি চলার পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা আসবে। সেগুলোকে অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এ জন্য সব সময় চেষ্টা করি নতুনদের পাশে থাকতে। কারণ আমি তো জানি আমাদের প্রতিবন্ধতাগুলো কোথায়? 

শিল্পী হিসেবে কেমন সময় পার করছেন?

ক্যারিয়ারের এ সময়ে শিল্পী হিসেবে চমৎকার একটা সময় পার করছি; কিন্তু আগের মতো অ্যালবামে গান করতে পারছি না বলে কিছু দুঃখ তো আছেই। 

শিল্পীরা আবার স্টেজে ফিরছেন। কেমন অনুভূতি হচ্ছে?

করোনার কারণে সারাবিশ্ব থমকে গেছে। অন্য পেশার মানুষ টুকটাক কাজের সুযোগ পেলেও আমাদের এ পেশায় সেটি ছিল না। অনেকে পেশা ছেড়ে অন্যদিকে মন দিয়েছেন। সম্প্রতি আবার স্টেজ শো শুরু হয়েছে। স্টেজ শোর মধ্য দিয়ে সবাই আবার কামব্যাক করবেন বলে আশা করি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

এখন চ্যালেঞ্জ নিয়ে গান করতে এনজয় করছি। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ভিন্নধারার গান করেছি। আগামীতে আরও বিভিন্ন ধারার গান শ্রোতারা পাবেন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //