শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ

গণপরিবহনের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কমানো ও সকল গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর শংকর এলাকায় এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, হাফ পাসের দাবির বিষয়টি নতুন কোনো বিষয় নয়, পুরনো বচসা নতুন রূপে ফিরে এসেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে গণ-পরিবহন; বিশেষত ঢাকা শহরের কোনো কোনো পরিবহন কোম্পানির তথাকথিত সিটিং সার্ভিসগুলোতে হাফ ভাড়া না রাখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ নিয়ে নানা সময়ে ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা। আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। এ ধরনের পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারকে নীতিমালা তৈরিসহ আইন প্রণয়ন করতে হবে। শুধু আইন তৈরি নয়, তা বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারিও। 

সভাপতিত্বকালে রেজয়ান হক মুক্ত বলেন, সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যেমন প্রভাব পড়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষার্থীরা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে বাস ভাড়া বাড়ানোরও ঘোষণা দেয়া হয়, এরপর থেকেই পরিবহনে হাফ ভাড়া নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনা গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে। এর মধ্যে ভাড়া নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হেনস্থা, সরকারি তিতুমীর কলেজের ৪ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত, ইম্পেরিয়াল কলেজ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঝামেলা উল্লেখযোগ্য। ঘটনাগুলো এখানেই থেমে নেই। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের অভিযোগ, সিটিং সার্ভিস বা গেটলক নামে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে গণপরিবহনগুলোতে। মানা হচ্ছে না কোনও নিয়ম। ভাড়ার চার্ট দেখতে চাইলেও দেখানো হচ্ছে না। বাসে ওয়েবিলের নামে সর্বনিম্ন ভাড়া ১৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ২৬ শতাংশ বাড়লে সেখানে নতুন ভাড়া হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ১৩ টাকা। সেখানে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। কোনো পরিবহনে ২০ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। ২৫ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৪০ টাকা। অথচ নতুন ভাড়ায় সঠিক হিসাব করলে কোনো কোনো বাসে ভাড়া কমে আসার কথা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষ দিশেহারা। সেদিকে সরকার কোন ভ্রুক্ষেপ না করে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ হাসিল করছে প্রতিবারের মত এবারেরও তার ব্যাতিক্রম শিক্ষার্থীরা যখন এসবের প্রতিবাদে ও তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে মাঠে নামল তখন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে তা রোধ করার চেষ্টা চালানো হল, যা এর আগেও ঘটেছে। আন্দোলনে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসুচি পালনেরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক শাওন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি রেজয়ান হক মুক্তর সভাপতিত্বে বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা মহানগর সংসদের সদস্য প্রিজম ফকির, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সৌরভ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার অপুর্বসহ প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //