করোনাকালেও জনস্বাস্থ্য খাত উপেক্ষিত

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২১, ১১:৩৭ এএম

প্রথম ধাক্কা সামলে নেয়ার আগেই দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। 

গত বছর সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর হাজার হাজার মানুষ গ্রামে ফিরে যায়। আবার গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরে আসে। এতে করোনা গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো এবারো ‘লকডাউন’ ঘোষণার পর আগের দিন ঘরমুখী মানুষের ভিড়ে রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। এভাবে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শহর থেকে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

করোনার সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য খাতের দিকে নজর দেয়া। বাংলাদেশ প্রায় এক বছর সময় পেয়েছিল জনস্বাস্থ্য খাতটি গড়ে তোলার জন্য; কিন্তু সরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা সেভাবে বৃদ্ধি করা হয়নি। আইসিইউ ইউনিট গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরকারি গুদামে মাসের পর মাস পড়ে থাকলেও সেগুলো মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করা হয়নি। এসব যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য দক্ষ মেডিকেল কর্মীও নিয়োগ দেয়া দেয়নি। বাজেটে স্বাস্থ্য খাত সম্প্রসারণের জন্য ৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও গত আট মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মাত্র ২২ শতাংশ ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় এই সময়ে বিপর্যস্ত জনস্বাস্থ্য খাতের কতটুকু উন্নতি হয়েছে। 

যেহেতু পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে, হাসপাতালগুলোর বর্তমান সক্ষমতা কমপক্ষে দ্বিগুণ করা উচিত। ইতিমধ্যে মত এসেছে, বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কমপক্ষে ১ হাজার শয্যার ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন জরুরি। তবে, ফিল্ড হাসপাতাল শুধু স্থাপন করলেই হবে না, সেখানে থাকতে হবে আইসোলেশন ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা। 

গত বছরের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, এ পরিস্থিতিতে অনেকেই সংকটে পড়েন। বিশেষ করে শ্রমিক, পরিবহন সংশ্লিষ্টরাসহ বন্ধ থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও সমস্যায় পড়েন। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন চালু ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে আবারও প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে সাত দিনের কথা বলা হলেও ‘লকডাউন’ যে আরও দীর্ঘতর হবে, তা স্পষ্ট। এ সময় সংকটে পড়া মানুষের কথা যেমন প্রশাসনকে ভাবতে হবে, তেমনি সামর্থ্যবানদেরও এগিয়ে আসার বিকল্প নেই।

সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর ঘটনা যেভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। গতবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারের পরিস্থিতি কতটা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সামাল দেয়া যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh