ভোলায় গুজব ও সংঘর্ষ

প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদরে ২০ অক্টোবর পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেক পুলিশ সদস্যও আছেন। সংখ্যালঘু সম্প্র্রদায়ের এক তরুণের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর’ পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। 

পুলিশ বলছে, ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার পর ওই সংখ্যালঘু তরুণ গত ১৮ অক্টোবর থানায় জিডি করেন। প্রযুক্তির সাহায্যে সেদিন রাতের মধ্যেই ফেসবুক আইডি হ্যাককারী ও মোবাইলে চাঁদা দাবিকারী দুই যুবককে শনাক্ত করে তাদের আটক করে পুলিশ। কিন্তু এরপরও কেন সমাবেশের উদ্যোগ নেওয়া হলো ও জমায়েতের চেষ্টা হলো, সেটা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। 

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা অতীতেও আমরা দেখেছি। কক্সবাজারের রামু, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, দিনাজপুর সদর, রংপুরের গঙ্গাচড়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রায় সব ঘটনাতেই ফেসবুক হ্যাক করে প্রথমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে, তারপর সেটাকে পুঁজি করে একটি গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে চেয়েছে। এখানেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে। কাজেই তাদের অপতৎপরতার ব্যাপারে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় জনতা- সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। 

আমরা আশা করব, ভোলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দ্রুত ফিরে আসবে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনায় দায়সারা তদন্তের যে নজির অতীতে রয়েছে, তেমন যেন না হয়। পুলিশের বরাতে বলা হচ্ছে, নিহতদের দু’জনের মাথা থেঁতলানো পাওয়া গেছে। তা যদি সত্যি হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই একটি অপশক্তি রয়েছে গোটা ঘটনার পেছনে। বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তরে সম্মতি দিয়েছে পুলিশ। অথচ এই ঘটনা কতটা তাৎক্ষণিক উন্মাদনা আর কতটা নীলনকশা, ময়নাতদন্তের মধ্য দিয়েই তা চিহ্নিত করা সহজ হতো। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হবে। কোনো পক্ষের ইন্ধন এ ক্ষেত্রে কাজ করে থাকলে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

সম্পাদকীয়,
সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল

মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh