লিবিয়ায় বন্যা:

মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়াতে পারে – দারনার মেয়র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৪:২৪ পিএম

ছবি: আল-জাজিরা

ছবি: আল-জাজিরা

লিবিয়ায় স্মরণকালের ইতিহাসের ভয়াবহ বন্যায় দেশটির পূর্বাঞ্চলের পাহাড় ঘেরা দারনা শহর। প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে বাঁধ ভেঙে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এ শহরের ভৌত অবকাঠামো। শহরের বাসিন্দারা জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রক্ষা বাঁধ ভেঙে শহরে ঢুকে পড়া পানিতে ভেসে গেছে হাজার হাজার মানুষ। এখন আত্মীয়-স্বজনরা তাদের মরদেহ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। এসময় পঁচন ধরে যাওয়া এসব মরদেহের জন্য বডি ব্যাগ দেওয়ার আকুতিও জানান তারা। 

এর আগে গত রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে লিবিয়ায় দারনায় সৃষ্ট ওই ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে লিবিয়া সরকার। 

এদিকে দারনার মেয়র আব্দুল মেনাম আল-ঘাইতি আল আরাবিয়াকে জানান, সুনামি সদৃশ এই বন্যায় যেসব এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে ধারণা করা যাচ্ছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ থেকে ২০ হাজার হতে পারে। এ বন্যায় মেয়র তার মা ও ভাইকে হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম এটি সাধারণ একটি ঝড় ও বৃষ্টি। কিন্তু যখন বাঁধ ভেঙে শহরে পানি চলে আসে তখন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে ছেলেকে নিয়ে রাস্তায় নেমে আসি। আর ঠিক তখনই বন্যার পানিতে আমার মা ও বোন ভেসে যান।  

গত মঙ্গলবার দারনা থেকে মাবরুকা এলমেসমারি নামের এক সাংবাদিক পালিয়ে আসার অভিজ্ঞতা জানান গণমাধ্যমকে। তিনি বলেন, শহরটির অবস্থা বেশ ভয়াবহ। অনেক মানুষ দারনা ছাড়তে চাইলেও পারছেন না। কারণ শহর থেকে বের হওয়ার রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে বা নির্গমন পথ বন্ধ হয়ে রয়েছে। 

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে উপকুলের সৈকতে বন্যার পানিতে ভেসে আসা  কাপড়, খেলনা, আসবাবপত্র ও জুতা-স্যান্ডেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে শহরটির রাস্তা পুরু কাদার মাঝে ডুবে রয়েছে, যেখানে উল্টেপড়া গাছপালা, বিধ্বস্ত গাড়ী ও অন্যান্য সরঞ্জাম বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় । 

এদিকে মিসর, তিউনিসিয়া. সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও কাতারের ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলগুলো দারনায় এসে পৌঁছেছে। কাতারের সহযোগিতায় ফিল্ড হাসপাতালও স্থাপন করা হয়েছে। কাতার তিনটি সামরিক বিমানযোগে লিবিয়ায় এসব ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট তারেক আল-খারজ বুধবার এএফপি বার্তা সংস্থাকে বলেন, ভূমধ্যসাগরীয় শহরে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৪০ জন মারা গেছেন যাদের মধ্যে ৩ হাজার ১৯০ জনকে ইতিমধ্যে সমাহিত করা হয়েছে। যাদের মধ্যে কমপক্ষে ৪০০ বিদেশী ছিলেন যাদের বেশিরভাগই সুদান এবং মিশরের নাগরিক ছিলেন।

এদিকে, পূর্ব লিবিয়া প্রশাসনের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী হিচেম আবু চকিউয়াত রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মৃতের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে।  অন্যদিকে দেশটির কর্মকর্তারা নিখোঁজের সংখ্যা ১০ হাজার বলে জানিয়েছেন। তবে জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে এ সংখ্যা ৫ হাজার।

আল জাজিরার চার্লস স্ট্র্যাটফোর্ড, বেনগাজি থেকে জানান, কাতারের সহায়তায় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, খাবার, তাঁবু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সমস্ত সাহায্য যত দ্রুত সম্ভব দেরনায় নিয়ে যাওয়া হবে।

এদিকে ৭ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশটিতে গভীর রাজনৈতিক সংকটের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকর্মীরা। 

উল্লেখ্য, ২০১১  সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ন্যাটো-সমর্থিত বিদ্রোহ গোষ্ঠী ক্ষমতাচ্যুত করার৫ পর থেকেই দেশটিতে অস্থিরতা বিরাজমান রয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘Government of National Unity (GNU)’ নামে একটি জাতীয় সরকারের অধীনে দেশটির সরকার ব্যবস্থা কাজ করছে। 

সূত্র : আল-জাজির, টিআরটি ওয়ার্ল্ড



সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh