খালেদা জিয়ার চিকিৎসা

বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনতে চায় না বিএনপি: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৪৯ পিএম

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ছবি

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ছবি

বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বললেও বিএনপি পদক্ষেপ নেয় না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ‘বিদেশ হতে চিকিৎসক আনতে আমরা বলেছি। কিন্তু তারা সেটা নিয়ে চিন্তা করছে না। কোনো পদক্ষেপও নিচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির দলীয় সংসদ হারুনুর রশিদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি একাধিকবার সংসদ নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। আমি বলেছি, আজকে উনার (খালেদা জিয়া) শারীরিক যে অবস্থা, উনাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার অনুমতি দিতে অসুবিধা কোথায়? আপনি তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগটি দিন। এতে আপনি সম্মানিত হবেন। দেশের মানুষ আপনাকে অবশ্যই সম্মান করবে। তার (খালেদা জিয়া) যে বয়স, তার যে অবস্থা—এই অবস্থায় তাকে এইটা বিবেচনা করা উচিত।’

এর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিএনপির সকলেই বলে, ‘আমাদের নেত্রীকে এখনই বিদেশে পাঠাতে হবে।’ আর উনার চিকিৎসা করাতে হবে বিদেশে। আমাদের দেশের চিকিৎসা খুব খারাপ। বিএনপি নেতা খালেদা জিয়া তিন তিনবার হাসপাতালে গেছেন। সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। আমরা বলেছি, বিদেশ থেকে যদি ডাক্তার আনতে হয়, আনেন। সেই লাইনে কোনোদিন হাটবে না। সেই কথা চিন্তাও করবে না। সে বিষয়ে পদক্ষেপও নেবে না। শুধু বলবে—বিদেশ পাঠিয়ে দিতে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ সাহেব বলেছেন, বাঙালি খালি বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ছুটে চলে যান। ওনারা তো ২৬ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। আমি বলব—সেবা করেন নাই, শাসন করেছেন। ওনারা কি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৈরি করেছেন? যেটা থেকে মানুষ বিদেশে গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা নেবে না কেন? এখনও বাংলার গরিব জনগণ চায়—ঢাকা মেডিকেল কলেজে বা বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের চিকিৎসা হয়। কারণ, তারা কম খরচে ও বিনা পয়সায় চিকিৎসা পায়। উনারা তো দেখেন খালি পশ্চিম দিক, কাবা শরীফের পরে আর আমাদের চেয়ে আগে। ওই জায়গার মধ্যে উনারা ন্যস্ত। সেটা থেকে বের হতে পারছেন না।’

১৯৯৬ সালের পর আওয়ামী লীগর ক্ষমতা গ্রহণকে সোনালী অধ্যায় বলে দাবি করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতা নিয়ে আইনের শাসন চালু করে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু করে। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘একটা উন্নয়ন সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যায় না। এটা ভাঙা সুটকেস থেকে আলাউদ্দিনের চেরাগ নয় যে, কোকো জাহাজ হয়ে যাবে। এটা করতে হলে প্রথম ভৌত অবকাঠামো দাঁড় করাতে হয়। এই ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী সেটা করেছেন। এটার ফল আগামী ১২ বছরে দেখবেন।’

বিএনপি নেতা হারুনের এই বক্তব্য প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘একজন সংসদ যদি আরপিওটা না পড়ে আসেন। ওরা কীভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেন। আরপিওতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী বিধান আছে। সেটা কেমন করে হয়, যখন নির্বাচনের শিডিউল হয়, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত যদি কোনো প্রতিযোগী না থাকে। তাহলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হয়। এটা আইনে আছে। উনাকে আমার এইটা দেখাতে হবে— এটাতো আমার জানা ছিল না। উনাকে আমি বলি, আপনি আইনটা দেখেন, আইনে যদি আছে দেখেন। তাহলে এটা আর বলিয়েন না। আমি জানি, এটা জানি এটা আছে। তাই বেআইনি কোনো কথা এখানে বলিয়েন না।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরের পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূ-লুণ্ঠিত করেছিল তারা। এটাকে তারা বলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা। আর ছেঁড়া গেঞ্জি হয়ে যায় ড্যান্ডি ডাইংসহ বড় বড় শিল্প কারখানা। আর ভাঙা সুটকেস থেকে বের হয়ে আসে কোকো জাহাজ। কৃষক সার চাইতে গেলে বন্দুকের গুলি নামে গণতন্ত্রে। অন্ধকার অধ্যায়ের অন্যতম বৈশিষ্ট ছিল বঙ্গবন্ধুর আইনের শাসনকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা এবং বন্দুকের নলের মাধ্যমে দেশ শাসন করা।’

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh