তেলকাহন

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২১, ০৭:৩৭ পিএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পুষ্টি চাহিদা পূরণে যেমন পর্যাপ্ত তেল দরকার, তেমনি যারা স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা রক্তচাপের মতো সমস্যায় ভুগছেন তাদেরকে চিকিৎসকের পরামর্শে মেপে মেপে তেল খেতে হবে। নিজের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বুঝে পরিমিত পরিমাণে তেল খাওয়া জরুরি। সেক্ষেত্রে চাহিদা যদি বেশি বা কম থাকে, তাহলে তেল খাওয়ার পরিমাণেও কম-বেশি হবে।

কোন তেল ভালো, কোনটা ক্ষতিকর?

খাবার তেল ও চর্বি মূলত একই ধরনের পদার্থ। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় যা তরল থাকে, সেটি তেল আর যেটা অর্ধ জমাট বা পুরো জমাট বেঁধে যায়, সেটা চর্বি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন সব ধরনের তেলেই চর্বি বা ফ্যাট থাকে। তেল-চর্বি মানেই যে খারাপ, ব্যাপারটি তেমন না। নির্ভর করছে কী ধরনের তেল খাচ্ছেন ও সেটা কী পরিমাণে। খাওয়ার তেল দুই রকম হয়ে থাকে।

১. এনিম্যাল ফ্যাট বা প্রাণিজ তেল

২. ভেজিটেবল অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেল

প্রাণিজ তেল : যে তেল-চর্বি প্রাণী থেকে আসে যেমন গরু, খাসির চর্বি, ঘি, মাখন, ডালডা ইত্যাদি প্রাণিজ ফ্যাট। 

উদ্ভিজ্জ তেল : গাছ, ফুল বা শস্য থেকে যে তেল আসে সেটা উদ্ভিজ্জ তেল। বাংলাদেশের বাজারে উদ্ভিজ্জ তেলের মধ্যে রয়েছে সয়াবিন, সরিষা, জলপাই, সূর্যমুখী, তিল, ভুট্টার তেল ইত্যাদি।

তেল খাওয়ার উপকার : খাবারের তেলে রয়েছে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালোরি, ফ্যাটি এসিড, ভিটামিনস ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা শরীরের নানা ধরনের পুষ্টিস্বল্পতা পূরণ করে থাকে। আমরা প্রতিদিন যা খাই, তার মধ্যে তেল থেকে সবচেয়ে উচ্চহারে ক্যালোরি পাওয়া যায়। দৈনিক শক্তির চাহিদার বড় অংশই পূরণ করছে তেল।

ভালো কোলস্টেরল : ভালো তেল রক্তের এইচডিএল অর্থাৎ শরীরের জন্য উপকারী ভালো কোলস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। খারাপ কোলস্টেরল বেশি থাকলে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে উদ্ভিজ্জ তেল। এটা হৃদরোগ ও রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়, আর লিভার সচল রাখে। 

তেল খাওয়ার ক্ষতিকর দিক : প্রাণিজ তেলে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট খুব সহজে রক্তে এলডিএল বা খারাপ কোলস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই চর্বি সহজে শরীর থেকে বেরোতে পারে না। ফলে হৃদরোগ, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া বাংলাদেশে শহুরে নাগরিকদের মধ্যে ভাজা-পোড়া, ডুবো তেলে ভাজা ফাস্ট ফুড খাবার খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এগুলো পরিহার করা ভালো।

তেলের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তেলের স্মোক পয়েন্ট। অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় তেল পুড়ে ফ্যাটগুলো ভেঙে যায়, তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই কতক্ষণ ধরে রান্না হচ্ছে, সেটা বেশ জরুরি।

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh