সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় মানুষ দুঃখ-দুর্দশায় নিপতিত: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের অবহেলা ও সিদ্ধান্তহীনতায় মানুষ অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে নিপতিত। মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট। নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে মানুষ। 

রবিবার (৬ জুন) এক সংবাদ বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। বিবৃতিতে সম্প্রতি দেশের উপকুলবর্তী অঞ্চল সমূহে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার উপকুলবর্তী ২৭টি উপজেলার দুর্বল বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়। মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলী ক্ষেত, রফতানিমুখী মৎস্য সম্পদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিভিন্ন উপকুলীয় এলাকায় লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা চরম হুমকির সম্মুখীন হয়। কাজ হারিয়ে তারা বেকার হয়েছে। 

তিনি বলেন, অর্থ ও খাদ্যাভাবে মানুষ অনাহার-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। কিন্তু সরকার এসব অঞ্চলের মানুষের দুঃখ লাঘবে বরাবরের মতোই উদাসীন রয়েছে, যা খুবই নিন্দনীয় ও মর্মস্পর্শী। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত শুরু হয়নি জরুরি ত্রাণ তৎপরতা। গত এক দশকে সংঘটিত আইলা, আমফানসহ অন্যান্য ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত জনপদের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সরকারের তরফ থেকে বারবার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল উপকুলবাসীদের রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন দেখা যায়নি। লুটপাট হয়েছে বাঁধ নির্মাণ-পুনর্নির্মাণ-সংস্কারের টাকা। 

ফখরুল বলেন, এবার ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উপকুলবর্তী মানুষের দুঃখ দুর্দশা, ক্ষয়ক্ষতি আরো বেড়ে যায়, মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে, বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। প্রকৃতির সাথে লড়াই করতে করতে এসব অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ পেশাহীন-কর্মহীন হয়ে পড়েছে, সর্বস্ব হারিয়েছে। যার কারণে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর ভোটারবিহীন একজন এমপি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে বিক্ষুব্ধ জনগণের তাড়া খেয়ে নাজেহাল হয়েছেন।

তিনি বলেন, খুলনা জেলা ও মহানগর বিএনপি ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণসহ এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কোন কর্মকর্তা এখনো পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন দুরের কথা, প্রাথমিক ত্রাণ কার্যক্রমও শুরু করেননি। জনগণের নির্বাচিত সরকার নয় বলেই জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে তাদের কোনো উদ্যোগ নেই। 

বিএনপি মহাসচিব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাসমূহকে উপদ্রুত এলাকা ঘোষণা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের জনগণের জীবন, সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবিলম্বে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, জরুরি খাদ্য ও ঔষধসহ বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ, কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর, রাস্তাঘাট নির্মাণ-পুনর্নির্মাণে বাস্তবভিত্তিক যথাযথ উদ্যোগে গ্রহণের দাবি জানান।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh