ভ্যাকসিন বিতরণে স্বচ্ছতা প্রত্যাশিত

করোনা আতঙ্ক মানুষের জীবনকে প্রায় স্থবির করে দিয়েছে। এর মাঝে দেশে ভ্যাকসিন আসার সম্ভাবনা জনসাধারণের মধ্যে একদিকে সঞ্চার করেছে আশার আলো, অন্যদিকে ভারতের ভূমিকায় তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। 

আমদানির ক্ষেত্রে জটিলতা ছাড়াও ভ্যাকসিনের সংরক্ষণ, সরবরাহ ও বিতরণে স্বচ্ছতা নিয়েও রয়েছে সংশয়। 

অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন কিনতে প্রায় এক হাজার ছয়শ’ কোটি টাকার মধ্যে সিরাম ইনস্টিটিউটের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অগ্রিম জমা দিতে হবে ছয়শ’ কোটি টাকা। বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে ভ্যাকসিন সরবরাহ শুরুর পর। জুনের মধ্যে ভ্যাকসিন সরবরাহে ব্যর্থ হলে সিরাম ইনস্টিটিউট অগ্রিম টাকা ফেরত দেবে। সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আনা প্রতিডোজ ভ্যাকসিনের পরিবহন খরচসহ দাম পড়বে প্রায় ৫ ডলার, যা ইউরোপে সরবরাহকৃত ভ্যাকসিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। 

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন আমরা কেন দ্বিগুণ দামে কিনছি? সরকারের তরফ থেকে এর কোনো ব্যাখ্যা জানা যায়নি।

ভ্যাকসিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সাফল্য ও কার্যকারিতার চেয়ে এ মুহূর্তে সাধারণ মানুষের ভাবনা হলো, এর বিতরণে কতটা স্বচ্ছতা রক্ষা করা হবে। প্রথম দফায় সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আসা তিন কোটি ভ্যাকসিন পাবেন মাত্র দেড় কোটি মানুষ। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, প্রথম দফায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন পাবেন দুই লাখ দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী তিন লাখ, বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মী সাত লাখ, এনজিও স্বাস্থ্যকর্মী দেড় লাখ, গণমাধ্যম কর্মী পঞ্চাশ হাজার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মন্ত্রণালয়ের পাঁচ হাজার। পুলিশ বাহিনীর সদস্য দু’লাখের ওপরে, জটিল রোগে আক্রান্ত এক লাখ দুই হাজার, সেনাবাহিনীর সদস্য তিন লাখ, সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধি সত্তর হাজার। 

তালিকা তৈরিতে যতই স্বচ্ছতার দাবি করা হোক; শেষ পর্যন্ত এ তালিকা সর্বসাধারণের জন্য বৈষম্য ও বিভেদ সৃষ্টিকারী। এরই মধ্যে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন- ‘ভ্যাকসিন আসছে। সরকার বিনামূল্যে এই ভ্যাকসিন মানুষকে দেবে।’ সাধারণ মানুষ এতেই আশাবাদী হয়ে উঠছেন। তবে বিনামূল্যে দেয়ার কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষ জানেন না কবে, কোথায়, কীভাবে এই ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হবে। ফলে অগ্রাধিকার তালিকাও সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি করবে সংশয়।

সরকারের স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থে করোনা আতঙ্কে বিপর্যস্ত দেশবাসীকে পরিষ্কারভাবে জানানো উচিত, ভ্যাকসিন বেশি দাম দিয়ে কেনার কারণ এবং অগ্রাধিকারভিত্তিতে যারা ভ্যাকসিন পাবেন তাদের নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে। 

আমদানির ক্ষেত্রে জটিলতা এড়াতে ভারত ছাড়াও বিকল্প দেশ থেকে আমদানির কথা ভাবতে হবে। স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা এড়িয়ে সরকারকেই সরাসরি ভ্যাকসিন আমদানির দয়িত্ব নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh