৫০ বছরে ওয়ার্কার্স পার্টি, বছরব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি হবে আগামী ১৭ মে (মঙ্গলবার)। এজন্যে বছরব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।

আজ রবিবার (১৫ মে) পার্টির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। 

এতে বক্তব্য রাখেন পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ও উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মাহমুদুল হাসান মানিক ও কামরূল আহসান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এই পঞ্চাশ বছর যেমন ছিল সুমহান আন্দোলন ও অর্জনের, তেমনি লক্ষ্য পূরণ করতে না পারার ব্যর্থতার গ্লানির। এই পঞ্চাশ বছরে পার্টি যেমন এগিয়েছে, তেমনি পিছিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অর্জনগুলো সংহত করে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে পার্টি অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের কাজে উদ্যোগী হয় এবং কমিউনিস্ট আন্দোলনকে পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (লেনিনবাদী) প্রতিষ্ঠা করে।

বহুবিধ বিভক্তি ও ঐক্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (লেনিনবাদী) বর্তমানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নামে এগিয়ে চলেছে।

‘এই পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় লেনিনবাদী পার্টি যেমন বিভক্তির মুখে পড়েছে, তেমনি বিভিন্ন উপধারায় বিভক্ত বাম কমিউনিস্ট অন্যান্য গ্রুপগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেছে ও শেষ অবধি ১৯৯২ সালের মে মাসে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিতে সংগঠিত হয়ে এক নতুন পথের উন্মোচন করেছে।’ বলে জানানো হয় বক্তব্যে।

নেতারা জানান, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের সুমহান উত্তরাধিকার বহন করে। সাতচল্লিশে ভারত বিভক্ত হলে নতুন বাস্তবতায় পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি নামে পার্টি পুনর্গঠিত হয়। কিন্তু পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে দুস্তর ফারাকের কারণে পাকিস্তানভিত্তিক কাজ পরিচালনা সম্ভব না হওয়ায় পকিস্তানের পূর্ব অংশে পার্টি ‘পূর্ব পকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি’ হিসাবে সংগঠিত হয়।

‘পাকিস্তানের প্রথম যুগে ভাষা আন্দোলন, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনের এবং বিশেষভাবে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পার্টি নিরলস প্রয়াসে এ দেশের যুব ও মধ্যবিত্তদের সংগঠিত করে সুমহান সব আন্দোলনের সূচনা করে।’ উল্লেখ করা হয় বক্তব্যে।

এতে বলা হয়, ‘পাকিস্তানের সর্বসময়ে পার্টি শাসক সরকারের চরম নিপীড়নের মুখে অধিকাংশ সময় গোপনে কাজ পরিচালনা করতে বাধ্য হয়। পাকিস্তানের সর্ব সময় পার্টির নেতাকর্মীদের দিনের পর দিন কারাবন্দী থাকতে হয়েছে, জেলে অমানুষিক নিপীড়ন, এমনকি হত্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ১৯৫০ এ রাজশাহীতে এই কমিউনিস্টদের উপরই প্রথমে জেল হত্যা সংঘটিত হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে বছরব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন পার্টির নেতারা। 

তারা জানান, ১৭ মে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসবে কেন্দ্রীয় অফিস সজ্জিতকরণ, ৩১ মে শহীদ জামিল আখতার রতনের মৃত্যুবার্ষিকী ও জামায়াতের উত্থান, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা অনুষ্ঠান; ৫ জুন পরিবেশ দিবসে গঙ্গা, তিস্তা, যমুনা, মেঘনা ব্যবস্থাপনা ও পানির উপর কৃষক ও আদিবাসীর অধিকার নিয়ে আলোচনা; ১৮ জুন ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যুদিবস; ২৬ জুন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী; ১৩ আগস্ট ফিদেল ক্যাস্ট্রো, চেগুয়েভারা ও স্যাভেজ স্মরণ; ১৭ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী দিবস, ৯ সেপ্টেম্বর মাও সেতুংয়ের জন্মদিন; ২৮ অক্টোবর ২০২২ রাসেল আহমেদ খান মৃত্যুবার্ষিকী; ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস; ৭ নভেম্বর রুশ বিপ্লব বার্ষিকী; ৮ নভেম্বর বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের অতীত ও বর্তমান; ১০ নভেম্বর শহীদ নুর হোসেন দিবস; ১৭ নভেম্বর মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী; ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস; ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস; ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের কৃষক-খেতমজুর আন্দোলন: অতীত ও বর্তমান; ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস ও ২৪ জানুয়ারি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান দিবস; ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ইত্যাদি। এছাড়া আগামী বছরের ১৭ মে পঞ্চাশ বছর পূর্তি সমাপনী অনুষ্ঠান ওয়ার্কার্স পার্টির পঞ্চাশ বছরের পথচলা শীর্ষক আলোচনা সভা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পলিটব্যুরোর সদস্য হাজী বশিরুল আলম প্রমুখ।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //