দেশের প্রথম বিদ্যুৎবিহীন প্রাকৃতিক হিমাগার বন্ধ হয়ে গেছে

মো. রাসেল ইসলাম

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২১, ১১:১৫ এএম

দিনাজপুর পঞ্চগড় মহাসড়কের জগদল মৌজায় ১১০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎবিহীন প্রাকৃতিক হিমাগার

দিনাজপুর পঞ্চগড় মহাসড়কের জগদল মৌজায় ১১০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎবিহীন প্রাকৃতিক হিমাগার

বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরে আলুসহ বিভিন্ন সবজি, ফল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপিত বিদ্যুৎবিহীন প্রাকৃতিক হিমাগারটি। 

কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল ইসলাম বকুল এবং জিমার্ক ও ক্যাটালিস্ট নামে বেসরকারি সংস্থা যৌথ বাবে ২০১১ সালে বীরগঞ্জ পৌর শহরের দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কের জগদল মৌজায় ১১০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎবিহীন প্রাকৃতিক হিমাগারটি নির্মাণ করেছিলেন। হিমাগারে পরীক্ষামূলক ২৮ দিন পর্যন্ত ফুলকপি ও ৭৫ দিন পর্যন্ত পাতা কপি এবং ৬ মাস পর্যন্ত আলু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সফলতা পায়।

দেশে এক সময় বিদ্যুৎ নিয়ে হাহাকার ছিল। আলুসহ বিভিন্ন সবজি, ফল রক্ষণাবেক্ষণ হুমকির মুখে পড়ে। তখন কৃষকের উৎপাদিত পচনশীল ফসল সংরক্ষণে বিকল্প পদ্ধতির বিষয়ে চিন্তা করে বাংলাদেশে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপিত হয় বিদ্যুৎবিহীন প্রাকৃতিক হিমাগারটি। আবহাওয়ার পরিবর্তনে বিভিন্ন কাঁচামাল অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করার জন্য হিমাগারটি ঠান্ডা রাখার জন্য তলদেশে পানি সংরক্ষণ করে রাখা হতো। এ পানির মধ্যে মাছ চাষ করা সম্ভব ছিল। পানি ১৫ দিন পর পর পরিবর্তন করা হতো। যা বদলে দিতে শুরু করেছিল গ্রামীণ জনপদে সাধারণ কৃষকদের ভাগ্যের চাকা। ধারণা করা হচ্ছিল প্রাকৃতিক হিমাগারটি জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এটির নির্মাণ শুরু হয় ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয় ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। সে সময় এর নির্মাণে ব্যয় হয় ৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা। 

হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য কেজি প্রতি ৫/৬ টাকা খরচ হয়। কোনো কারণে আলু পচে গেলে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না। অথচ প্রাকৃতিক এই হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য ব্যয় হয় কেজি প্রতি মাত্র ১ টাকা। এখানে আলুসহ কোনো ধরনের সবজি পচে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল না।

আশার আলো জাগিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মীম সীড-এর স্বত্বাধিকারী কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, হিমাগারটির আরও কিছু পরিবর্তন এবং আধুনিকায়ন করা হলে এটি চালু করা সম্ভব। এটি শুধু দেশে নয়, বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে; কিন্তু কেন পরিবর্তন এবং আধুনিকায়ন করা হচ্ছে না তা জানতে চাইলে তিনি আগামী বার চেষ্টা করবেন বলে জানান। 

জিমার্ক ও ক্যাটালিস্ট এবং কী কারণে হিমাগারটি বন্ধ হয়ে গেছে প্রশ্ন করতেই তিনি একটি অনুষ্ঠানে আছেন বলে ফোন রেখে দেন।

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh