জোড়া খুন : মূল শুটার মাসুম বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২২, ০২:২৯ পিএম | আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২২, ০২:৪৪ পিএম

জোড়া খুনের মূল শুটার মাসুম। ছবি : সংগৃহীত

জোড়া খুনের মূল শুটার মাসুম। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা মূল শুটারের নাম মো. মাসুম ওরফে আকাশ। হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টা পর তাকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আজ রবিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত জোড়া হত্যা মামলার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোয়েন্দা প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফরান প্রীতিকে হত্যায় গ্রেপ্তার মাসুম আরো একাধিক মামলার আসামি। এই হত্যাকাণ্ডে তার সাথে আরো যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। কন্টাক্ট কিলিংয়ের কাজটি পাঁচ দিন আগে পায় মাসুম। তিনদিন আগে নাম পায় কাকে খুন করতে হবে। 

তিনি আরো বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঢাকা শহরে অনেক দিন পর এমন শুটিং মিশনে হত্যা করা হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে। 

হাফিজ আক্তার বলেন, গতকাল শনিবার (২৬ মার্চ) বগুড়া পুলিশের সহযোগিতায় সেখান থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করেন তারা। হত্যার ঘটনার পর জয়পুরহাট পালিয়ে যায় আকাশ। সেদিক দিয়ে সীমান্ত পার হয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ছিল। কিন্তু যেতে না পেরে বগুড়া আসে। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার আগের দিন মাসুম মোটরসাইকেল ও একটি পিস্তল নেয়। শুধু তাই নয়, ঘটনার আগের দিন টিপুকে কমলাপুরে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় সে। আর এ হত্যাকাণ্ডের জন্য টাকা নয়, আগের কয়েকটি মামলা তুলে নেওয়াসহ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চুক্তিতে কিলিং মিশনে নামে মাসুম।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ এলাকায় দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন জাহিদুল ইসলাম টিপু (৫৪)। একই ঘটনায় নিহত হন যানজটে সড়কে আটকে রিকশায় বসে থাকা কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন প্রীতি (২৪)। গুলিতে টিপুর গাড়িচালক মনির হোসেন মুন্নাও আহত হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর গত শুক্রবার (২৫ মার্চ) নিহত টিপুর স্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১১, ১২, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মামলা করেন। মামলা নাম্বার ১৮(৩)২২। অভিযোগে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। অজ্ঞতানামা আসামি হিসেবে অভিযোগ করেন।

এর আগে শাহজাহানপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঠাকুর দাশ জানান, এক থেকে দেড় মিনিটের একটি কিলিং মিশন ছিল এটি। মুহূর্তের মধ্যে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। এতে টিপুর শরীরে অন্তত ১২টি গুলি লেগেছে।

অপরদিকে নিহত কলেজছাত্রীর বাবা মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আমার মেয়ের পিঠের বাঁ পাশে গুলি লেগেছে। তাকে একটা গুলি লাগার ছবি দেখানো হয়েছে।


প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh