সমাবেশের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করবে বিএনপি

করোনার সংক্রমণ বাড়ায় ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দলের নির্ধারিত ৩২টি সভা-সমাবেশ নতুনভাবে পুনর্নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। 

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তা অযৌক্তিক ও অকার্যকর। কিন্তু তারপরও জনস্বার্থ এবং প্রাসঙ্গিক সবকিছু বিবেচনা করে সমাবেশগুলোর তারিখ পুনর্নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলার নেতাদের পুনর্নির্ধারিত তারিখে সভা-সমাবেশ করার জন্য প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তবে পুনর্নির্ধারিত তারিখ কবে হবে তা জানানো হয়নি সংবাদ সম্মেলনে।

সভা-সমাবেশ আপনারা পুনর্নির্ধারণ অর্থাৎ স্থগিত করলেন বলা যায় কি- এমন প্রশ্নে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা বলেছি যে, তারিখটা পুনর্নির্ধারণ করেছি। স্থগিতের কথা বলিনি। আপনি কী বুঝলেন সেটা আপনার ব্যাপার। আমরা যেটা বলার সেটা বলেছি।’

সংক্রামণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে ১১টি ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। তাতে উন্মুক্ত স্থানে যেকোনো সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার অনুমতির দাবিতে দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৪০ জেলায় গত ৮ জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে বিএনপির। ইতোমধ্যে ৮টি জেলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর দাবিতে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলা পর্যায়ের প্রথম ধাপে ২৩ জেলায় সমাবেশ করে বিএনপি।

গত ১৩ নভেম্বর থেকে লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া।

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বেলা ১১টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সিটি করপোরেশ নির্বাচন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে পারে; হাটবাজার, দোকা-পাট, স্কুল-কলেজ সব খোলা থাকতে পারে। যেখানে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, উন্মুক্ত স্থানে সংক্রমণের সম্ভাবনা কম, বদ্ধস্থানে বেশি। সেখানে সরকার বদ্ধস্থানে অনুমতি দেয়, উন্মুক্ত স্থানে দেয় না। তার মানে খুব …।’

তিনি বলেন, ‘মূল উদ্দেশ্যটা হলো, আমাদের আন্দোলনের যে কর্মসূচিটা চলছিল সেটাকে তারা প্রথমে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছে নানাভাবে শক্তিপ্রয়োগ করে, ১৪৪ ধারা জারি করে। আপনারা সাংবাদিকরা দেখেছেন সবকিছু। আমরা ১৫ দিন আগে চেয়েছি জায়গা, দুই দিন আগে অনুমতি দিয়েছে। পরের দিন হঠাৎ করে তাদের কোনো এক অঙ্গসংগঠন বা দল একটা চিঠি দিলো বা চিঠিও দেয়নি, ফেসবুকে দিয়েছে। সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে দিয়েছে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের যেসব কাজ সবই করছে তারা। অগণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে এটাই তো স্বাভাবিক।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //