দেশীয় প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছের সংখ্যা ৬৪

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছের সংখ্যা ৬৪টি। আজ বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) সংসদ অধিবেশনে এ তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। 

সরকারি দলের সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের প্রশ্নের জবাবে শ ম রেজাউল করিম বলেন, দেশীয় মাছ আমাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও অতি আহরণের ফলে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির তালিকায়।

তিনি বলেন, দেশীয় প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে মৎস্য অধিদপ্তর পরিকল্পনা নিয়েছে এবং তা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও অবাধ বিচরণের অনুপযোগী হয়ে পড়া জলাশয় সংস্কার, পুনঃখনন ও খননের মাধ্যমে উন্নয়ন করে দেশীয় মাছের আবাসস্থল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানান তিনি। 

মন্ত্রী বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছের বিলুপ্তি রোধ ও প্রাচুর্য রক্ষার্থে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন নদনদী ও অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে স্থাপিত ৪৩২টি অভয়াশ্রম সুফলভোগীদের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।

মৎস্য অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার ফলে বিলুপ্তপ্রায় এবং বিপন্ন ও সুলভ প্রজাতির মাছের পুনরাবির্ভাব ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, বিলুপ্তপ্রায় মাছ পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করতে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) গবেষণা করে ইতোমধ্যে ৩৭ প্রজাতির মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের (নোয়াখালী-২) এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী শ ম রেজাউল বলেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পরিলক্ষিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণতা, সমুদ্রের পানির উচ্চতা এবং লবণাক্ততার বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় মৎস্য সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ ছাড়া নদীসমূহে লবণাক্ত পানি অনুপ্রবেশের ফলে মিঠাপানির মাছ ও প্রাথমিক উৎপাদনশীলতায় পরিবর্তন ঘটছে বলে জানান তিনি। উষ্ণতা বৃদ্ধিতে মাছের আবাসস্থল, বিচরণক্ষেত্র ও প্রজনন প্রভাবিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মাছের অনেক আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হচ্ছে। মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাছের প্রজাতি বৈচিত্র্যেও।

এ ছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টির ফলে মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল, প্রজননক্ষেত্র ও লালনক্ষেত্র হ্রাস পাচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2023 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //