অসৎ উদ্দেশ্যেই আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন কামরুন্নাহার : আপিল বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২১, ১১:২৩ এএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

স্থগিতাদেশ থাকার পরও মামলার সব নথিকে পাশ কাটিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যেই ধর্ষণ মামলার আসামিকে ঢাকার তৎকালীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার জামিন দিয়েছিলেন উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ গত ২২ নভেম্বর এ রায় দেন। আর গতকাল বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাতে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ছয় পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

রায়ে বলা হয়েছে, স্থগিতাদেশ থাকার পরও অসৎ উদ্দেশ্য ধর্ষণ মামলার আসামি আসলাম শিকদারকে জামিন দিয়েছিলেন বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার। তাই সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ মোতাবেক, ফৌজদারি মামলায় তার বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাই এখন থেকে তিনি আর দেশের কোনও কোর্টে ফৌজদারি মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না। 

মামলার ঘটনা পর্যালোচনার শেষে রায়ের একটি অংশে মোছা. কামরুন্নাহার কোনও ফৌজদারি মামলা পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় পাঁচ আসামির সবাইকে খালাসের রায়ে ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কামরুন্নাহারের এখতিয়ারবহির্ভূত পর্যবেক্ষণ বিতর্কের জন্ম দেয়।

মৌখিক ওই পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, ধর্ষণের অভিযোগের ক্ষেত্রে ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর পুলিশ যেন মামলা না নেয়। তবে লিখিত রায়ে সে বিষয়টি তিনি রাখেননি।   

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত ১৪ নভেম্বর কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতাসাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে তাকে আর আদালতে না বসার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। আদালত থেকে প্রত্যাহার করে তাকে পাঠানো হয়েছিল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে।

তখন জানা যায়, স্থগিতাদেশ থাকার পরও হাতিরঝিল থানার ২০১৮ সালের এক ধর্ষণের মামলায় আসলাম শিকদার নামের এক আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন বিচারক কামরুন্নাহার। কোন এখতিয়ার বা ক্ষমতাবলে ওই আসামিকে তিনি জামিন দিয়েছিলেন, সে ব্যাখ্যাও জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে।

এর পর কামরুন্নাহারের বিষয়টি গত সপ্তাহে আপিল বিভাগে উঠলে ২২ নভেম্বর তিনি সর্বোচ্চ আদালতে সামনে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেন। সেখানে তিনি বলেন, আসলাম শিকদারের জামিন যে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেছে, তা তিনি জানতেন না।

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh