পঞ্চগড়ে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২১, ০৬:৩৬ পিএম

পরকীয়া প্রেমিকের সাথে আটকের পর শালিসের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু শালিসের আগেই গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের মল্লিকাদহ সাহাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর স্বামীর নাম মুকুল চন্দ্র। শনিবার সকাল ১১ টায় রান্নাঘর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন রাতেই মেয়ের বাবা মলিন চন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় মেয়ের স্বামী মুকুল, শাশুড়ি অঞ্জনা রায়সহ পরকীয়া প্রেমিক শফি আলমকে আসামি করা হয়। শফি পার্শ্ববর্তী কান্তখুটা এলাকার জহুরুল হকের ছেলে।

জানা যায়, নিহত গৃহবধূর সাথে শফির পরকীয়ার সম্পর্ক ছিলো। বিষয়টি মেয়ের শ্বশুরবাড়ির স্বজনরা জানতেন। এর আগে এই বিষয়ে পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল। সর্বশেষ গত  ৮ এপ্রিল গৃহবধূ ও শফিকে সাহাপাড়ার নিজ বাড়িতে স্থানীয়রা আটক করেন। ঘটনার দিন গৃহবধূর স্বামী মুকুল চন্দ্র দিনাজপুরে ছিলেন।

পরে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় সরকারকে বিষয়টি অবগত করেন স্থানীয়রা। দুই পক্ষের সাথে কথা বলে শনিবার (১৫ এপ্রিল) বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আলোচনার জন্য দিন ঠিক করা হয়। কিন্তু আলোচনায় বসার আগেই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, মুকুল কৃষি শ্রমিকের কাজ করতেন। অন্য জেলায় কাজ করতে যাওয়ার সুযোগে শফির সাথে ওই গৃহবধূর পরকীয়ার সম্পর্ক তৈরি হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন গৃহবধূর ভাই মানিক চন্দ্র বর্মণ। তিনি জানান, ৮ তারিখে ঘটনার দিন আমার বাবা দিদিকে বাসায় নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন এবং ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্রকে আশ্বস্ত করেছিলেন আলোচনার দিন দিদিকে সাথে নিয়ে আসবেন। কিন্তু চেয়ারম্যান বাবার সাথে দিদিকে পাঠাননি। সেদিন চেয়ারম্যান সম্মতি দিলে দিদি হয়তো আজ আমাদের সাথে থাকতেন।

তিনি আরো বলেন, গতকাল আমার দিদিকে মারধর করা হয়েছিল। 

সুন্দরদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় সরকার বলেন, ঈদের কারণে ভিজিএফের টাকা বিতরণ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ঈদের পরের দিন আলোচনার দিন ঠিক করা হয়। এর আগেই যে এমন ঘটনা ঘটবে ভাবিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসএম হাফিজ হায়দার জানান, প্রাথমিকভাবে মারধরের কোন চিহ্ন আমরা পাইনি। তবে গলায় ফাঁসের চিহ্ন ছিলো। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই স্বজনরা মরদেহ নামিয়ে ফেলেন। মৃত্যু নিয়ে মেয়ের পরিবারের সন্দেহ থাকায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh