ছবির দুনিয়ায় যে ছবি কথা বলে জীবন বাস্তবতার

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২১, ১০:০৮ এএম | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২১, ০৩:৩২ পিএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

স্থিরচিত্রকে ফটোগ্রাফি বলে জানি আমরা। গত দু’দশক ধরে আমাদের দেশে স্থিরদৃশ্যে একটি বিরাট পরিবর্তন এসেছে। একটা সময় ছিল যখন কেবল স্মৃতি ধারণের উদ্দেশ্যেই স্টুডিওতে গিয়ে ছবি তোলা হতো। এখন সেদিন আর নাই, এখন ঘরে ঘরে না বলে বরং বলা চলে হাতে হাতে ক্যামেরা।

মনের মতো করে ছবি তোলার সাধ পূরণ করার দিনও শেষ হয়েছে। এখন নানান মুডে ছবি তোলা হয়, সে সকল ছবির নামও তেমনি। এখন মানুষ নানানরকম ছবি তোলে, ছবি তোলাটা এখন আর্ট। পৃথিবীজুড়ে এই ছবি তোলার মতো বিষয়কে সাবজেক্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আলাদা করে ডিপার্টমেন্ট তৈরি হয়েছে; কিন্তু ফটোগ্রাফি কী, প্রথম কবে শুরু হলো, এর পূর্বতন ইতিহাসও বা কি? বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর মূল্যায়ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয় নিয়েই এ লেখার বিস্তার ঘটবে। 

ফটোগ্রাফি
ফটোগ্রাফি হলো তাই, যে কোনো একটি দৃশ্য হতে যে আলো ছুটে আসে- সেই আলোকে ধরে নিয়ে একটা পর্দায় প্রতিফলিত করে এরপরে ওই প্রতিফলিত দৃশ্যকে একটি মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ধারণ করাটিই এর মুখ্য কারিগরিপনা ছাড়া আর কিছু নয়। এখন প্রশ্ন হলো, কোন দৃশ্যটি আমাদের ফটোগ্রাফির বিষয়?

হতে পারে একটি ছায়া, হতে পারে নদীতে জলের ঢেউ, হতে পারে একটি জীর্ণ পাতার রূপ আমার ফটোগ্রাফির সাবজেক্ট। 


বহুকাল আগে থেকেই ফটোগ্রাফির একটি পুরনো ধারা চলে আসছিল, সেটি ছিল প্রিমিটিভ পর্যায়। একটি অন্ধকার চারকোণা বাক্সের সামনে তলে একটি সুইয়ের খোঁচার সমান ছিদ্র থাকলে এবং ঠিক বিপরীত দিককার তলে একটি সাদা পর্দা দেওয়া হলে সেই পর্দায় উল্টোভাবে সামনের দৃশ্য ধরা পড়ে। ছিদ্রটার জায়গায় যদি একটা কাঁচের লেন্স বসিয়ে দেওয়া হতো, তবে ছবিটি হতো আরও স্পষ্ট এবং রেখাবলিগুলো হতো, এটি ছিল ১৪০০ সালের সময়কার ঘটনা। এরপরে বিজ্ঞান এগিয়েছে ছবিকেও এগিয়ে নিয়ে গেছে, তবে ছবিকে স্থায়ীভাবে চমৎকার ধরার যন্ত্র আবিষ্কার করতে সময় লেগেছে আরও ৪০০ বছর। ১৮০০ সালের শুরুর ঘটনা, লুই ডাগের এবং জোসেফ নিয়েপ এর যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হয় ‘ডাগেরোটাইপ (Duguerrotype)’ প্রসেস, যেখানে সিলভার হ্যালাইড নামের আলোক সংবেদী একটা যৌগের প্রলেপকে ব্যবহার করা হয় ছবি ধারণের মাধ্যম হিসেবে। তবে ছবি তোলার শখ হলে মিনিট পনেরো মাথা না নাড়িয়ে বসে থাকা লাগতো ক্যামেরার সামনে! এরপর তো ১৮০০ সালের শেষের দিকে জর্জ ইস্টম্যান উদ্ভাবন করলেন এক ধরণের ফিল্ম যেটাকে রোল আকারে পেঁচিয়ে ক্যামেরায় ভরে ফেলা যেতো। ব্যাস! ক্যামেরা হয়ে গেল এইবার মানুষের হাতের নাগালের বিষয়, পোর্টেবল। জগৎখ্যাত ‘ইস্টিম্যান কোডাক’ তারই গড়া কোম্পানি। এরপর গবেষণা এগিয়েছে, ক্যামেরার পরে ক্যামেরা এসেছে। মানুষ তো ডিজিটাল হয়ে গেলো। এখন আর ফিল্মের দরকার পড়ে না, ফিল্ম নষ্ট হয় না। এখন চাইলেই মেমোরি কার্ডে যে ছবিটি রাখার তা রেখে বাদবাকি সকল ছবি ফেলে দেওয়া চলে। তবে সৃষ্টিশীলতা অন্য বিষয়, এটি নিজস্বতা, এটির মাধ্যমেই কেউ নাম করে জগতে আবার কেউ নামকাওয়াস্তে স্টুডিও চালিয়ে বেঁচেবর্তে থাকে। এটিই হলো খেলা মূলত ক্যামেরা ও ক্যামেরা শিল্পীর মধ্যে।

ফটোগ্রাফির শিল্প 
ফটোগ্রাফি আধুনিক সময়ে এসে শিল্পে রূপান্তর হয়েছে। ফটোগ্রাফির শিল্পটি কী? এই বিষয়টিকে পুরোপুরি বুঝতে হলে প্রথম যেটি দরকার তা হলো- ভাষা। আমি মানুষের ভাষার কথা বলছি না, ক্যামেরার ভাষার কথা বলছি, ফটোগ্রাফির ভাষার কথা বলছি। এই ভাষাটি যার কাছে যতটা বেশি পরিষ্কার, তত বেশি তিনি ফটোগ্রাফি করতে পারবেন দক্ষতার সঙ্গে। মনে রাখতে হবে একটি বিষয়, তা হলো ফটোগ্রাফির প্রধান শর্ত হলো আলো। আলোর জন্য যেমন জীব-জগৎ পৃথিবীতে টিকে আছে, তেমনি করে আলোর ব্যবহার যিনি ঠিকঠাক করতে পারবেন তিনিই ভালো ফটোগ্রাফার হতে পারবেন।

অর্থাৎ আলোই হলো ফটোগ্রাফির প্রাণ। একটি ছবি তখনই শিল্পরূপ ধারন করে বা ফটোগ্রাফির নান্দনিক রূপে পৌঁছায় যখন আমরা ছবিটির শিল্পগুণ বিচার করতে বসি। এখন কথা হলো- শিল্পগুণ কী? শিল্পই বা আসলে কী? এরকম নানা প্রশ্ন করে আমরা ছবির নানান ব্যবচ্ছেদ করে থাকি; কিন্তু আমার নিকট শিল্পগুণ কিংবা ভাষা এসবই একটি বিষয়েই ব্যাখ্যা হয়ে থাকে। তা হলো ছবিটি আমাকে কী বার্তা বা মেসেজ দিচ্ছে? ছবিটি থেকে কারও সাহায্য ছাড়াই এর প্রেক্ষাপট আমার অন্তরকে কী বলছে, এই বোঝাটিই হলো আসল। এর ওপরই ভিত্তি করে আমার ব্যক্তিগত ছবি পছন্দের ব্যাপার। আর ছবি দেখেই যখন কারও আবেগ, আনন্দ, ভালোলাগা তৈরি হয় তখন তা শিল্পমান উত্তীর্ণ হয়ে যায়। হতে পারে এখনকার যুগে এই বিষয়গুলো খুব অনালোচিত, কিন্তু কোনো ছবি দেখে যদি কোনো অনুভূতি তৈরি না হয় তবে কী করে এটিকে ফটোগ্রাফি বলবো; অন্তত আমার তেমন কোনো ইচ্ছে থাকে না এ নিয়ে কিছু বলার। ফটোগ্রাফার হতে চান এমন অনেককেই পাওয়া যাবে কিন্তু ভালো ফটোগ্রাফি করেন, এর তত্ত্বীয় দিক ও নৈতিকতার শিক্ষাটিকেও গুরুত্ব দেন এমন জানাবোঝা ফটোগ্রাফারের সংখ্যা কম। ফটোগ্রাফি শব্দটি কিভাবে শুরু হয়েছিল এই দিকটিও জানা দরকার এরও একটি বিশেষ দিক রয়েছে। ফটোগ্রাফি পুরোটিই হাতে কলমের শিল্প এবং একইসঙ্গে জ্ঞান। ১৮৩৪ সালে ব্রাজিলের ক্যাম্পিনাসে হারকিউলিস ফ্লোরেন্স, যিনি ফরাসি চিত্রকর ও আবিষ্কারক ছিলেন- তিনি তার ডায়েরিতে নিজের একটি পরীক্ষার বিবরণে ‘photographie’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তবে ১৮৩৯ সালের ১৪ মার্চ লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটির এক বক্তব্যে স্যার জন হারসেল ‘photography’ শব্দটি প্রথম জনসমক্ষে আনেন; কিন্তু ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতেই বার্লিনের জ্যোতির্বিদ জোয়ান ফন মেডলারও ‘ফটোগ্রাফি’ শব্দটি ‘ভোশিচে জাইতুং’ নামের সংবাদপত্রে ব্যবহার করেন। এভাবে ফটোগ্রাফি শব্দের শুরুয়াত হয়ে শেষাবধি এখন তা নানামুখি শিল্পের পর্যায়ে এসে সমৃদ্ধ করেছে নাগরিক সভ্যতাকে।

কাজের ক্ষেত্র
বাংলাদেশ নয় এখন সারা পৃথিবীজুড়ে ফটোগ্রাফির একটা অতি-ব্যস্ত যুগ চলছে বলেই মনে করি। মোবাইলের দুনিয়ায় একেবারে অজপাড়াগাঁয়ের একজন মানুষও ছবি তোলেন এখন তার মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে, হোক তা অতি নগন্য কিছু- কিন্তু ফটোগ্রাফিতো পৌঁছে গেছে। শিক্ষা কী এত দ্রুত পৌঁছেছিল, আমার তা মনে হয় না। অথচ পৌঁছে গেছে ফটোগ্রাফি, আসলে ছবি কথা বলে। মানুষ তার প্রতিটি মুহূর্তের ছবিকে ফ্রেমবন্দি করে রাখতে ভালোবাসে। একটা সময় ছিল যখন ফটোগ্রাফি ব্যাপারটিই ছিল হাস্যকর, কিন্তু এখনকার দিনে এসে তা যেন বেশি হাতছানি দিচ্ছে সময়ের তরুণদের। 


গত শতকে ছবি তোলার জন্য এদেশে কোনো বিদেশি এলে সঙ্গে তাদের ক্যামেরাম্যান থাকতো, এখন সেই ক্যামেরাম্যানকে ফটোগ্রাফার বলে। এটি সম্মানজনক মনে করেন ভাষার রাজনীতি যারা করেন। বিশ্বজুড়ে পত্র-পত্রিকা এবং ই-মাধ্যমে কাজের জায়গা বেড়েছে যেমন, ঠিক তেমন করেই তৈরি হয়েছে মডেলিং ফটোগ্রাফি, ওয়েডিং ফটোগ্রাফি, ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফিসহ নানা পর্যায়ের ফটোগ্রাফি। এখন বাংলাদেশেও এর প্রচলন ব্যাপকতর হয়েছে। তরুণদের মধ্যে ফটোগ্রাফির প্রতি ঝোঁক বেড়েছে। পেশা হিসেবে এর গুরুত্বও তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াই হাউসে যেমন নির্ধারিত ফটোগ্রাফার রয়েছে তেমনি করে এদেশেও এখন সরকারি পর্যায়ে ফটোগ্রাফার হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন অনেকেই অনেক প্রতিষ্ঠানে। তবে ফটোগ্রাফি এক্সিবিশন এক্ষেত্রে কম আয়োজন করা হয় এদেশে। একই সঙ্গে ভালো মানের ছবির সংখ্যাও কমেছে প্রচুর পরিমাণ ফটোগ্রাফার তৈরি হওয়ায়। ফটোগ্রাফি বিষয়ে এদেশে এখন বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে- পাঠশালা, সাউথ এশিয়ান ফটোগ্রাফিক ইনস্টিটিউট, বিপিএস দ্বারা পরিচালিত বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক ইনস্টিটিউট, প্রিজম ফটোগ্রাফিক ইনস্টিটিউট রয়েছে। চট্টগ্রামে ফটোব্যাংক গ্যালারি, ফটোআর্ট ইন্সটিটিউট রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়ে একটি প্রতিষ্ঠান কাউন্টার ফটো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর বাইরেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সিনিয়র ফটোগ্রাফারদের সঙ্গে হাতে কলমে অনেকে কাজ শিখেছেন একটা সময়। এবং বাংলাদেশে এখন এমন অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা ফটোগ্রাফির ওপর বেসিক ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে নিয়মিতভাবে।

সারা পৃথিবীতে ফটোগ্রাফি করে সবচেয়ে বেশি অর্থ আয় করেছেন এবং যাদের এখন সারাবিশ্বে ফটোগ্রাফির জন্য সম্মান দেওয়া হয়- মরগান নরম্যান, গিলস বেনসিমন, লিনসি অ্যাডারিও, অ্যাডারিও, জিএমবি আকাশ, নিক ব্র্যান্ড, মার্কো গ্রাব, নিক ভ্যাসি, জর্জি স্টেইনমেটজ, এরিয়াল ফটো, টিমোথি অ্যালেন ও জাং জিঙ্গুয়া। 


এছাড়া অস্ট্রেলীয় ফটোগ্রাফার কারেন লুনি, যিনি সমকালিন বিষয়ের ওপর ছবি তুলে ছবির দুনিয়ায় সুনাম কুড়িয়েছেন। অস্ট্রেলীয় বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে ঘুরে তিনি ছবি তোলেন। তার ছবির বিষয় জীব- বৈচিত্র্য, পরিযায়ী পাখি এ সমস্ত। তেইজি সাগা একজন জাপানি ফটোগ্রাফার, যিনি হাঁসের ছবি তুলে বিখ্যাত হয়েছেন। স্টিভ ম্যককারির ‘আফগান গার্ল’ ছবির কথা নিশ্চয়ই সকলের স্মৃতিতে রয়েছে। কিংবা ভিয়েতনামের যুদ্ধের তো শুধুই একটা ছবি হলেই চলে, যা তুলেছিলেন- ফটো সাংবাদিক এডি এডামস। যে ছবির জন্য রাতারাতি মার্কিন নাগরিকারাও হতবাক হয়েছিল। এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত তৈরিতে সম্ভবত এই ছবির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি ছিল সেই সময়ে। তবে কী ছিল সেই ছবিতে- দক্ষিণ ভিয়েতনামের বাহিনী ভিয়েতকং গেরিলাদের একটি গ্রুপের নেতা নুয়েন ভ্যান লেমকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুয়েন নক লোয়ানের গুলি করার ছবি। পরবর্তীতে এর জন্য এডি পুলিৎজার পুরস্কারও পেয়েছিলেন। বিশ্বের নানান প্রান্তে এমন অসংখ্য গুণী ও সাহসী ফটোগ্রাফাররা রয়েছেন যারা ছবিপাগল, তারা চান একটি ছবি তুলতে অন্তত তার জীবনের একটি ভাষা করতে চান তা দিয়ে। 

বাংলাদেশের ফটোগ্রাফার


সাইদা খানম : সাইদা খানম ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম পেশাদার নারী ফটোগ্রাফার, যিনি ১৯৪৯ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে ছবি তোলা শুরু করেন। তিনি ফটো সাংবাদিকের কাজ শুরু করেন ১৯৫৬ সালে ‘বেগম’ পত্রিকায়। দুটি জাপানি পত্রিকাসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাঁর তোলা আলোকচিত্র মুদ্রিত হয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের ‘মহানগর’, ‘চারুলতা’ আর ‘কাপুরুষ মহাপুরুষ’ সিনেমার শুটিংয়ের ছবি তুলেছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রের জন্য নয়, নিজের ইচ্ছেতেই। অনুমতি ছিল সত্যজিৎ রায়েরও। আরও অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির ছবিও তিনি তুলেছিলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ইন্দিরা গান্ধী, কাজী নজরুল ইসলাম, উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন, বেগম সুফিয়া কামাল, মাদার তেরেসাসহ এই তালিকায় রয়েছে চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রাখা ব্যক্তি নিল আর্মস্ট্রং-এর নামও। এ ছাড়াও তার ছবি নিয়মিত ছাপা হতো দৈনিক অবজারভার, মর্নিং নিউজ, ইত্তেফাক, সংবাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায়। আলোকচিত্রী হিসেবে দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেন তিনি। তিনি বাংলা একাডেমি ও ইউএনবির আজীবন সদস্য ছিলেন। ১৯৫৬ সালে ঢাকায় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নেন সাইদা খানম। ওই বছরই জার্মানিতে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড কোলন পুরস্কার পান। ভারত, জাপান, ফ্রান্স, সুইডেন, পাকিস্তান, সাইপ্রাস ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে তার ছবির প্রদর্শনী হয়। ২০২০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 


নাসির আলী মামুন : নাসির আলী মামুন একজন বাংলাদেশি পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফার। যিনি ‘ক্যামেরার কবি’ হিসেবেও পরিচিত। বাংলাদেশের প্রতিকৃতি আলোকচিত্রাঙ্গনে তিনি সবচেয়ে আলোচিত এবং নন্দিত মানুষ। সাধারণ নারী-পুরুষের পাশাপাশি তিনি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রায় শতাধিক কবি, শিল্পী, লেখক, রাজনীতিবিদদের প্রতিকৃতি ক্যামেরায় ধারণ করেছেন। সত্তরের দশকে বাংলাদেশে তিনি প্রথম প্রতিকৃতি আলোকচিত্রের সূচনা করেন। তার তোলা প্রতিকৃতি আলোকচিত্রের সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি। এ ছাড়াও পঞ্চাশের অধিক একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে। 


শহিদুল আলম : শহিদুল আলম একজন নন্দিত একজন ফটোগ্রাফার। তিনি দৃক পিকচার লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দক্ষিণ এশিয়ার ফটোগ্রাফি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঠশালা। তিনি ২০১৮ সালে টাইম ম্যাগাজিনের টাইম বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব ২০১৮ হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ছবি মেলারও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ডপ্রেস ফটো প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্বও পালন করেন। প্রথম এশীয় ফটোগাফার হিসেবে তিনি এ সম্মান অর্জন করেন। 

ভবিষ্যতের ফটোগ্রাফি বা আলোকচিত্র দুনিয়া
ভবিষ্যতের আলোকচিত্র দুনিয়া কতটা সফল হবে সেই বিষয়টি এখন আর মুখ্য নয়, বরং এখন যে বিষয়টি সর্বাগ্রে মগজে ঢোকে তা হলো, মানুষ কী করবে? মানুষ কি বাস্তবতাকেই বেশি প্রাধান্য দেবে নাকি রঙের দুনিয়ায় খেলতে ভালোবাসবে সেটি। মানুষের জীবন যেদিকে আবর্তিত হবে, মানুষ সেদিকেই ফটোগ্রাফিতেও মনোযোগী হবে। তবে একটি কথা পরিষ্কার সৃজনশীলতার বিকল্প কিছু নেই ফটোগ্রাফির জগতে, যা অনেকে তোয়াক্কাই করেন না; কিন্তু এটি জেনে রাখা ভালো ছবি কথা বলে, ছবি ভাবায়, ছবি নির্বাক তবুও তার গল্প রয়েছে- যেমন করে একজন লিখিয়ে গল্প বলেন তার কলম দিয়ে ঠিক তেমনি করেই ক্যামেরা দিয়ে গল্প বলেন- কথা বলেন একজন ফটোগ্রাফার। সুতরাং ভবিষ্যত হবে সেই ফটোগ্রাফারের যার মন বাস্তব ও সৃজনের মধ্যে বাস করে।   

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh