মিয়ানমারে ইনসেইন কারাগারে বোমা বিস্ফোরণ, নিহত ৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৩৯ এএম

ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন জেল। ছবি: বিবিসি

ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন জেল। ছবি: বিবিসি

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনের সমালোচিত ইনসেইন কারাগারে বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে আট জন নিহত ও ১৮ জন আহত হয়েছেন।

গতকাল বুধবার (১৯ অক্টোবর) এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার সকালে দুটো পার্সেল বোমা ওই কারাগারের প্রবেশপথে বিস্ফোরিত হয়। এতে কারাগারটির তিনজন কর্মকর্তা ও পাঁচজন দর্শনার্থী মারা যান।

ইনসেইন কারাগারটি দেশটির সবচেয়ে বড় কারাগার। এখানে প্রায় দশ হাজারের মতো বন্দি আছে। এদের অনেকেই মূলত রাজনৈতিক বন্দী।

কোনো গোষ্ঠীই এ হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। এতে কমপক্ষে ১৮ জন আহত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, কারাগারটির পোস্ট রুমে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। তবে আরেকটি বোমা বিস্ফোরিত হয়নি এবং সেটিকে একটি প্লাস্টিক ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে।

যে পাঁচজন দর্শনার্থী মারা গেছে, তারা সবাই নারী এবং কারাগারে থাকা বন্দিদের স্বজন।

এরমধ্যে একজন দেশটির ছাত্রনেতাদের একজন লিন টেট নেইং ওরফে জেমস-এর মা। তিনি আদালতে শুনানির দিনে তার ছেলের জন্য একটি বক্সে করে ভাত নিয়ে গিয়েছিলেন।

শতবর্ষী পুরনো এই কারাগারটি মূলত কঠোর পরিস্থিতি ও বন্দীদের সাথে অমানবিক আচরণের জন্য কুখ্যাত বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

এদিকে সামরিক সরকার দেশের বড় অংশেই প্রতিরোধের মুখোমুখি হচ্ছে, বিশেষ করে যেখানে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স বা পিডিএফের গেরিলারা সক্রিয়।

ইয়াঙ্গুনে প্রায়ই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে গত বছর অভ্যুত্থান বিরোধী গণবিক্ষোভ দমনের পর থেকেই ছোটো ছোটো বোমা বিস্ফোরণ দেখা যাচ্ছে।

এগুলোর লক্ষ্যবস্তু থাকে সাধারণত জান্তা সরকারকে সহায়তা করছে এমন ব্যক্তিরা, যেমন-সরকারি কর্মকর্তা, কথিত সোর্স ও সাম্প্রতিককালে গ্রামগুলোতে বিমান হামলার সাথে জড়িত পাইলটরা।

এছাড়া গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনাও ঘটে দেশটিতে। পর্যবেক্ষকরা রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পাশাপাশি এসব ঘটনাকে গৃহযুদ্ধের লক্ষণ হিসেবে মনে করেন।

সূত্র: বিবিসি

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh