চাঁদপুরে জনশক্তি রফতানিতে ধস, বাড়ছে বেকারত্ব

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৫৯ পিএম

বিদেশে জনশক্তি রফতানিতে দেশের উল্লেখযোগ্য জেলাগুলোর মধ্যে চাঁদপুরের অবস্থান সেরা দশে রয়েছে। প্রবাসে বাংলাদেশীদের অবস্থানের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে থাকা এই জেলার প্রায় তিন লক্ষাধিক শ্রমজীবী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান খুঁজে নিয়েছেন। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় সাড়ে চার দশমিক। 

চাঁদপুর থেকে প্রতি মাসে গড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ নতুন ভিসা নিয়ে বিভিন্ন দেশে কাজ করতে গমণ করেন। অথচ মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারনে সমগ্র দেশের মতোই চাঁদপুরেও জনশক্তি রফতানিতে নাজুকভাবে ধস নেমেছে।

গেলো সাত মাসে জেলা থেকে মাত্র ৮১ জন নতুন ভিসায় চাকরি করতে বিদেশে গেছেন। অথচ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই সময়টাতে অন্তত ২০ হাজার মানুষ বিদেশ যাওয়ার কথা। তাছাড়া বিদেশ থেকে দেশে ছুটিতে আসা এক লাখেরও বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন। চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। 

হঠাৎ করে জনশক্তি রফতানিতে দীর্ঘমেয়াদী এই ধসের কারনে জেলায় বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষ জীবন-জিবিকার প্রয়োজনে তাদের বেশিরভাগ সিএজি- অটোরিক্সা, ভ্রাম্যমাণ হকারিসহ ছোটখাটো কাজ খুঁজে নিয়েছে। কেউ কেউ আবার পা দিয়েছে নষ্ট পথে। সবকিছু মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে জেলার জনশক্তি রপ্তানি খাত। এর ফলে কেবল চাঁদপুর নয়, দেশের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনশক্তি রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো ডেস্ক থেকে জানা যায়, চাঁদপুর থেকে প্রতি মাসে গড়ে তিন হাজারেরও বেশি লোক জীবিকার প্রয়োজনে নতুন ভিসা নিয়ে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমায়। ২০১৯ সালে চাঁদপুর জেলা থেকে নতুন ভিসায় কাজ করতে গেছেন প্রায়  ৩০ হাজার ৪৬৪ জন মানুষ। কিন্তু ২০২০ সালে করোনার কারণে জনশক্তি রফতানিতে নজিরবিহীন ধস নামে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোব মাস পর্যন্ত সর্বসাকুল্যে ৬০ জন মানুষ নতুন ভিসায় বিদেশ গেছেন।

জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে চাঁদপুর থেকে নতুন ভিসা নিয়ে বিদেশ গেছেন তিন হাজার ৫৫০ জন, ফেব্রুয়ারিতে তিন হাজার ১৫০ এবং মার্চ মাসে তিন হাজার ৯৩ জন। 

মার্চ মাসের শুরু থেকে সমগ্র পৃথিবীতে মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রন্ত এবং মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ২৬ তারিখ থেকে সারাদেশে লকডাউন শুরু হয়। বন্ধ হয়ে যায় অন্য দেশে সাথে বিমান চলাচল। মূলত এর পর থেকেই সারা দেশে জনশক্তি রফতানিতে চূড়ান্ত ধস নামে। চাকরি হারিয়ে কিংবা স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়ে দেশের ফেরত আসা কয়েক লাখ মানুষ আটকা পরেন বেকারত্বের অদৃশ্য জালে। এতে করে একই বছরের এপ্রিল মাসে নতুন ভিসায় বিদেশ যান মাত্র ছয় জন। মে ও জুন মাসে কাজ করার জন্য কেউ বিদেশ যাননি। জুলাই মাসে ২ জন, আগস্ট মাসে ৩ জন, সেপ্টেম্বরে ১ জন এবং অক্টোবর মাসে ৫০ জন বিদেশ গেছেন।

এদিকে করোনাকালে বিদেশ যাতায়াত অনেকটাই বন্ধ থাকায় চাঁদপুরে নতুন পাসপোর্ট গ্রহণেও মানুষের আগ্রহ কমেছে। ফলে চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ডেলিভারির অপেক্ষায় প্রস্তুতকৃত পাসপোর্টের স্তূপ জমছে। বর্তমানে প্রস্তুতকৃত পাসপোর্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজারেরও বেশি। এছাড়া নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। যেখানে করোনার আগে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০টি আবেদন করা হতো। সেখানে এখন প্রতিদিন মাত্র ৫০ থেকে ৬০টি পাসপোর্টের আবেদন করা হয়।

চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মৃদুল ভূঁইয়া জানান, পাসপোর্ট তৈরীর কথা গ্রাহককে একাধিকবার এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়ার পরও তাদের আগ্রহ দেখা দিচ্ছে না। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার তৈরি পাসপোর্ট সম্পর্কে গ্রহকদের মোবাইল ফোনে জানানোর পরও তাদের কোনরূপ সাড়া মেলেনি।


প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

অনলাইন সম্পাদক: আরশাদ সিদ্দিকী | ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh