বিশ্বকাপ ক্রিকেট দল পরিচিতি: ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৩, ১১:১৫ এএম

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। ছবি: সংগৃহীত

অংশগ্রহণ: ১৩ বার
সেরা সাফল্য: ১ বার চ্যাম্পিয়ন (২০১৯ সালে)
মোট ম্যাচ: ৮৩
জয়: ৪৮
হার: ৩২
টাই: ২
নো রেজাল্ট: ১

২০১৯ সালের চ্যাম্পিয়ন ভারতের মাটিতে পা রাখছে বিশ্বকাপ মুকুট ধরে রাখার লক্ষ্যে। ইংল্যান্ডের বড় পাওয়া বেন স্টোকসের প্রত্যাবর্তন। ২০২২ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন ইংলিশ অল রাউন্ডার। গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন স্টোকস। আবার ফিরে বিশ্বকাপের আগে নিজেকে ঝালিয়ে নিয়েছেন নিউজিল্যান্ড সিরিজে। তৃতীয় ম্যাচে করেছেন ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ইতিহাসের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৮২ রান। এক দিনের ফরম্যাটে ৩১৫৯ রানের সঙ্গে ৭৪ উইকেটের মালিক স্টোকসের সাম্প্রতিক ফর্ম কেড়ে নিতে পারে প্রতিপক্ষের ঘুম । 

দীর্ঘদিন পর নিউজিল্যান্ড সিরিজে ফেরা জনি বেয়ারস্টোকে রাখা হয়েছে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। ওপেনার জেসন রয়কে প্রথমে দলে নিয়েও পরে তাকে বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছে ইংলিশরা। চলতি বছর ৬ ওয়ানডে খেলে দুটি সেঞ্চুরি করা রয়কে রিজার্ভ খেলোয়াড় হিসেবে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার জায়গায় মূল স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে আলোচিত ব্যাটার হ্যারি ব্রুককে। নিউজিল্যান্ড সিরিজে ডেভিড মালান ৩ ম্যাচে ৯২.৩৩ গড়ে ২৭৭ রান করে সিরিজসেরা হয়েছেন। তিনিই হয়তো বিশ্বকাপে বেয়ারস্টোর সঙ্গে ওপেন করবেন। জশ বাটলারের অধিনায়কত্বে পুরোনো সৈনিক জো রুট, ক্রিস ওকস, অল-রাউন্ডার লিভিং লিয়ামস্টোনরাও বড় ভরসা। স্পিন বোলিং সামলাবেন দুই অভিজ্ঞ স্পিনার আদিল রশিদ ও মঈন আলি। চোটের কারণে পেসার জোফরা আর্চারকে না পাওয়াটা ইংল্যান্ডের জন্য বড় একটা ধাক্কা। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ১১ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সেরা বোলার ছিলেন জোফরা আর্চার। বিগত কয়েক মাস ধরেই চোটে ভুগছেন তিনি। মিস করেছেন অ্যাশেজ সিরিজ, নিউজিল্যান্ড সিরিজ। ইংলিশ নির্বাচকরা তাকে পাওয়ার আশায় রাখছে রিজার্ভ-বেঞ্জে। এই আশায় যে, যদি টুর্নামেন্টের শেষের দিকে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। জোফরার অনুপস্থিতিতে ইংল্যান্ডের পেস অ্যাটাকে আছেন মার্ক উড, ডেভিড উইলি, স্যাম কারেন, নবাগত গাস অ্যাটকিনসন ও রিস টপলি। আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের পঞ্চমস্থানে থাকা ইংল্যান্ড ১৩তম ওয়ানডে বিশ্বকাপের ‘টপ ফেভারিট’দের একটি। যদিও ২০২৩ সালে ইংলিশরা খুব বেশি এক দিনের ম্যাচ খেলেনি।

বিশ্বকাপে বিগত আসরে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাড়তি চাপে থাকবেন জস বাটলার। পূর্বসূরি ইয়ান মরগানের সাফল্য ধরে রাখার বাড়তি চাপ আছে। প্রত্যাশার চাপ সামলাবেন কী করে ইংলিশ অধিনায়ক? বাটলার বলেছেন, দেখুন আমরা খেতাব ধরে রাখার মানসিকতা নিয়ে ভারতে যাব না। আমরা বিশ্বকাপ জেতার চেষ্টা করব। সব দলই এক জায়গা থেকে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। প্রতিযোগিতার শুরুতে সবাই সমান। আমরাও আলাদা নই।

দলীয় সর্বোচ্চ: ৩৯৭/৬, আফগানিস্তানের বিপক্ষে, ম্যানচেস্টারে, ২০১৯ বিশ্বকাপ
দলীয় সর্বনিম্ন:  ৯৩, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, হেডিংলিতে, ১৯৭৫ বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপ দল: জস বাটলার,  (অধিনায়ক/উইকেটকিপার), গাস অ্যাটকিনসন,  জনি বেয়ারস্টো, স্যাম কারেন, লিয়াম লিভিংস্টোন, দাভিদ মালান, আদিল রশিদ, জো রুট, হ্যারি ব্রুক, বেন স্টোকস, রিস টপলি, ডেভিড উইলি মার্ক উড ও ক্রিস ওকস।

ব্যক্তিগত সেরা ব্যাটিং: অ্যান্ড্রু স্ট্রস, ১৫৮

ইংলিশ ওপেনার বিশ্বকাপের ইতিহাসে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান করার কীর্তিটা গড়েছেন ২০১১ আসরে, বেঙ্গালুরুতে, স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে। প্রথমে ব্যাট করে শচীন টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরিতে চড়ে ভারত করে ৩৩৮ রান। জবাবে স্ট্রসের ১৪৫ বলে ১৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংসের পরও তার দল ইংল্যান্ড ৮ উইকেট হারিয়ে করতে পারে ৩৩৮ রান। ফলে ম্যাচটি টাই হয়। জিততে জিততে টাই হতাশায় পুড়লেও রেকর্ড গড়া ইনিংসের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারটা জিতে নেন স্ট্রস।

ব্যক্তিগত সেরা বোলিং: ভিক্টর জেমস মার্কস, ৫/৩৯

বিশ্বকাপের রেকর্ড বুক মানেই আধুনিক যুগের ক্রিকেটারদের জয়জয়কার। তবে ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ডের পক্ষে বিশ্বকাপের সেরা বোলিং কীর্তিটা এখনো সেই প্রথম দিকের একজনের দখলে। তিনি ভিক্টর জেমস মার্কস। সংক্ষেপে ভিক মার্কস হিসেবেই পরিচত। বর্তমানে ধারাভাষ্যকার ও সাংবাদিকতায় ব্যস্ত ভিক মার্কস ১৯৮৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে ২৮৬ রানে অলআউট করার পথে ৩৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। তার দল ইংল্যান্ড (৩৩৩/৯) ম্যাচটাও জিতেছিল ৩৪৭ রানে। তবে পেস-অলরাউন্ডর ভিক মার্কস নন, সেদিন ম্যাচসেরা হয়েছিলেন তারই সতীর্থ ডেভিড গাওয়ার, ১৩০ রানের ইনিংস খেলার সুবাদে। ভিক মার্কসের পর ইংল্যান্ডের আরও দুজন বোলার ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন। তবে তাদের রান খরচা হয়েছে বেশি।

জস বাটলার
মূলত উইকেটরক্ষক। ব্যাট হাতেও ইংল্যান্ডের মিডল-অর্ডারের বড় ভরসা। এই দুই গুণে গুণান্বিত জস বাটলারের আরও একটা গুণ আছে। অধিনায়কত্বের গুণ। ২০১২ সালে অভিষেক হওয়া বাটলার নিজের এই গুণ প্রথম দেখান ২০১৬ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে, ঢাকায়। তার নেতৃত্বে ইংলিশরা তিন ম্যাচের সিরিজটাও জেতে ২-১-তে। তবে ওই সিরিজের পরই আবার নেতৃত্বে ফেরেন এইউন মরগান। সেই মরগানের অবসরের সুবাদেই বাটলার আবার অধিনায়কত্ব পান ২০২২ সালে। সেই থেকে তার নেতৃত্বেই চলছে ইংলান্ডের ওয়ানডে দল। ভারতের বিশ^কাপেও ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব তার কাঁধেই। এ পর্যন্ত ২৭ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে ১৪টি জয় উপহার দিয়েছেন বাটলার। হেরেছেন ১২টিতে। একটিতে ফল হয়নি। বিশ^কাপে এবারই প্রথম নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। যদিও খেলোয়াড় হিসেবে দুটি বিশ^কাপ খেলেছেন। ২০১৯ সালে পেয়েছেন বিশ^কাপ জয়ের স্বাদও। এবার অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব শিরোপা-মুকুট ধরে রাখার।

ম্যাথু মট
ইংল্যান্ডের বর্তমান প্রধান কোচ ম্যাথু মট। ২০২২ সালের  মে মাসে তাকে দায়িত্ব দেয় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। তবে  তিনি শুধু ইংলিশদের সাদা বলের ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ। ম্যাথু মটের অধীনে ইতোমধ্যে ইংল্যান্ড পেয়েছে  বৈশ্বিক সাফল্য। ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটি থেকে ইংল্যান্ড  জিতে নিয়েছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। 

ম্যাথু মটের বিশ্বকাপ ভাগ্য দুর্দান্ত। ২০২২ সালের শুরুতে তার অধীনে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় নারী ক্রিকেট দল জিতেছে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। অ্যালিসা হিলসদের বিশ্বকাপ জিতিয়ে তিনি অজি নারী দলের দায়িত্ব ছাড়েন। যোগ দেন ইংল্যান্ড পুরুষ  দলের  সীমিত ওভারের ক্রিকেট কোচ হিসেবে। ম্যাথু  মট বিশ্বের একমাত্র কোচ হিসেবে নারী আর পুরুষ দলের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছেন। ইংল্যান্ডর সীমিত ওভার ক্রিকেট দলে ম্যাথু মটের সহকারী হিসেবে আছেন সাবেক স্পিনার রিচার্ড ডসন, ফাস্ট বোলিং কোচ ডেভিড সাকার আর ফিল্ডিং কোচ কার্ল হপকিন্সন।


সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh