মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে জেলেরা

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৩, ১২:২১ পিএম

নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়ে দিনমজুর সাধারণ জেলে। ছবি: প্রতিনিধি

নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়ে দিনমজুর সাধারণ জেলে। ছবি: প্রতিনিধি

মা-ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা ও সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণে গত শুক্রবার (১৯ মে) মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা। আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে এই নিষেধাজ্ঞা। ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে নদী থেকে জাল উঠিয়ে তীরে ফিরেছেন জেলেরা।

এই নিষেধাজ্ঞায় বোট মালিকেরা নিজেদের ক্ষতি পুষিয়ে টিকে থাকতে পারলেও কর্মহীন হয়ে পড়ে দিনমজুর সাধারণ জেলে। এছাড়া অন্য কোনো কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় রুটিরুজির জন্য সমুদ্রের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হয় এসব জেলেদের।

সরেজমিনে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর, ইন্দুরকানী বাজার, চন্ডিপুর বাজার ও ভান্ডারিয়া উপজেলার চরখালি ফারিঘাট বাজারে কিছুদিন আগেও জেলে আর ক্রেতার হাঁক-ডাকে সরব ছিল, ইলিশের নিষেধাজ্ঞায় সে জায়গাগুলো এখন নীরব হয়ে আছে। সাগর থেকে তুলে মাছ ধরার সব ট্রলার এবং সাম্পানগুলো সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে উপকূলে।

মাছ ধরার এই দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞায় নিজেদের দুর্দশার কথা সাম্প্রতিক দেশকালকে জানালেন উপজেলার কালাইয়া গ্রামের রমিজ মাজি, জাহাঙ্গীর মাজি, শহিদুল মাজি, বিশ্বনাথ মন্ডল, মো: হেমায়েত মোল্লা, আ: বারেকসহ উপজেলার আরও একাধিক জেলে।

তারা বলেন, এই দীর্ঘদিনের অবরোধে আমরা বেকার অবস্থায় আছি। সরকার অল্প কিছু চাল দেয় এতে ৪/৫জন ছেলে-মেয়েসহ পরিবারে ৬/৭জন সদস্য নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করতে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যাই। বন্যায় কয়েকবার টলারে ক্ষতি হয়েছে কিন্তু কোনো সাহায্য পাইনি। সরকারের কাছে আমরা সাহায্যের আবেদন করছি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তপন কুমার বেপারী বলেন, ৬৫ দিনে সমুদ্রে মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষেধ। তারই আলকে সকল প্রকার যান্ত্রিক নৌযান দিয়ে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষেধ রয়েছে। তবে উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীতে বৈধ ঝাল দিয়ে মাছ ধরতে পারবে। নিবন্ধিত নৌযান গুলো যার যার ঘাটে অবস্থান করছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে কিছু জেলে চাল পেয়েছে এবং বাকিরাও অল্প কিছুদিনের মধ্যে চাল পাবে। ২৩ জুলাইয়ের পরে পুনরায় সমুদ্রে মাছ ধরতে পারবে বলেও জানান এ মৎস্য কর্মকর্তা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh