দেশি ফল কেন খাবেন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৫৬ এএম | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২৩ এএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

গ্রীষ্মের বৈচিত্র্যপূর্ণ আর রসালো সব মৌসুমি ফল এখনও বাজার দখল করে আছে। কাঁঠাল, লিচু, আম, জাম, তরমুজ, জামরুল, লটকন, ডেউয়া, গাব, আতাফল, কাউফল, আনারস ইত্যাদি ফলের দেখা মিলছে বাজারে। এগুলো খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনই উপকারী। সব মিলিয়ে এই ফলগুলো শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও বেশ সহায়ক। 

আম
মৌসুমি ফলের মধ্যে আম হলো প্রধান। কাঁচা আম থেকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। জ্বর, সর্দি-কাশি এড়াতে কাঁচা আমের জুড়ি নেই। অন্যদিকে স্বাদ ও পুষ্টিগুণের দিক থেকে পাকা আমের তুলনা হয় না। পাকা আমে রয়েছে প্রচুর ক্যারোটিন। এটি যকৃতের জন্য খুব উপকারী।

লিচু
লিচুর রসালো অংশটি তৃষ্ণা মেটাতে সহায়ক। কাশি, পেটে ব্যথা দূর করতেও এর জুড়ি নেই। তবে গ্যাস্ট্রিকের রোগীর এই ফল না খাওয়াটাই ভালো।

জাম
কালো জামের অ্যান্থোসায়ানিন হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। পটাশিয়াম উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো ফ্রি-রেডিক্যাল কমিয়ে ত্বকের টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। জামের খনিজ লবণ হাড়কে শক্তিশালী ও মজবুত করতে সাহায্য করে। শর্করা কম থাকায় ও খাদ্য–আঁশের উপস্থিতির কারণে কালো জাম খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ কারণে ডায়াবেটিস রোগীরা প্রতিদিনই কালো জাম খেতে পারেন।

কাঁঠাল
রসালো ও সুমিষ্ট স্বাদের ক্যারোটিন সমৃদ্ধ এই ফলে শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম আছে। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও বি ভিটামিনেরও ভালো উৎস এটি। কাঁঠালের বীজ ও কাঁচা কাঁঠালে রয়েছে যথেষ্ট প্রোটিন, ক্যালরি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি ও খাদ্য–আঁশ। কাঁঠালের ফাইটোকেমিক্যালসগুলো ফ্রি-রেডিক্যাল দূর করে কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। ফলে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ ছাড়া এর ভিটামিন সি সর্দি-কাশি প্রতিহত করে, খাদ্য-আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

বাঙ্গি
রসালো ফল বাঙ্গির পুরোটাই জলীয় অংশে ভরপুর। ভিটামিন সি, শর্করা ও সামান্য ক্যারোটিন রয়েছে এই ফলে।

তরমুজ
তরমুজে আছে লাইকোপেন, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পানি। অতিরিক্ত ঘাম এবং তৃষ্ণা দূর করতে তরমুজের রস খুবই কার্যকরী। এই রস খেলে অল্পতেই ক্লান্তি দূর হয়।

আনারস
যারা জ্বরে ভুগছেন তারা নিয়মিত আনারসের রস খেতে পারেন। সুস্বাদু ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল আনারস। সর্দি-কাশিতেও আনারস খেলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া কৃমি সারাতে আনারস খুবই কার্যকরী।

পেঁপে
পেঁপে প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। পেঁপেতে আছে প্যাপাইন। কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে পাকা পেঁপে খুব কার্যকর। কাঁচা পেঁপে ডায়রিয়া ও জন্ডিস সারায়। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে জুস করে খাওয়া যায়।

জামরুল
রসালো ও হালকা মিষ্টি জামরুল গ্রীষ্মের অন্যতম ফল। এটি ভিটামিন বি২ সমৃদ্ধ ফল। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি খুবই উপকারী।

কলা
কলা প্রায় সব মৌসুমেই পাওয়া যায়। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি করে কলা অবশ্যই থাকা উচিত। এনার্জি বাড়াতে কলার জুড়ি নেই। তাই খুব বেশি ওজন কমে গেলে বা শরীর দুর্বল হয়ে পড়লে চিকিৎসকেরা কলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এতে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম হাড় শক্ত রাখে। কলায় থাকে পেকটিন নামক একটি ফাইবার, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। বাচ্চাদের প্রথম সলিড খাওয়ানোর সময় অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান যে কী ফল দেয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে কলা। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন। পেট পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি হজমেও সাহায্য করে কলা। একটি কলায় থাকে ৩ গ্রাম ফাইবার, যা খুব তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায়। টামিন-মিনারেলের মতো বহু গুণসমৃদ্ধ কলায় রয়েছে ক্যারোটিনয়েডের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও।

পানিফল
পানিফল আরেকটি পুষ্টিকর ফল। এতে শতকরা ৪.৭ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এ ছাড়া রয়েছে শ্বেতসার, খনিজ লবণের মধ্যে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ইত্যাদি। ক্যালরিও অনেক এই ফলে। কাঁচা এবং সেদ্ধ, দুভাবেই খাওয়া যায়। পানিফল পেটের রোগ নিরাময় করে। ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে করতে সাহায্য করে, দুর্বল শরীরকে বল দেয়, যকৃতের প্রদাহনাশক অর্থাৎ লিভারের ইনফ্লামেশন নিরাময় করে, হাত-পা ফোলা ঠিক করে। এ ছাড়া পানিফল ঋতুর আধিক্যজনিত সমস্যা ঠিক করতে খুবই উপকারী। এমনকি এতে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধের গুণও।

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh