মুসলিম বলেই আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে : ব্রিটিশ এমপি

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৫২ এএম | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৫৪ এএম

 নুসরাত গনি

নুসরাত গনি

যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম নারী মন্ত্রী ছিলেন নুসরাত গনি। তিনি পরিবহণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। 

নুসরাতের দাবি, তিনি মুসলিম হওয়ায় তাকে নিয়ে অস্বস্তি বোধ করতেন কনজারভেটিভ পার্টির সহকর্মীরা। সেই কারণেই তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়েছিল। উপমন্ত্রীর পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করার সময় সরকারি দলের একজন হুইপ তার ধর্মবিশ্বাসের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত প্রভাবশালী সংবাদপত্র সানডে টাইমস বলেছে, নুসরাত যখন তার অপসারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা চান তখন তাকে জানানো হয়েছিল তিনি যে একজন মুসলমান সেটা একটা ইস্যু হিসেবে তোলা হয়েছিল।

এরপর শাসকদল কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান হুইপ মার্ক স্পেনসার জানিয়েছেন, নুসরাত তার কথাই বলেছেন। তবে তার অভিযোগটি মিথ্যা ও মানহানিকর।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাদিম জাহাওয়ি বলছেন, এই অভিযোগটি তদন্ত করে দেখতে হবে।

ব্রিটেনের আইন অনুযায়ী ধর্মবিশ্বাসের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে বৈষম্য করা বেআইনি।

নুসরাত ২০১৮ সালে পরিবহন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী নিযুক্ত হন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে মন্ত্রিসভায় ছোটখাটো রদবদল ঘটালে তাকে বাদ দেয়া হয়।

সানডে টাইমস বলেছে, নুসরাত যখন তার অপসারণের বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা জানতে চান - তখন সরকারি দলের একজন হুইপ তাকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনার সময় তিনি যে মুসলমান সেটা একটা ইস্যু হিসেবে আসে এবং তিনি যে একজন মুসলমান নারী ... সেটা নিয়ে অনেক সহকর্মীর অস্বস্তি ছিল।’

নুসরাতকে উদ্ধৃত করে সানডে টাইমসের খবরে আরও বলা হয়, তিনি এ বিষয়টি নিয়ে আর কোনও কথা বলেননি। কারণ ‘তাকে বলা হয়- এ বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করলে তাকে একঘরে করা হবে এবং তার কেরিয়ার ও সম্মান ধ্বংস হয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের দফতর এ নিয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও প্রধান হুইপ স্পেনসার টুইটারে দাবি করেন, নুসরাত আসলে তার দিকেই ইঙ্গিত করছেন। 

তিনি লিখেছেন, এই সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অবমাননাকর। যে সব কথা আমার মুখে বসানো হচ্ছে, তা বলিনি।

বস্তুত, কনজ়ারভেটিভ পার্টির বিরুদ্ধে আগেও ‘ইসলাম ভীতি’র অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, জনসন নিজেই একবার বোরখা পরা নারীদের লেটারবক্সের সঙ্গে তুলনা করে নিন্দার মুখে পড়েছিলেন। মুসলিম বিদ্বেষী মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চাইতে হয়েছিল তাকে। 

নয়া অস্বস্তির মুখে স্পেনসার দাবি করেছেন, নুসরাতকে তার অভিযোগের বিষয়ে অন্তর্বর্তী তদন্তের কথা বলা হয়েছিল।

এদিকে বিবিসির রাজনৈতিক সংবাদদাতা ডেমিয়েন গ্রামাটিকাস বলছেন, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের জন্য সামনের সপ্তাহটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার আগে কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে এ ধরনের খোলাখুলি অভিযোগ দলের মধ্যে তীব্র টানাপড়েনের ইঙ্গিত।

যদিও কনজারভেটিভদের অন্তর্কলহে শেষ পর্যন্ত পুলিশি তদন্তও এসে পড়বে কি না, সেই প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতিতে ডাউনিং স্ট্রিটে মদের পার্টির আয়োজনের খবর প্রকাশ্যে আসার পরে নিজের দলেও বিপাকে পড়েছেন জনসন। কনজারভেটিভ পার্টির মধ্য থেকেও তার ইস্তফার দাবি উঠছে। - বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকা 

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh