ইলিশের পুষ্টিগুণ

নাহিদা আহমেদ

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১৭ এএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

স্বাদ ও গন্ধের জন্য ইলিশ অনন্য। বাঙালির থালায় গরম ভাত আর ইলিশের যে কোনো পদ হলেই, তা যেন জমে যায়। ইলিশ যতটা সুস্বাদু, ঠিক তেমনি পুষ্টিগুণে ঠাসা। যে ইলিশ তেলযুক্ত সে ইলিশ বেশি মুখরোচক। 

বরিশালের ইলিশে প্রায় ৮.২১ শতাংশ ফ্যাট বা চর্বি পাওয়া যায়, যেখানে ভোলার ইলিশে ৪.৯৭ শতাংশ চর্বি পাওয়া যায়। ১০০ গ্রাম ইলিশ মাছে ০.৩৫-০.৭২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১৮.৯৫-২০.৫৬ গ্রাম প্রোটিন, ৩৩.৫-৯৫.৫৪ গ্রাম ভিটামিন-এ, ১১.২০-১৪.২৮ গ্রাম ভিটামিন সি, ১৪৪.২১-৩৭২.৮৭ মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম, ৯.০৪-১৩.০৭ মি.গ্রাম আয়রন, ১১৮.১৭-২০৪.০৬ মি.গ্রাম ফসফরাস, ৩৪.১৮-৪৫.০৭ মি.গ্রা ম্যাগনেসিয়াম, ৮.৫৪-১২.৬৮ মি.গ্রাম ম্যাঙ্গানিজ, ০.৯৪-১.৫৪ মি. গ্রাম কপার, ০.৯৪-১.৩১ মি.গ্রাম জিংক পাওয়া যায়।

ইলিশের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

মাছ প্রোটিনের চমৎকার উৎস, মাছের প্রোটিন সহজে হজমযোগ্য এবং এতে উচ্চমাত্রায় লাইসিন ও সালফার সমৃদ্ধ অ্যামাইনো এসিড যেমন মিথিওনিন ও সিস্টিন পাওয়া যায়। 

মাছ ও মাছের তেল ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড, ডিএইচএ ও ইপিএ সমৃদ্ধ যেগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যকারিতা ঠিক রাখে পাশাপাশি আর্থ্রাইটিসজনিত সমস্যা প্রশমনেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড খুব কার্যকর। ডিপ্রেশন কমাতেও কার্যকর। কিছু স্টাডিতে পাওয়া গেছে শরীরে আরজিনিন (অ্যামাইনো এসিড) এর মাত্রা কম থাকলে তাদের মেজর ডিপ্রেশন ডিসঅর্ডার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ইলিশ মাছ আরজিনিনের ভালো উৎস। 

ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিয়মিত এ মাছ খেলে পাকস্থলীর আলসার ও কোলিটিসের ঝুঁকি কমে যায়। 

ত্বক ভালো রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে বিদ্যমান ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং নিয়মিত এ মাছ খেলে ত্বকের একজিমা হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়, তাছাড়াও এতে বিদ্যমান কোলাজেন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রেখে তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, ইলিশ মাছ জিংকের ভালো উৎস, যা বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর বিভিন্ন ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। 

ভিটামিন-এ এর উৎস যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত এই মাছ গ্রহণ করেন তাদের রাতকানাজনিত সমস্যা ও বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে চোখের দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি প্রশমনে সাহায্য করে। 

জাতীয় কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, মাছে বিদ্যমান ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রক্তের চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। রক্তসঞ্চালন ক্রিয়া ও রক্তনালি ভালো রাখতে সাহায্য করে। 

ইলিশের পুষ্টিগুণ তখনই কাজে লাগবে, যখন এটি সঠিক উপায়ে রান্না হবে, ইলিশ মাছ ভেজে খেলে ফ্যাট ও ক্যালোরি ভ্যালু অনেক বেড়ে যায়, সেজন্য ভাপা ইলিশ, সবজি যেমন- মিষ্টি কুমড়া, পটল, কচু, শসা ইত্যাদির পাশাপাশি বিভিন্ন শাক দিয়ে কম তেলে ইলিশ মাছ রান্না করে খেলে পুষ্টিমান সঠিক থাকে। তাই সঠিক পুষ্টি পেতে অবশ্যই সঠিক উপায়ে রান্না মাছ খেতে হবে । 

অনেকের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা বেড়ে যেতে পারে এই মাছ খেলে, সে জন্য যাদের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা আছে তাদের এ বিষয়ে সতর্ক হয়ে মাছ খাওয়া উচিত। 

নাহিদা আহমেদ, পুষ্টিবিদ

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh