সিপিডি, টিআইবি বিএনপির সুরে কথা বলছে: কাদের

বাজেটে সরকার মুনশিয়ানা দেখাতে পারেনি এবং একই সঙ্গে কালো টাকা সাদার করার সুযোগ দেওয়া আওয়ামী লীগের নির্বাচনে নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। একই ধরণের কথা বলেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি)।  এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যাংকে আনার ব্যবস্থা করছি। ব্যাংকে আসলে ট্যাক্সের সুবিধা আরও বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী যেটা বলছেন, মাছ ধরতে গেলে আধার দিতে হবে। সেই কথাই বাস্তব।

তিনি আরও বলেন, এখন সিপিডি কি বলল, টিআইবি কি বলল, সুজন কি বলল—এসব নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। ওরা সবাই বিএনপির সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলে। তাদের কথার সঙ্গে বাস্তব কর্মকাণ্ডে মিল নেই। বিএনপি নিজেরাই হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে তাঁদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন লন্ডনে বসে আরাম আয়েশ দিনযাপন করছে। সেই টাকার হিসেব মির্জা ফখরুল সাহেবদের দিতে হবে।

আজ শনিবার (৮ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

টাকা পাচার রোধে কর দিয়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পাচার (কালোটাকা) যারা করে, এই পাচার থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তখন সেই অর্থও মূল ধারায় ব্যাংকে ফিরে আসবে বলে আমরা মনে করছি।

১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদার করার সুযোগ দেওয়া প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ১৫ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় আমরা অর্থনীতির মূল ধারায় আনার ব্যবস্থা করছি। এর ফলে ব্যাংকিং সিস্টেমে অর্থপ্রবাহ বাড়বে। অনেকের হাতে গোপন থাকা টাকা উদ্ধার করতে বাজেটে কালোটাকা সাদার করার সুযোগ আছে।

তিনি বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ, সম্পদ মূল ধারায় এনে ভবিষ্যতে তাঁর ওপর আয় থেকে সরকার আদায় করে রাজস্ব আহরণ অধিক পরিমাণে বাড়াতে চায়।

বাজেট নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে কাদের বলেন, বিএনপি আজকে বড় বড় কথা বলে। অর্থবাজারের কথা বলে, কালো টাকার কথা বলে, দেশকে গিলে খাওয়ার কথা বলে। তাঁদের সর্বশেষ বাজেট ছিল ৬৮ হাজার কোটি টাকা। তারপরও বাজেটের আগে সাইফুর রহমান সাহেবকে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ফোরামে দৌড়োতে হয়েছিল ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে। আমাদের সময়ে বাজেট পূর্ববর্তী সময়ে কোনো অর্থমন্ত্রীকে বিদেশে গিয়ে ভিক্ষা চাইতে হয়নি। এতে বুঝতে পারেন দেশটা কোথা থেকে কোথায় আসছে।

পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদের দুর্নীতির বিচার করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের যেসব নেতাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আপনারা (সাংবাদিক) যাদের দুর্নীতিবাজ ভাবছেন তাঁদের তালিকাটা দেন, আমরা দুদককে বলব তদন্ত করতে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, সুজিত রায় নন্দী, প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কৃষি সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //