লালমনিরহাটের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতাপ এখন ফেরিওয়ালা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২১, ০১:২০ পিএম

বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতাপ চন্দ্র রায়। ছবি: লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতাপ চন্দ্র রায়। ছবি: লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বাইসাইকেলে ফেরি করে বেড়ান লালমনিরহাটের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতাপ চন্দ্র রায় (৬৮)। সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কাজীরচওড়া গ্রামের বাসিন্দা ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা এখন ফেরিওয়ালা হয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুড়ে মসলা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।

মৃত তাড়িনীকান্ত রায়ের ছেলে প্রতাপ ও তার স্ত্রী বিমালা রানীকে (৫৮) নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে একটি একচালা টিনের ঘরে বসবাস করছেন। ঘরটি মেরামত করার সামর্থ্যও নেই তার। মসলা বিক্রি করে যা আয় করেন তার অর্ধেক চলে যাচ্ছে অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা খরচে। 

ওই মুক্তিযোদ্ধা বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়লেও দু’মুঠো ভাতের জন্য স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও বাইসাইকেল চালিয়ে বাড়ি বাড়ি ফেরি করে মসলা বিক্রি করছেন। 

প্রতাপ জানান, ১৮ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। যুদ্ধ করেছি। মাতৃভূমিকে শত্রু মুক্ত করেছি। যুদ্ধ থেমে গেলো, দেশ স্বাধীন হলো, কিন্তু আমার জীবনযুদ্ধ এখনো থামেনি। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও প্রতিটি মুহুর্ত আমি সংগ্রাম করেই বেঁচে আছি। 


জীবনের শেষ বয়সে এসেও প্রতিদিন সকালে বাইসাইকেলে চড়ে বাড়ি বাড়ি মসলা বিক্রি শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেন। এতে যা আয় হয় তা দিয়েই জোটে খাবার আর চলে অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা খরচ। 

তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সব ধরনের কাগজপত্র রয়েছে। যুদ্ধকালীন সময়ে বিভিন্ন স্থানে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছেন তিনি। কিন্তু দেশ স্বাধীনের ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোনো সুযোগ সুবিধা পাননি তিনি। 

প্রতাপ একজন সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তার নাম রয়েছে সরকারি তালিকায়। যার ক্রমিক নম্বর ২০৫৯৪৪। কিন্তু তিনি পাচ্ছেন না সরকারি সুযোগ-সুবিধা। তার এই ক্রমিক নম্বরটি ব্যবহার করে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার প্রতাপ চন্দ্র নামের আরেক ব্যক্তি দীর্ঘদিন থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুক্তিযোদ্ধা যাছাইবাছাই কমিটির মাধ্যমে মসলা বিক্রেতা প্রতাপ চন্দ্রের কাগজপত্র যাছাইবাছাই হয়ে চুড়ান্ত করা হয়। কিন্তু আজও ওই যাছাইবাছাইয়ের ফলাফল পাননি তিনি।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রতাপের সব কাগজপত্র যাছাইবাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই এর ফলাফল চলে আসবে। অপরদিকে রংপুরে গঙ্গাচড়া এলাকার প্রতাপ চন্দ্রের সরকারি ভাতা বন্ধ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রতাপ সকল ধরনের সরকারি সুযোগসুবিধা পাবেন। বিধি মোতাবেক সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh