যে শহরের বাসিন্দাদের বাহন উড়োজাহাজ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৬ এএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

শহরের নাম ক্যামেরন পার্ক। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এই শহরে যারা থাকেন, তারা অফিস যান প্লেনে চড়ে। এমনকি সপ্তাহান্তের ছুটি কাটাতেও বেড়িয়ে পড়েন প্লেন নিয়েই।

সরকারি নথিতে অবশ্য ক্যামেরন পার্ক শহর নয়। আদতে একটি ফ্লাই ইন রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিটি। এই ধরনের কমিউনিটি মূলত বিমানেই গড়ে ওঠে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিমান অকেজো হয়ে পড়েছিল। একইসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত বিমানচালকের সংখ্যাও বাড়ছিল। সংখ্যাটি ১৯৩৯ সালে ৩৪ হাজার থেকে বেড়ে ১৯৪৬-এ চার লাখে গিয়ে ঠেকে।

যুদ্ধে অংশ নেওয়া সেই অবসরপ্রাপ্ত বিমানচালকদের আরামের অবসর দিতেই ফ্লাই ইন রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ ঠিক করেন অকেজো বিমানগুলোতেই অবসরপ্রাপ্ত বিমানচালকদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। চেনা পরিচিত পরিবেশে থাকতে বিমানচালকদের ভালো লাগবে, এই ধারণা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

১৯৬৩ সালে সেই ভাবনা থেকেই তৈরি ক্যামেরন পার্ক। এক সময়ে নাম ছিল ক্যামেরন পার্ক এয়ারপোর্ট। সেই নাম বদলে হয় ক্যামেরন পার্ক এয়ারপার্ক। শহরের প্রতিটি পরিবারেরই কোনো না কোনো সদস্য এক সময় বিমানচালক ছিলেন।

বিশ্বে এমন ফ্লাই-ইন-কমিউনিটি রয়েছে ৬৪০টি। তার মধ্যে ৬১০টিই আমেরিকায়। তবে বৈশিষ্ট্যে ক্যামেরন পার্ক তার মধ্যে সবচেয়ে নিখুঁত বলে মনে করা হয়।

আর পাঁচটা শহরে বাস-ট্যাক্সি বা ব্যক্তিগত গাড়ি যেভাবে চলে, এ শহরে প্লেনও চলে সেই ভাবে। গাড়ির গ্যারেজের মতোই প্লেন রাখার জায়গা বা হ্যাঙ্গার রয়েছে ঘরে ঘরে।

রাস্তার পাশের সাইনবোর্ডগুলো অনেকটাই নিচু। প্লেনের ডানা লেগে নষ্ট না হয়ে যায়, এ জন্যই অতিরিক্ত সাবধানতা। এমনকি রাস্তার নামও ‘বোয়িং রোড’।

পুরনো আমলের ঐতিহ্যবাহী গাড়ির প্রদর্শনীর প্রচলন আছে বিশ্বের বহু শহরে। ক্যামেরন পার্কে গাড়ির পাশাপাশি প্লেনেরও প্রদর্শনী হয়। বছরে এক দিন রানওয়ে বরাবর সারি করে দাঁড়িয়ে রাখা হয় বিভিন্ন মডেলের বিমান। রানওয়ে ধরে একসঙ্গে সেই সব বিমানের উড্ডয়নের দৃশ্যও দেখার মতো।

হাতে গোনা ১২৪টি বাড়ি রয়েছে এই শহরে। তার মধ্যে ২০টি বাড়ি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। সেই সব বাড়ি স্বস্তায় বিক্রিও দিচ্ছেন মালিকরা। ফেব্রুয়ারি মাসেই এমন একটি বাড়ির বিজ্ঞাপন প্রকাশ্যে আসে। ইন্টারনেটে দেওয়া সেই বিজ্ঞাপনে প্লেনের হ্যাঙ্গার-সহ সেই বাড়িটির দাম চাওয়া হয়েছিল মাত্র ছ’লাখ ৮৫ হাজার ডলার।

তবে ক্যামেরন পার্কের অধিকাংশ বাসিন্দা আরামেই আছেন। ছোট্ট ‘শহর’-এ সুবিধার কমতি নেই। স্কুল, বাজার, হাসপাতাল, এমনকি শপিং মলও রয়েছে। আর যদি কিছু না পাওয়া যায় তাহলেই বা চিন্তা কীসের। প্লেনে চড়ে কাছের শহরে চলে যাওয়া তো কয়েক মিনিটের ব্যাপার মাত্র।

সূত্র: আনন্দবাজার

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh