মৃত মায়ের পাশে দেড় বছরের শিশু, করোনার আতঙ্কে আসেনি কেউ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ মে ২০২১, ১২:২১ পিএম

শিশুটিকে কোলে তুলে নেন কনস্টেবল সুশীলা গোভলে ও রেখা ওয়াজে। ছবি: আনন্দবাজার পত্রিকা

শিশুটিকে কোলে তুলে নেন কনস্টেবল সুশীলা গোভলে ও রেখা ওয়াজে। ছবি: আনন্দবাজার পত্রিকা

করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কে মৃত মায়ের পাশেই দিন দুয়েক ধরে অভুক্ত হয়ে পড়ে রইল ১৮ মাসের শিশু। ভারতের মহারাষ্ট্রের পুণের এই ঘটনায় মহামারির ভয়াল ছবিটা ফের ফুটে উঠল। 

ওই নারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সন্দেহ করেই সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে তার সাহায্যের জন্য ছুটে আসেননি কোনো পাড়াপড়শি।

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই নারী পুণের পিমরি চিঞ্চবাড় এলাকার বাসিন্দা। সোমবার তার ঘর থেকে দুর্গন্ধ রের হতে দেখে শেষমেশ প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ওই নারীর দেহ নিয়ে যায়। ঘটনার সময় ওই নারী তার শিশুসন্তানকে নিয়ে একাই ছিলেন। তার স্বামী উত্তরপ্রদেশের কাজের খোঁজে গিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের অনুমান, গত শনিবার (২৪ এপ্রিল) ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক সময় জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, ওই নারী আদৌ কোভিড পজিটিভ ছিলেন কি না, তা-ও বোঝা যাবে। তবে করোনায় সংক্রমণের ভয়ে প্রতিবেশীদের কেউ ওই শিশুটিকে কোলে নিতে চায়নি। যদিও নারীর মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়েছেন কনস্টেবল সুশীলা গোভলে ও রেখা ওয়াজে। মৃত্যুভয় গ্রাস করেনি? সংবাদমাধ্যমের এই প্রশ্নের উত্তরে সুশীলা বলেন, আমারও তো দু’টো বাচ্চা রয়েছে। একজন ৮ আর অন্যজন ৬ বছরের। বাচ্চাটাকে দেখে মনে হল যেন আমার নিজের। বাচ্চাটার এত খিদে পেয়েছিল যে চটপট দুধ খেয়ে নিয়েছে।

সুশীলার সহকর্মী রেখা জানিয়েছেন, নারীর কোভিড মৃত্যুর সন্দেহ করা হলেও আশ্চর্যজনকভাবে তার বাচ্চাটি প্রায় সুস্থই রয়েছে। তবে সামান্য জ্বর থাকায় সরকারি হাসপাতালে বাচ্চাটির কোভিড টেস্ট করানো হয়েছে। 

পুণে পুলিশের অপরাধ দমন শাখার ইনস্পেক্টর প্রকাশ যাদব জানিয়েছেন, বাচ্চাটির রিপোর্টে করোনা ধরা পড়েনি। আপাতত তাকে সরকারি ক্রেশে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। - আনন্দবাজার পত্রিকা

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh