অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই ভবন নির্মাণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২২, ০১:৩৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই ভবন নির্মাণ করতে হবে। অগ্নি দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা যেন সহজে ঘটনাস্থলে যেতে পারেন ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত হয় সে কথা বিবেচনায় রেখে ভবন বা আবাসন প্রকল্প সাজানোর অনুরোধ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বসুন্ধরা সিটি শপিংমল গড়ে উঠেছে বিলের ওপর। যখন আগুন লাগলো, তখন সেখানে পানির ব্যবস্থা করা গেলো না। পানি এলো সোনারগাঁও হোটেল থেকে। তাই কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলে আমাদের উদ্ধার তৎপরতার সক্ষমতা কতখানি আছে, সেটি মাথায় রেখেই স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে।

আজ রবিবার (২৪ এপ্রিল) দেশের ২৫টি জেলার বিভিন্ন স্থানে নবনির্মিত ৪০টি ফায়ার স্টেশন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই অনুরোধ জানান। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গণভবন থেকে ওই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, আর্কিটেক্ট, ইঞ্জিনিয়ার- যারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রজেক্ট তৈরি করেন, তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে এমনভাবে প্রকল্প তৈরি করতে হবে যেন ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ সুবিধা থাকে, সে বিষয়টা দেখতে হবে। অর্থাৎ তাদের গাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা যেন থাকে, পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত হয় এবং জলাধারগুলোতে যেন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

ভবন ও আবাসিক প্রকল্প ডিজাইনের সময় অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা কতটা আধুনিক তা যাচাই করার জন্যও অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এখন অনেকেই ৩০-৪০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এমনভাবে প্ল্যান করতে হবে যে আগুন যদি লাগে তাহলে উদ্ধারকাজের সক্ষমতা কতটা থাকবে। সেভাবে পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। 

তিনি আরো বলেন, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, বিনোদনকেন্দ্র, সিনেমা হল, শপিংমল, শিল্প কলকারখানা প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি হাউজিং স্টেটে বৃষ্টির পানি যেন সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকে সেজন্য জলাধার থাকতে হবে। নিজের নিরাপত্তার জন্যই এটা একান্তভাবে দরকার।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, স্কুল-কলেজ, শিল্পকলকারখানা থেকে সবগুলো বিল্ডিংয়ে করণীয় কী হবে তা নিয়ে সবাইকে যেন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। 

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, বক্স কালভার্ট বা জলাধার ভরাট করে ভবন নির্মাণ করা ঠিক না। ওই এলাকা একসময় বিল এলাকা ছিল। যখন ওই বিল্ডিংয়ে আগুন লাগল পানি পাওয়া যায় নাই। হোটেল সোনারগাঁয়ের সুইমিং পুল থেকে পানি আনতে হলো। অনেক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পানি পাওয়া যায় না। আগুন তো আর বসে থাকে না। আগুনের সাথে ফাইট করতে গেলে যে জিনিসগুলো দরকার সেগুলোই যদি পাওয়া না যায় তাহলে ফায়ার ফাইটাররা কাজ করবে কিভাবে? তাদেরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ফায়ার ফাইটারদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বঙ্গবন্ধু ফায়ার একাডেমি প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন ও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো, সাজ্জাদ হোসাইন প্রমুখ।

প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh