এক পায়ে ঘোরে মাছুমার জীবন চাকা

মো. রাসেল ইসলাম

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২১, ০২:২৬ পিএম

জন্মগতভাবেই তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। এক পায়ে ভর করে পথ চলতে হয় তাকে। তবুও সংসার নামক জীবনযুদ্ধে থেমে থাকেনি মাছুমা আকতার। জন্মের ৬ বছরের মাথায় বাবাকে হারিয়েছেন। প্রতিবন্ধী মেয়ে আর ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে জীবনযুদ্ধে নেমে পড়েন মা মাজেদা বেওয়া। অভাবের সংসারে অন্যের দেওয়া অন্ন খেয়েই কোনো মতে চলে তাদের জীবন। এর পরেও নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে অবশেষে ২০০৪ সালে গাঁটছড়া বন্ধনে আবদ্ধ হন মাছুমা। বিধির নির্মম পরিহাস সেই সংসারও খুব বেশি দিন টিকেনি তার। এখন দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এক খুপড়ি ঘরে গরু-ছাগলের সঙ্গে বসবাস তার। 

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর নাফানগর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী মাছুমা আকতারের সংসারের চিত্র এটি। মাছুমা ওই গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের মেয়ে। মাছুমা আকতারের বয়স এখন (৩৫)।

বাড়ির বারান্দায় বসে তার সঙ্গে কথা হয়। মাছুমা বলেন, আমি জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। কষ্ট করে লাঠি নিয়ে হাঁটা চলা করি। এভাবেই আমি নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। আর বেশি লেখাপড়া করি নাই। আমার বিয়ে হয়েছিল ময়মনসিংহের জামালপুরে। স্বামী আমাকে ছেড়ে পালিয়ে গেছে প্রায় তিন বছর হচ্ছে। আমি কষ্ট করে খাই। কোনো সময় দর্জির কাজ করি। কাপড় হলে সেলাই করি না হলে মানুষের কাছে চেয়ে খাই। 

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি হলে আমার ঘরে খুব পানি পড়ে। বাতাস হলে ঘরে থাকতে পারি না। তখন ছেলে মেয়ে নিয়ে মানুষের বাসায় গিয়ে থাকি। সরকার তো গরিব অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষদের বাড়ি করে দিচ্ছে। তাই আমার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে, যেন আমাকে একটা বাড়ি করে দেয়। তাহলে হয়তো ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোনো রকমে জীবনটা কাটাতে পারব। 

প্রতিবেশী আক্তার আলী বলেন, দীর্ঘদিন থেকে মাছুমা কষ্ট করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। লাঠিতে ভর দিয়ে চলে। কখনো কাপড় সেলাই আবার কখনো অন্যের দেওয়া খাবারেই অনেক কষ্টে দিন পার করেন তিনি। 

বোচাগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর নাফানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ পারভেজ (শাহান) বলেন, ইতিমধ্যেই মাসুমাকে সরকারি সহায়তা হিসেবে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রদান করা হয়েছে। তার একটি মাত্র ঘর।

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh