ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে

গত কয়েক বছর ধরে বিশেষজ্ঞরা দেশের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে যে ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাতে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি এখন সময়ের দাবি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ব্যবসার পরিবেশ দিন দিন আরও জটিল হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) গত দুই দশক ধরে বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ শীর্ষক উদ্যোক্তা জরিপ পরিচালনা করে আসছে।

সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে বারবার উঠে এসেছে, ব্যবসার পরিবেশের দিন দিন অবনতি হওয়ার খবর, যার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে দুর্নীতিকে। পাশাপাশি অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, ঋণপ্রাপ্তির অপর্যাপ্ততা ও অদক্ষ প্রশাসন ছাড়াও সাম্প্রতিককালের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও অস্থায়ী নীতিও ব্যবসার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ, বাংলাদেশ ব্যবসায় পরিবেশ ২০২২ : উদ্যোক্তা জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ কর্মকর্তা দুর্নীতিকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। দুর্নীতি, অদক্ষ প্রশাসন এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা তিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে একজন ব্যবসায়ীর বাজারে টিকে থাকাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে স্বাস্থ্য সেবার মতো যেসব চ্যালেঞ্জ গৌণ ছিল, সেগুলোও এখন উপরে উঠে আসছে। এছাড়া দক্ষ মানব সম্পদকে উদীয়মান আরেকটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারা। 

গত এক বছরে বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশের পরিস্থিতি যে আরও খারাপ হয়েছে, এমন চিত্র উঠে এসেছে বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স (বিবিএক্স) ২০২২-২৩ জরিপেও। এই জরিপের তথ্যানুযায়ী, ব্যবসায়ীদের ব্যাংকঋণ পাওয়া জটিল আকার ধারণ করেছে। কর ও ভ্যাট পরিশোধে হয়রানি আগের চেয়ে বেড়েছে। আবার কারখানা বা ব্যবসার জন্য জমি পাওয়াটাও আগের চেয়ে কঠিন হয়েছে। 

আর এ সব সমস্যার চাপ মূলত গিয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের ঘাড়েই। দেখা যাচ্ছে, দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশে ব্যবসার ব্যয় বাড়ছে, পণ্যের উৎপাদন খরচ ও সেবার মূল্য বাড়ছে। এই বাড়তি মূল্যের ঘানিও টানতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই । 

আমরা জানি, বর্তমান বিশ্বে ব্যবসার গুরুত্ব কতটুকু। ব্যবসার মাধ্যমে সম্পদের যথাযথ ব্যবহার সহজ হয়, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। মূলধন, জাতীয় আয় ও  মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। আমাদের মতো অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে হাবুডুবু খেতে থাকা একটি দেশে তাই ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করার বিকল্প নেই। 

এখানে সমস্যা হলো ব্যবসাবাণিজ্য নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর হাতে চলে যাচ্ছে। সব ব্যবসায়ী সমানভাবে সুযোগ পান না। ক্ষমতাশালী এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর কাছে সুবিধাগুলো জিম্মি হয়ে গেছে। তাই এসব ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায় খরচ কমাতে আমদানি-রপ্তানির পর্যায়ে দুর্নীতি কমাতে হবে। পাশাপাশি স্বচ্ছতা বাড়াতে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্টসহ অন্য আইনগুলো কার্যকর করতে হবে। ট্যাক্সের সুবিধাগুলো যাতে ব্যবসায়ীদের কাছে আরও সহজে পৌঁছানো যায়, সেজন্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সিস্টেমের উন্নয়ন করতে হবে।

এই সব সমস্যা সমাধানে সরকারের প্রশাসন-যন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সামগ্রিক বিষয়ে উত্তরণে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আগামী বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা থাকা দরকার।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2023 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //