ফেনীতে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চে হামলার নেপথ্যে

ধর্ষণ, নারী নিপীড়ন ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে নয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে নোয়াখালীর একলাশপুরগামী লংমার্চে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের বিচারের দাবিতে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে লংমার্চ শুরু করে বামপন্থী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করে রাতে ফেনীতে অবস্থান করে তারা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ফেনীর শহীদ মিনারে সমাবেশ করার সময় এক পর্যায়ে সমাবেশে অংশ নেয়াদের কয়েকজনের ওপর স্থানীয় কয়েকজন হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ঢাকা থেকে লংমার্চে অংশ নেয়া সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা।

রানা বলেন, সমাবেশের সময় নেতাকর্মীদের সাথে এক দফা সংঘর্ষ হয় স্থানীয়দের। এরপর সমাবেশস্থল থেকে কিছুটা দূরে গাড়িতে ওঠার সময় আমাদের বাসের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রায় প্রত্যেকটি বাস ভাঙচুর করা হয়, অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে মাসুদ রানা অভিযোগ তোলেন, হামলাকারীরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত।

তবে ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদন সুশেন চন্দ্র শীল বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত কেউ নয়, বরং স্থানীয় সাধারণ মানুষই ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

সুশেন শীল বলেন, তারা যেখানে সমাবেশ করছিল তার কাছে স্থানীয় সাংসদ নিজাম হাজারির চারটি প্ল্যাকার্ড রয়েছে, যেগুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি রয়েছে। তাদের সমাবেশের লোকজন ওই প্ল্যাকার্ডগুলোতে লাল মার্কার দিয়ে ‘ধর্ষকদের পাহারাদার’, ‘ধর্ষকদের গডফাদার’, ‘রেপিস্ট’-এর মতো আপত্তিজনক কথা লিখেছে। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির ওপর এগুলো লেখা দেখে স্থানীয় জনগণই ক্ষুদ্ধ্ব হয়ে তাদের ওপর হামলা করেছে। হামলার সাথে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই।

সংঘর্ষের ঘটনা লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াস এবং এর সাথে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলার কথা স্বীকার করলেও ওই ঘটনায় সর্বোচ্চ চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানান।

আলমগীর হোসেন জানান, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত স্থানীয় এমপি সাহেবের প্ল্যাকার্ডের ওপর ‘ধর্ষকদের পাহারাদার’ লেখায় এমপি সাহেবের সমর্থকরা ক্ষুদ্ধ্ব হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

আলমগীর হোসেন বলেন, প্রথম দফায় তেমন সংঘর্ষ না হলেও লংমার্চে অংশ নেয়া সদস্যরা যখন নিজেদের বাসের দিকে ফিরে যেতে থাকে তখন সংসদ সদস্যদের সমর্থকরা তাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং তখন দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্ল্যাকার্ডের ওপর ওই লেখাগুলো লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা পুলিশের সামনেই লিখেছেন বলে নিশ্চিত করেন আলমগীর হোসেন।

তিনি বলেন, সমাবেশ চলাকালীন সময় পুলিশ সদস্যদের সামনেই তারা প্ল্যাকার্ডে লাল কালি দিয়ে লেখাগুলো লেখে। সেসময় পুলিশ তাদের নিষেধ করলেও তারা আগ্রাসী আচরণ করে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh