‘ভারতের আনুগত্য নিয়ে দেশ চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘ভারতের আনুগত্য নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার দেশ চালাচ্ছে। নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বর্তমান শাসক দলের অভ্যাস। তাদের সাধারণ সম্পাদক (ওবায়দুল কাদের) যখন বিপদে পড়েন তখন বলেন, দিল্লি আছে—আমরা আছি। এই ধরনের কথা বলতে তাদের লজ্জাবোধও হয় না। আমরা কি এজন্য যুদ্ধ করেছি? দেশের মানুষ কখনোই এই ধরনের গোলামী মেনে নেবে না।’

আজ শনিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি। ‘অরক্ষিত স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রবিহীন বিপন্ন বাংলাদেশ : আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘স্বাধীনতার মূল্যবোধ উজ্জীবিত করে এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিএনপি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিএনপির সংগ্রাম জনগণের ভোটাধিকার ফিরে পাবার সংগ্রাম, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।’

হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেশবাসীর জন্য সংগ্রাম করছি। এই সংগ্রামে অবশ্যই আমাদের জয়ী হতে হবে। এই সংগ্রামে চুল-দাড়ি পেকে গেলেও মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নেতৃত্ব দিতে হবে। আপনারা দেশের আদর্শ। আপনাদের দিকে তাকিয়ে একজন তরুণ অনুপ্রাণিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেমেছি এই সংগ্রাম ব্যর্থ হতে পারে না। অবশ্যই দুঃশাসনের অবসান হবে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের নতুন প্রজন্ম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবে।’ 

তিনি বলেন, ‘২৪ বছর অনেক অন্যায়-অবিচার-বঞ্চনার শিকার আমরা হয়েছি। জনগণের ভোটে শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দাবিদার ছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু তার দলের অনুসারীরা এখন প্রমাণ করেন, স্বাধীনতার ঘোষণা তিনি দিয়ে গিয়েছেন। 

কিন্তু তাজউদ্দিন আহমেদ মিলিটারি মুভমেন্ট শুরু হওয়ার পরেই সম্ভবত সর্বশেষ শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেখানে টেপ রেকর্ডার নিয়ে গিয়ে বলেছিলেন, আপনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। রাজপথে পাকিস্তান সেনা বাহিনী ছড়িয়ে গেছে, তারা জনতার উপর আক্রমণ করবে। তিনি (শেখ মুজিবুর রহমান) বলেছিলেন, আমি পাকিস্তান ভাঙার দায়িত্ব নিতে পারি না। আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত হবো, যদি স্বাধীনতার ঘোষণা দেই। এটি হলো বাস্তব সত্য। আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদকের কথা।’

তিনি বলেন, ‘তার (শেখ মুজিবুর রহমান) অনেক কৃতিত্ব আছে। কিন্তু মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকে জীবন বিপন্ন করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, এই কৃতিত্ব দিতে হবে। এটুকু কৃতিত্ব অন্যকে দিতে কেন এতো অপারগতা? কেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানি এজেন্ট বলে প্রমাণ করতে চান? তারা (আওয়ামী লীগ) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশে জিনিসপত্রের দাম নাকি বিএনপি বাড়াচ্ছে! তাদের (আওয়ামী লীগ) সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য। আমিও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলাম, বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের শেষ ছয় মাস। চেষ্টা করেছি বাজার নিয়ন্ত্রণ করার। ওই সময় বাজার দর মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে ছিল। আমরা জনগণকে খেজুরের বদলে বরই খাওয়ার উপদেশ দেইনি। দ্রব্যমূল্যের যে অবস্থা, আজকে মানুষ দিশেহারা।’

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সাহাবুদ্দিন রেজার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানসহ অনেকে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //