টিকা উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই

করোনার টিকা পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে যে আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছিল, অবশেষে তা-ই সত্য হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির পর গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ এবং দ্বিতীয় চালানে ২০ লাখ ডোজ টিকা দেশে আসে। 

চুক্তি অনুযায়ী, সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহের কথা; কিন্তু ৭০ লাখ ডোজের পর আর কোনো টিকা সরবরাহ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি ভারতে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে টিকা রফতানি বন্ধ করে রেখেছে দেশটির সরকার। এমন পরিস্থিতিতে টিকা প্রাপ্তি নিয়ে দেশে এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে আশার কথা সরকার চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। 

এখন পর্যন্ত টিকা পাওয়ার জন্য আমাদের চুক্তি ছিল শুধু ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে; কিন্তু ভারতের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পর রাশিয়ার সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে। দেশে রাশিয়ার টিকা স্পুটনিক-ভি ব্যবহারের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ওষুধ প্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন সহায়তা পেলে বাংলাদেশেই উৎপাদন করা সম্ভব করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রাশিয়ার আবিষ্কৃত টিকা স্পুটনিক-ভি। ইতিমধ্যে অন্য কারও কাছে এই ফর্মুলা প্রকাশ করা যাবে না শর্তে করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনে বাংলাদেশকে ফর্মুলা দিতে রাজি হয়েছে রাশিয়া। 

বাংলাদেশে বিশ্বমানের ওষুধ প্রস্তুতে সক্ষম এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই এখানেই করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদন করা সম্ভব; কিন্তু দেখা গেছে এখন পর্যন্ত টিকা উৎপাদনে আগ্রহী সরকারি ও বেসরকারি দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেভাবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা বা পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হচ্ছে না। অথচ ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় টিকা উৎপাদনে কেবল বাইরের বিকল্প সন্ধান না করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া দরকার। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ছয় ধরনের টিকা উৎপাদন করত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবহেলা, অদূরদর্শিতা, অনিয়ম ও অদক্ষতার কারণে এই সরকারি প্রতিষ্ঠানেও টিকা উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচির (ইপিআই) টিকা এখন বাইরে থেকে আনা হচ্ছে। অথচ এই করোনাকালে টিকা উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু তা স্পষ্ট হয়েছে আরও।  

তাই সময় এসেছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করে নিজেদেরই টিকা উৎপাদনে যাওয়ার। এই সর্বব্যাপী বিস্তৃত মহামারিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।


মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh