তাপস-খোকন দুইজনই দুর্নীতিবাজ: রিজভী

রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন দুইজনই লুটেরা ও দুইজনই দুর্নীতিবাজ।

তিনি বলেন, দুইজনই রাজপথে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে একে অপরের দুর্নীতি, লুটপাটের ফিরিস্তি দিচ্ছেন। তবে এটি স্পষ্ট যে, তারা দুইজনই দুর্নীতিবাজ।

আজ মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, অবস্থা বর্তমানে এতোটাই বিপর্যকর অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণকারী নিশিরাতের এই সরকারের নেতা, মন্ত্রী, এমপি ও মেয়ররা দুর্নীতির টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এখন নিজেরাই একে অপরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সরকারের মেগা মেগা মহাদুর্নীতির মহাসাগর থেকে ছিটেফোটা চিত্র দু-একজন নেতার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে। 

তিনি বলেন, নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ঢাকা সিটি দক্ষিণের মেয়রের পদ দখল করেছিলেন সাঈদ খোকন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিশিরাতের এমপি পদ ছেড়ে কোন মধুর লোভে মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফজলে নূর তাপস মেয়র পদ দখল করেছেন। সেই মধুভান্ডের কাহিনী এখন আরব্যরজনীর গল্পের মতো মনে হলেও সেটিই বাস্তবে ঘটেছে। সাঈদ খোকন বলছেন, মেয়র তাপস শত শত কোটি টাকা লুট করছেন। অপরদিকে মেয়র তাপস বলছেন, শত শত কোটি টাকা লুট করেছেন সাঈদ খোকন। 

তিনি আরো বলেন, এখন দুদক কী করবে? তামাশা দেখবে, না পদক্ষেপ নেবে? দুদক পদক্ষেপ নিতে পারবে না। কারণ দুজনই ক্ষমতাশালী ও শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজন। শেখ হাসিনার দুদক এদের (তাপস-খোকন) বিরুদ্ধে এক পা-ও অগ্রসর হতে পারবে না। কারণ বিএনপি নিধনের জন্যই দুদককে সাজিয়েছেন শেখ হাসিনা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ওবায়দুল কাদেরের আপন ছোট ভাই আব্দুল কাদের মির্জা যেসব অভিযোগ উত্থাপন করছেন এসব কথার উদ্দেশ্য যাই হোক, অনেক সত্য বেরিয়ে আসছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে খোদ ওবায়দুল কাদের সাহেব জিতবেন কিনা তার আপন ভাই-ই এ প্রশ্ন তুলেছেন। আওয়ামী লীগের এই তিনজন নেতার বক্তব্যেই আবারও প্রমাণিত হয়েছে- আওয়ামী লীগের ‘টপ টু বটম’ আকন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। 

তিনি বলেন, লুটপাটে কে কাকে টক্কর দিতে পেরেছে এই নিয়েই তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছে। আওয়ামী লীগ তাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে গিয়ে যে সত্য বেরিয়ে আসছে তাতে প্রমাণিত আওয়ামী লীগ এখন ক্ষয়িষ্ণু রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এদেশে দুর্গতির জনকই আওয়ামী লীগ।

ওয়াল-ইলেভেন প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, গতকাল ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভিশপ্ত কালো দিবসের ১৪ বছরপূর্তি। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অসাংবিধানিক তথাকথিত এক সরকার ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, নাগরিক মর্যাদা লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল। তথাকথিত ওয়ান-ইলেভেনের পর পথ হারিয়েছে বাংলাদেশ, জনগণ হারিয়েছে গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার। মনে হয় আইনের শাসন নয়, দেশ চলছে এক প্রভুর এক আইনে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh