বাস্তবায়নে জোর দিন

আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশ

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে জাতীয় সংসদে। বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মূল্যস্ফীতিকে বড় চ্যলেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তা ৫.৬ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি এবং আয় ধরা হয়েছে চার লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি রয়েছে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়া হবে।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এবারের বাজেট হওয়া উচিত ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য আকাশচুম্বী। এমন পরিস্থিতিতেও অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় কর্মসংস্থান কিংবা আয় বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব না দিয়ে কৌশলে চাহিদার লাগাম টেনে ধরার কথা বলেছেন। কিন্তু চাহিদায় লাগাম টানা নয়, বরং আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়েই বাজারের স্থিরতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য তেমন সুখবর নেই। ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ ছাড়াও বাজেটে ভ্যাট ও শুল্ক-কর খাতে এমন অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে মধ্যবিত্তের দৈনন্দিন ব্যয় বাড়বে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে বিশেষ কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছে। করপোরেট কর হার কমানো হয়েছে, কিন্তু সর্বনিম্ন ব্যক্তির আয়কর সীমা বাড়ানো হয়নি। কমানো হয়েছে রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের সীমা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য যেসব উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে তা মোটেও যথেষ্ট নয়। বিদ্যমান অনেক সমস্যার সুরাহার বিষয়েও কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্কায়নে আরো ছাড় দেওয়া প্রয়োজন ছিল। দেশে বাজেট ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দুর্বল। এটি কাটিয়ে ওঠা জরুরি। বাজেটের যথার্থ বাস্তবায়নে বরাদ্দের অর্থ সঠিক সময়ে খাতগুলোতে পৌঁছাতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থের সদ্ব্যবহারে প্রতিটি খাতে বাড়াতে হবে দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা। রোধ করতে হবে অপচয়।

পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বাজেটে যে প্রস্তাবনা রয়েছে, তা যেমন নৈতিকতাবিরোধী, তেমনি অবাস্তব। অর্থপাচার কীভাবে হচ্ছে এর উৎস নির্ণয় করতে হবে। আগে সেই পথ বন্ধ করতে হবে। তারপর বিকল্প পন্থায় পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পাচারকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংসদে বাজেট নিয়ে অর্থবহ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। আমরা আশা করব, কর প্রস্তাবসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংসদের ভেতরে ও বাইরে থেকে যেসব সুপারিশ উঠে আসবে- যৌক্তিকতা বিচার করে বাজেটে সে অনুযায়ী সংশোধন আনতে দ্বিধা করবে না সরকার। তাছাড়া আরেকটি বিষয় হলো স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো বাজেটেরই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তাই বড় আকারের বাজেট ঘোষণাই শেষ কথা নয়, বরং প্রয়োজন এমন বাজেট প্রণয়ন, যা বাস্তবায়নযোগ্য।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //