বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মারধর, চার আনসার বরখাস্ত

বরিশাল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৩, ০৮:৫৭ পিএম | আপডেট: ১৯ জুন ২০২৩, ০৮:৫৮ পিএম

শেবাচিম হাসপাতাল

শেবাচিম হাসপাতাল

শেবাচিম হাসপাতালের বহির্বিভাগে মাকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আনসারদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শিক্ষার্থী। এর প্রতিবাদে হাসপাতালে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আজ সোমবার (১৯ জুন) সকাল ১১টায় হাসপাতালের নিচতলায় এই ঘটনার সাথে জড়িত চার আনসার সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে আনসার কর্তৃপক্ষ।

বরখাস্ত হওয়া আনসার সদস্যরা হলেন- হেমায়েত উদ্দিন, শা‌কিল, হানিফ ও রিয়াজ। তাদেরকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল জেলা আনসার কমান্ডার বাসুদেব ঘোষ।

তিনি জানান, ঘটনার পর পর সিসি টিভি ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক চার আনসার সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে রোগীর ছেলে অর্থাৎ ববি শিক্ষার্থীকে কলার টেনে ধরে নিয়ে মারধর করেছে আনসার সদস্যরা। বিষয়টি দুঃখজনক। তাই ওই চার আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি ৩ মাস পর পর আনসার সদস্য পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেবাচিম হাসপাতালের আনসার কমান্ডার মোশারেফ হোসেন বলেন, হাসপাতালে বহিঃর্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য টিকেট সংগ্রহ করতে এক নারী এসে লাইনে দাঁড়ান। কিছুক্ষণ পর সেই নারী সারিবদ্ধ লাইন থেকে বেরিয়ে ফ্যানের নিচে গিয়ে অবস্থান করে। তখন আনসার হেমায়েত তাকে লাইনে দাঁড়াতে বলেন। এ নিয়ে নারীর সাথে আনসার হেমায়েতের তর্ক হয়।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের পাশে থাকা ওই নারীর ছেলে এসে আনসার হেমায়েতের সঙ্গে তর্ক ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। এ দৃশ্য দেখে ওই নারী হেমায়েতকে জুতা দিয়ে পেটানো শুরু করে। তখন অন্য আনসার সদস্য শা‌কিল, হানিফ ও রিয়াজ এসে ওই ছাত্রকে ধরে পরিচালকের কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর সে নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র পরিচয় দেয়।

কমান্ডার মোশারেফ হোসেন আরো বলেন, এই ঘটনার খবরে ববির শিক্ষার্থীরা আনসার সদস্যদের বিচার দাবিতে হাসপাতালে বিক্ষোভ শুরু করে। তখন হাসপাতালের পরিচালক, মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) ফজলুল হক, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভাগীয় পরিচালক আশরাফুল আলম ও জেলা কমান্ডার বাসুদেব ঘোষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

ঘটনার শিকার ববির রসায়ন বিভা‌গের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শান্ত বলেন, ঘটনার সমাধান হয়েছে। আমরা সন্তুষ্ট। এ নিয়ে আমাদের আর কোন অভিযোগ নেই।

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh