সৌদি আরবে চলচ্চিত্র: নতুন উদ্যম, তবে পুরোনো বাধা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২১, ১১:০১ এএম

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর ২০১৮ সালের জেদ্দায় অস্থায়ী এই প্রেক্ষাগৃহে শিশুদের অ্যানিমেশন ছবি দেখানো হয়। ফাইল ছবি: রয়টার্স

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর ২০১৮ সালের জেদ্দায় অস্থায়ী এই প্রেক্ষাগৃহে শিশুদের অ্যানিমেশন ছবি দেখানো হয়। ফাইল ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরবে ৩৫ বছর নিষিদ্ধ ছিল চলচ্চিত্র। এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর একদিকে যেমন দ্রুত প্রসারের সম্ভাবনা জেগেছে, অন্যদিকে সেন্সরশিপ ও আরো কিছু বাধায় মন্থর হচ্ছে চলার গতি।

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণা করেন ২০১৬ সালে। সামাজিক-অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নেয়ার গতিপথ নির্ধারণের সেই ঘোষণার আওতায় চলচ্চিত্র শিল্পকেও গুরুত্ব দেয়া হয়। 

রক্ষণশীলতা থেকে উদার, আধুনিকতার পথে যাত্রার অঙ্গীকার জন্ম দেয় চলচ্চিত্র খাতকে ঘিরে অন্তত ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা।

২০১৮ সালে চলচ্চিত্রের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় সৌদি আরবের সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়। সেই থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে নতুন যাত্রা শুরু করেছে চলচ্চিত্র শিল্প। 

আরব চলচ্চিত্র শিল্পের বিশেষজ্ঞ, লেবাননের তথ্যচিত্র পরিচালক ও প্রযোজক জাইনা স্ফের ডয়চে ভেলেকে জানান, মহামারি শুরুর আগে প্রতি শুক্রবার শপিং মলগুলোতে থিয়েটারে মুভি দেখতে আসা মানুষদের ভিড় জমতো।

গত ৩৫ বছরে নিষেধাজ্ঞার কারণে হারিয়ে যেতে বসা চলচ্চিত্র শিল্প নিষেধের বেড়া সরতেই জেগে ওঠে পূর্ণ উৎসাহে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার চারমাসের মধ্যেই রিয়াদে খুলে যায় প্রথম সিনেমা হলের দরজা। ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল সেই প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হয় ‘পিঙ্ক প্যান্থার’। নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা ছিল, আবার একসাথে বসে চলচ্চিত্র উপভোগের সুযোগও ছিল সেখানে। কোনো আসনই খালি ছিল না।

২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে ৩৫০টি সিনেমা হল ও দুই হাজার ৫০০ মুভি স্ক্রিন তৈরির লক্ষ্য স্থির করেছে সরকার। এ কাজ দেখভাল করবে জেনারেল কমিশন ফর অডিওভিজ্যুয়েল মিডিয়া (জিসিএএম)। 

শুধু যে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থাই করা হচ্ছে, তা নয়। চলচ্চিত্রকে এক বিলিয়ন ডলারের একটা শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এছাড়া ঘরে ঘরে চলচ্চিত্রকে পৌঁছে দিতে বিনোদন খাতে জিডিপির শতকরা তিন ভাগ ব্যয়কে ২০৩০ সালের মধ্যে বাড়িয়ে শতকরা ছয় ভাগ করতে চায় রাজতান্ত্রিক দেশটির সরকার।

তবে সৌদি আরবের ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও এখনো স্বচ্ছন্দে চলার সুযোগ পাচ্ছে না চলচ্চিত্র। ৪২২ জন চলচ্চিত্রপ্রেমী, চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ সমাজের নানা স্তরের মানুষের সাথে কথা বলে তৈরি সমীক্ষায় ৪৩ ভাগ মানুষই বলেছেন বাণিজ্যিক বিনিয়োগের ঘাটতি চলচ্চিত্রের বিকাশের পথে বড় অন্তরায়। 

সমীক্ষায় অংশ নেয়া ৭৭ ভাগ মানুষ মনে করেন, অনলাইনে দেখানো হলে চলচ্চিত্রকে জাগিয়ে তোলার উদ্যোগ সফল হবে। এছাড়া কঠোর সেন্সরশিপকে চলচ্চিত্র শিল্পের কাঙ্খিত অগ্রগতির পথে বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন অনেকে। -ডয়চে ভেলে

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh