লক্ষ্মীপুরে ইটভাটার চিমনি ধসে দুই ভাইসহ নিহত ৩

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২১, ১২:০২ পিএম

ইটভাটার চিমনি ধসে পড়ে দুই সহোদরসহ তিন শ্রমিক নিহত হয়। ছবি : লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

ইটভাটার চিমনি ধসে পড়ে দুই সহোদরসহ তিন শ্রমিক নিহত হয়। ছবি : লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ইটভাটার চিমনি ধসে পড়ে দুই সহোদরসহ তিন শ্রমিক নিহত ও আরো অন্তত আট শ্রমিক আহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার (২৩ মে) বিকেলে উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা গ্রামের মদিনা ব্রিকসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন- বেলাল হোসেন (৩০) ও ফারুক হোসেন (১৮) নামের দুই সহোদর ও রাকিব হোসেন। নিহত দুই ভাই জেলার কমলনগর উপজেলার চরজগবন্ধু গ্রামের আলতাফ মাঝির ছেলে। রাকিবের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার সময় ভাটার অন্য শ্রমিকরা বাধা দেয়। এসময় তারা বিক্ষোভ করে ভাটা মালিক আমির হোসেন ডিপজলের বিচার দাবি করেন। তবে ঘটনার পরপরই ডিপজল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপ্তি চাকমা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।  

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনার সময় ইটভাটার উঁচু চিমনির দেয়াল ধসে পড়ে। এসময় কর্মরত বেলাল ও ফারুকসহ ১০ জন শ্রমিক ধসে পড়া দেয়ালের নিচে চাপা পড়েন। এতে বেলাল ও ফারুক ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহযোগীতায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। গুরুতর আহত রাকিব নামের অপর এক শ্রমিককে লক্ষ্মীপুর সদর হসপিটালে নিয়ে আসলে কর্ত্যব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

রামগঞ্জ ফায়ার ষ্টেশন লিডার আবদুর রশিদ জানান, আমরা ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক ধারণা করছি- ধসে যাওয়া দেয়ালটি ছিলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক পুরাতন হওয়ায় দেয়ালটি কর্মরত শ্রমিকদের উপর ধসে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

এ ইটভাটায় দুই বছর আগেও চুলার দেয়াল ধসে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছিলেন। ভোলাকোট ইউনিয়নেই ১১টি ইটভাটা রয়েছে। এর অধিকাংশই সঠিক কাগজপত্র নেই। অবৈধভাবে এসব ইটভাটা গড়ে উঠা ও বন্ধ না করায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা।

রামগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও ইউএনওসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটি অবগত রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে ও লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh